২০১৬-র পর অ্যান্টার্কটিকার দীর্ঘদিনের একটি ধারা হঠাৎ ভেঙে পড়ে

বছরের পর বছর ধরে অ্যান্টার্কটিকা সহজ জলবায়ু বর্ণনার জন্য একটি অস্বস্তিকর চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। সমগ্র গ্রহ উষ্ণ হলেও, অ্যান্টার্কটিক সমুদ্র-বরফ অনেক মডেলের প্রত্যাশিত ধীরে ধীরে হ্রাসের বদলে প্রায় ২০১৫ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তারপর সেই ধারা ভেঙে যায়। ২০১৬-র পর সমুদ্র-বরফ হঠাৎ কমতে থাকে এবং নিম্নস্তরে স্থির থাকে। সরবরাহকৃত উৎস উপাদানে সংক্ষেপিত নতুন গবেষণা এর উত্তর খুঁজছে বরফের মধ্যে নয়, বরং তার নীচের সমুদ্রের গঠনে।

২৩ মার্চ, ২০২৬-এ Proceedings of the National Academy of Sciences-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রায় দুই দশকের under-ice Argo float তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রগুলি পৃষ্ঠের নিচে তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার তথ্য সংগ্রহ করে এবং পুনরায় ভেসে উঠলে সেগুলি উপগ্রহের মাধ্যমে পাঠায়। সরবরাহকৃত লেখায় থাকা প্রবন্ধের সারাংশ অনুযায়ী, আগের সমুদ্র-বরফ বিস্তার আংশিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া বৃষ্টিপাতজনিত পৃষ্ঠের মিষ্টিভাবের কারণে হয়েছিল। সেই অপেক্ষাকৃত মিঠে স্তরটি গভীরে থাকা উষ্ণতর, লবণাক্ততর পানির ওপরে ছিল, ফলে তাপ নিচেই আটকে যায় এবং পৃষ্ঠ সহজে জমে যেতে পারে।

২০১৫-র পর সেই কাঠামো বদলে যায়। প্রবল বায়ু-চালিত upwelling মিষ্টিভাবের প্রবণতা উল্টে দেয় এবং উষ্ণতর, লবণাক্ততর পানি উপরে তোলে। গবেষণার বর্ণনায়, এই প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত উপপৃষ্ঠীয় তাপ মুক্ত করে, যা অভূতপূর্ব সমুদ্র-বরফ ক্ষতির কারণ হয়। প্রধান লেখক Earle Wilson এটিকে নিচ থেকে জমে থাকা তাপের হিংস্র মুক্তি বলে বর্ণনা করেছেন। এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ২০১৬-র পরের পতনকে এলোমেলো ওঠানামা নয়, বরং এমন এক ব্যবস্থার ফল হিসেবে দেখায় যা বছরের পর বছর অস্থিরতা জমিয়ে রেখেছিল।

শুধু বাতাস নয়, সমুদ্রও ফল নির্ধারণ করেছে

উৎস উপাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, সমুদ্র-বরফকে বছর থেকে বছর এবং দশক থেকে দশক নিয়ন্ত্রণে সমুদ্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। এটি স্বাভাবিক শোনাতে পারে, কিন্তু এর বিশ্লেষণগত গুরুত্ব বাস্তব। মেরু পরিবর্তন নিয়ে জনআলোচনায় প্রায়ই কেবল বায়ুর তাপমাত্রার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই গবেষণা বলছে, দক্ষিণ মহাসাগরের উল্লম্ব স্তরবিন্যাস এবং সেটিকে বিঘ্নিত করা বায়ু একই রকম নির্ণায়ক হতে পারে।

