তাইওয়ান তুলনায় অফশোর সোলারের শক্তি উৎপাদন বেশি

তাইওয়ানের গবেষকেরা জানিয়েছেন, অফশোর ফ্লোটিং সোলার একটি তুলনীয় গ্রাউন্ড-মাউন্টেড ফটোভোল্টাইক স্থাপনার তুলনায় তার জীবনকালে প্রায় 12% বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা নতুন প্রমাণ দেয় যে স্থলসীমাবদ্ধ এবং উপকূলীয় পরিস্থিতি অনুকূল হলে সামুদ্রিক সোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

pv magazine-এ সংক্ষেপিত এই গবেষণায় চাংবিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের 100 মেগাওয়াট গ্রাউন্ড-মাউন্টেড প্ল্যান্টের সঙ্গে 181 মেগাওয়াটের অফশোর ফ্লোটিং PV সিস্টেমের তুলনা করা হয়েছে। দুই ভিন্ন সিস্টেম কনফিগারেশনের মধ্যে তুলনাকে স্বাভাবিকীকরণ করতে বৃহত্তর অফশোর ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে গবেষকেরা শক্তি উৎপাদন, দক্ষতা এবং পরিবেশগত কর্মক্ষমতা আরও সমমানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে পারেন।

মূল ফলাফলটি সরল: অফশোর সেটআপ তার জীবনকালে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। গবেষকেরা এই লাভকে প্রধানত শীতলীকরণ এবং আন্তঃজোয়ারীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সৌর ব্যবস্থায় কম অপারেটিং তাপমাত্রা মডিউলের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে, এবং সামুদ্রিক পরিবেশ অতিরিক্ত জটিলতা সত্ত্বেও PV অবকাঠামো সমুদ্রের বাইরে স্থাপনের ফলে পর্যাপ্ত তাপীয় সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে হয়।

এই ফলাফল কেন গুরুত্বপূর্ণ

ফ্লোটিং সোলার প্রায়ই ভূমি সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ জলাধারে জল বাষ্পীভবন কমানো, বা কম ব্যবহৃত পৃষ্ঠ কাজে লাগানোর উপায় হিসেবে আলোচিত হয়। অফশোর ফ্লোটিং PV এই যুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে এটি খরচ, স্থায়িত্ব, সামুদ্রিক প্রকৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। জীবনকালের উৎপাদনে মাপযোগ্য সুবিধা দেখানো কোনো ফলাফল এই উদ্বেগগুলো মিটিয়ে দেয় না, তবে এটি শক্তিশালী করে যে অফশোর স্থাপনাগুলিকে কেবল অনুমাননির্ভর ধারণা হিসেবে নয়, বরং গুরুতর প্রযুক্তিগত বিবেচনার যোগ্য হিসেবে দেখা উচিত।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন জায়গায় যেখানে ভূমির ব্যবহার ঘন, শিল্পের চাহিদা প্রতিযোগিতামূলক, অথবা উপকূলীয় ভূপ্রকৃতি সামুদ্রিক শক্তি অবকাঠামোকে সমর্থন করতে পারে। এই কারণেই তাইওয়ান প্রাসঙ্গিক একটি পরীক্ষামূলক পরিবেশ। উচ্চতর আউটপুট প্রোফাইল প্রকল্পের অর্থনীতিতে অর্থবহ প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও প্রাথমিক পুঁজিবিনিয়োগ বেশি হয়।

উৎস পাঠ্যে অফশোর ফ্লোটিং সোলারকে প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবসম্মত বলা হয়েছে, যা কেবল পারফরম্যান্স জয়ের চেয়ে বেশি ব্যবহারিক উপসংহার। কোনো প্রযুক্তি কাগজে ভালো দেখাতে পারে, কিন্তু বাস্তব পরিচালন পরিস্থিতি সহ্য করতে না পারলে তা বাস্তবে ব্যর্থ হতে পারে। এই তুলনার গুরুত্ব হলো এটি একটি কার্যকর প্রকৌশলগত পথের দিকে ইঙ্গিত করছে, যদিও কিছু বড় বাণিজ্যিক বাধা এখনো অমীমাংসিত।

অর্থনীতি এখনো সমাধান হয়নি

গবেষণার আরও সতর্কতামূলক ফল হলো অফশোর কনফিগারেশনটি এখনও প্রায় 30% বেশি ব্যয়বহুল। এটি কোনো ছোট পার্থক্য নয়। এটি ইঙ্গিত করে যে শুধু বেশি শক্তি উৎপাদন অধিকাংশ বাজারে অফশোর ফ্লোটিং PV-কে গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সিস্টেমের সহজ বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে এখনও যথেষ্ট নয়।

খরচের চাপ সম্ভবত উৎস বর্ণনায় থাকা বেশ কয়েকটি পরিচিত চ্যালেঞ্জ প্রতিফলিত করে: স্থায়িত্বের চাহিদা, সামুদ্রিক প্রকৌশলগত প্রয়োজনীয়তা, এবং অফশোর পরিবেশে বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিস্তৃত জটিলতা। লবণজনিত ক্ষয়, কাঠামোগত চাপ, অ্যাঙ্করিং, প্রবেশাধিকার, পরিদর্শন এবং টিকে থাকার সক্ষমতা সবই ভূমিতে একটি প্রচলিত সোলার ফার্মের তুলনায় অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করে।