বিস্তারের সময়ে, বাড়তি বৃষ্টিপাত পৃষ্ঠজলকে আরও মিঠে করেছিল। মিঠে পানি লবণাক্ত পানির তুলনায় কম ঘন, তাই তা পৃষ্ঠের কাছেই ছিল এবং স্তরবিন্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল। সেই স্তরবিন্যাস কার্যত নীচের উষ্ণ পানিকে ঢেকে রেখেছিল। এমন পরিস্থিতিতে পৃষ্ঠে জমাট বাঁধা চলতে পারত, যদিও নিচে তাপ জমতে থাকত। শক্তিশালী বায়ু যখন পৃষ্ঠজলকে অ্যান্টার্কটিকা থেকে দূরে ঠেলে দেয় এবং upwelling-কে আরও তীব্র হতে দেয়, তখন ব্যবস্থা উল্টে যায়। সঞ্চিত তাপ পৃষ্ঠের পরিবেশের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, সমুদ্র-বরফ গঠন ও টিকে থাকার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

এটি একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণাটি বলছে না যে আগের বিস্তার জলবায়ু ঝুঁতিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছিল। বরং এটি দেখায় যে জটিল সমুদ্রগত গতিবিদ্যা সাময়িকভাবে তাপের সংকেতের একটি অংশকে আড়াল করেছিল বা অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছিল। সমুদ্রের অবস্থা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গেই অন্তর্নিহিত দুর্বলতা খুব দ্রুত প্রকাশ পায়।

এই আবিষ্কার অ্যান্টার্কটিকার বাইরেও কেন গুরুত্বপূর্ণ

অ্যান্টার্কটিক সমুদ্র-বরফ কেবল স্থানীয় ঘটনা নয়। সরবরাহকৃত উৎস লেখায় এটিকে জলবায়ু ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়েছে, কারণ এটি পৃষ্ঠ ও গভীর সমুদ্রের মধ্যে তাপ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সমুদ্র-বরফের পরিবর্তন দক্ষিণ মহাসাগরের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বরফের আচ্ছাদন বদলালে সমুদ্র কীভাবে তাপ সংরক্ষণ করে এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে গ্যাস বিনিময় করে, সেটিও বদলাতে পারে।

প্রবন্ধে একটি কঠোর স্মরণও আছে: যদি অ্যান্টার্কটিকার সব বরফ গলে যায়, তবে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রায় ২০০ ফুট বাড়বে। সমুদ্র-বরফ ভূমিভিত্তিক বরফচাদরের মতো নয়, এবং এই গবেষণা মোট মহাদেশীয় গলন নয়, বরং সমুদ্র-বরফের প্রবণতা নিয়ে। কিন্তু বৃহত্তর বার্তাটি হলো, অ্যান্টার্কটিকা কোনো বিচ্ছিন্ন কৌতূহল নয়। এটি গ্রহগত ঝুঁকি, উপকূলীয় ঝুঁকিপ্রবণতা, এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

এই কারণেই এখানে বর্ণিত প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি বায়ুর ধরন এবং মিঠে পানির প্রবাহ বহু বছরের অ্যান্টার্কটিক সমুদ্র-বরফের ওঠানামা চালাতে পারে, তবে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের শুধু পৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রবণতা নয়, সমুদ্রের কাঠামো, ঝড়ের পথ, এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের দিকেও নজর দিতে হবে। এগুলো পটভূমির খুঁটিনাটি নয়। এগুলো নির্ধারণ করতে পারে অঞ্চলটি তুলনামূলক স্থিতি পাবে, নাকি হঠাৎ উল্টে যাবে।

Argo floats বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে

গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মূল্যও তুলে ধরে। পানির নিচে চলা Argo floats উপগ্রহের মতো নাটকীয় নয়, কিন্তু তারা ভিন্ন এক সমস্যার সমাধান করে। সরাসরি নমুনা নেওয়া কঠিন এমন অঞ্চলে, বিশেষ করে সমুদ্র-বরফের নিচে বা কাছাকাছি, তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিমাপ দেয়। যেহেতু তারা নিষ্ক্রিয়ভাবে ভেসে চলে এবং বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করে, তারা এমন ধীরে গড়ে ওঠা ধরণ প্রকাশ করতে পারে, যা সংক্ষিপ্ত ফিল্ড অভিযানে ধরা পড়ে না।