ফলে, নিকট ভবিষ্যতে অফশোর ফ্লোটিং PV-র যুক্তি সর্বজনীন প্রতিযোগিতার ওপর দাঁড়াবে না। এটি সম্ভবত নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে, যেখানে ভূমি কম, উপকূলীয় স্থাপনায় সুবিধা আছে, এবং উচ্চতর আউটপুটের মূল্য অতিরিক্ত প্রকৌশলগত বোঝাকে ন্যায্যতা দেয়। সেই অর্থে, অফশোর ফ্লোটিং সোলার অনেক শক্তি প্রযুক্তির মতোই বিকশিত হতে পারে: সর্বত্র বিদ্যমান সমাধানকে হারিয়ে নয়, বরং প্রথমে সীমিত, উচ্চ-মূল্যের ক্ষেত্রে জিতে।

শীতলীকরণ এবং আন্তঃজোয়ারীয় প্রভাবই প্রধান সুবিধা

গবেষকেরা অফশোর সিস্টেমের উন্নত জীবনকালের উৎপাদনকে শীতলীকরণ এবং আন্তঃজোয়ারীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শীতলীকরণের ব্যাখ্যা স্বাভাবিক। সৌর মডিউল সাধারণত গরম হলে দক্ষতা হারায়, তাই সামুদ্রিক বায়ুপ্রবাহ এবং নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা একটি স্থাপনা সময়ের সঙ্গে বেশি কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

আন্তঃজোয়ারীয় প্রভাবের উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত করে যে সুবিধাটি শুধু আবহাওয়াজনিত নয়। অফশোর পরিবেশের বিশেষ সাইট-অবস্থা প্যানেলের আচরণ, অপারেটিং তাপমাত্রা, বা সিস্টেমের এক্সপোজারকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যা মোট উৎপাদন উন্নত করে। দেওয়া পাঠ্যে এর গভীরতর প্রক্রিয়া নেই, তাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপসংহার হলো সামুদ্রিক পরিবেশটি গবেষণায় ব্যবহৃত ভূমিভিত্তিক ক্ষেত্রের তুলনায় কর্মক্ষমতার সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে হয়।

ডেভেলপার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এর মানে হলো অফশোর ফ্লোটিং PV-কে কেবল পানিতে স্থানান্তরিত একটি ভূমি-সোলার প্রকল্প হিসেবে বিশ্লেষণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে শক্তিশালী জোয়ারভাটা বা স্বতন্ত্র উপকূলীয় জলবায়ু থাকা এলাকায় এর নিজস্ব কর্মক্ষমতা অনুমান, খরচের মডেল এবং নকশার নিয়ম প্রয়োজন হতে পারে।

বাজারের অবস্থান

বৃহত্তর সোলার শিল্প এখনও মূলত সহজ, কম খরচের গ্রাউন্ড-মাউন্টেড এবং রুফটপ সিস্টেমের দ্বারা চালিত, এবং উৎস উপাদানে এমন কিছু নেই যা থেকে মনে হয় এটি শিগগিরই বদলাবে। Ground PV এখনও নির্মাণে সহজ। এটি কম ব্যয়বহুল এবং বিশেষায়িত সামুদ্রিক প্রকৌশলের ওপর অনেক কম নির্ভরশীল। কিন্তু তাইওয়ান বিশ্লেষণ ক্রমবর্ধমান সেই যুক্তিতে যোগ করছে যে অফশোর ফ্লোটিং সোলারকে আর প্রান্তিক ধারণা হিসেবে বাতিল করা যায় না।

সঠিক takeaway হলো না যে অফশোর ফ্লোটিং PV ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা জিতে গেছে। তা নয়। প্রতিবেদনকৃত 30% খরচ প্রিমিয়াম একটি গুরুতর বাধা, এবং স্থায়িত্ব এখনো একটি খোলা ব্যবহারিক সমস্যা। শক্তিশালী উপসংহার হলো, গবেষণায় বিবেচিত পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি তার জীবনকালে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা প্রকল্প নির্মাতা ও সরকারের জন্য আরও বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে।

ভবিষ্যতের প্রকৌশল যদি খরচ কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করে, তবে অফশোর ফ্লোটিং PV উপকূলীয় জ্বালানি পরিকল্পনার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। আপাতত, এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী ধাপ চিহ্নিত করছে: এটি এমন একটি কর্মক্ষমতা-সুবিধা দেখায় যা অর্থবহ, এবং একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় যে সমুদ্রে জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ার কঠিন অংশগুলো সমাধান করার ওপরই বাণিজ্যিক প্রস্তুতি এখনও নির্ভরশীল।

এই নিবন্ধটি PV Magazine-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on pv-magazine.com