অ্যান্টার্কটিক বিজ্ঞানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো প্রায়ই সরাসরি চোখের আড়ালে থাকে। উপগ্রহচিত্র সমুদ্র-বরফের বিস্তার দেখাতে পারে, কিন্তু এর নিচের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার স্তরবিন্যাস নিজে থেকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। float নেটওয়ার্ক সেই ফাঁক পূরণ করতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে, এটি সেই রেকর্ড সরবরাহ করেছে, যা গবেষকদের দীর্ঘস্থায়ী দৃশ্যমান স্থিতিস্থাপকতাকে পরে সঞ্চিত তাপের মুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে দেয়।

ব্যবহারিক অর্থে, এই গবেষণা মনে করিয়ে দেয় যে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিস্ময় প্রায়ই তখনই দেখা দেয়, যখন ব্যবস্থাগুলো নীরবে চাপ শোষণ করে পরে হঠাৎ দ্রুত বদলে যায়। অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্র-বরফ স্রেফ মসৃণভাবে নীচে নামেনি। এটি এমনভাবে আচরণ করেছিল, যা প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি, তারপর হঠাৎ মোড় নিয়েছে। আরও ভালো উপপৃষ্ঠীয় তথ্য কেন তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখনো ছবির অংশ

সরবরাহকৃত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বায়ু প্রবাহের পরিবর্তন আংশিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা চালিত হয়েছিল। এই ভাষা সতর্ক, এবং তা বজায় রাখা উচিত। গবেষণাটি অ্যান্টার্কটিক সমুদ্র-বরফের আচরণকে একক কারণের মধ্যে নামিয়ে আনে না। বরং এটি মিঠে পানির প্রবাহ, সমুদ্রস্তরবিন্যাস, বায়ু-চালিত upwelling, এবং সঞ্চিত তাপের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া দেখায়। জলবায়ু পরিবর্তন এই ব্যবস্থায় শুধু উষ্ণায়নের মাধ্যমে নয়, সঞ্চালন ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের মাধ্যমেও প্রবেশ করে।

এ কারণেই অ্যান্টার্কটিক প্রবণতাগুলো বোঝানো এত কঠিন। উষ্ণতর বিশ্ব মানেই প্রতিটি আঞ্চলিক সূচককে সোজা রেখায় এগোতে হবে, এমন নয়। কিছু ব্যবস্থা তাপ সঞ্চয় করে, তা পুনর্বণ্টন করে, বা সাময়িকভাবে আড়াল করে। সেই বাফারগুলো ভেঙে গেলে, প্রতিক্রিয়া হঠাৎ মনে হতে পারে। এতে জলবায়ুর যুক্তি দুর্বল হয় না। বরং আরও নির্ভুল পর্যবেক্ষণ ও আরও সতর্ক ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।

গবেষণাটি কী বদলায়

  • এটি একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয় যে কেন অ্যান্টার্কটিক সমুদ্র-বরফ প্রায় ২০১৫ পর্যন্ত বাড়ল, তারপর হঠাৎ কমে গেল।
  • এটি দেখায় যে বৃদ্ধি পাওয়া বৃষ্টিপাত পৃষ্ঠজলকে মিঠে করে উষ্ণতর পানি নিচে আটকে রাখতে সাহায্য করেছিল।
  • এটি ২০১৫-র পর শক্তিশালী বায়ু-চালিত upwelling-কে সেই ট্রিগার হিসেবে চিহ্নিত করে, যা সঞ্চিত উপপৃষ্ঠীয় তাপ মুক্ত করেছিল।
  • এটি জোর দেয় যে সমুদ্রের গঠন ও সঞ্চালন বহু বছরের সময়কালে বড় মেরু পরিবর্তন চালাতে পারে।

মূল শিক্ষা হলো, অ্যান্টার্কটিকার আপাত-বিরোধিতা কখনোই এত সহজ ছিল না যে বরফ “ভুল” দিকে যাচ্ছে। অঞ্চলটি পৃষ্ঠের নিচে পরিবর্তন জমা করছিল। বায়ু ও লবণাক্ততার ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে, সেই লুকোনো তাপ বরফ আচ্ছাদনকে আশ্চর্যজনক গতিতে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। মেরু অস্থিরতা বুঝতে চাওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

এই প্রবন্ধটি CleanTechnica-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। মূল প্রবন্ধ পড়ুন.

Originally published on cleantechnica.com