তামাক নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনে ব্রিটেনের অনুমোদন
ইউনাইটেড কিংডম এমন একটি আইন অনুমোদন করেছে যা একটি “smoke-free generation” তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে; এর ফলে ১ জানুয়ারি ২০০৯-এর পরে জন্ম নেওয়া কারও কাছে দোকানগুলো তামাক বিক্রি করতে পারবে না। একবারে আইনি বয়স পরিবর্তন করার বদলে, এই নতুন পদ্ধতি প্রতি বছর কার্যকর ক্রয় বয়স এক বছর করে বাড়াবে, ফলে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী কাট-অফ তৈরি হবে।
Tobacco and Vapes Bill নামে পরিচিত এই পদক্ষেপটি ২০২৪ সাল থেকে প্রস্তুত হচ্ছিল এবং আগামী সপ্তাহে royal assent পাওয়ার কথা, যার পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে। যদি শেষ ধাপটি প্রত্যাশামতো এগোয়, তবে ব্রিটেন হবে এমন দেশগুলোর একটি, যারা কেবল প্রচলিত বয়সসীমার ওপর নির্ভর না করে প্রজন্মভিত্তিক তামাক নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে তামাক কেনার আইনি বয়স ১৮। নতুন ব্যবস্থায়, ব্রিটেনে যারা ১৮ বছরে পা দেবে, তারা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগারেট কেনার যোগ্য হবে না যদি তারা জন্ম-তারিখের সীমার “ভুল” পাশে পড়ে। নীতিটির লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরবর্তী বয়সগোষ্ঠীকে কখনও আইনি তামাক বাজারে প্রবেশ করতে না দিয়ে সময়ের সঙ্গে ধূমপানের হার কমানো।
প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে জনস্বাস্থ্যের যুক্তি
এই আইনের পক্ষে যুক্তি সরল। যুক্তরাজ্যে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও রোগের প্রধান কারণ হিসেবে ধূমপান রয়ে গেছে, এবং এর বোঝা এখনও যথেষ্ট বড়। উৎস উপাদান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ব্রিটেনে প্রায় ৭৪,৬০০ মৃত্যুর জন্য ধূমপান দায়ী ছিল।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এই বিলটিকে শাস্তিমূলক নয়, বরং প্রতিরোধমূলক হস্তক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। Health and Social Care Secretary Wes Streeting এই সংস্কারকে জীবন বাঁচানো, National Health Service-এর ওপর চাপ কমানো, এবং আরও সুস্থ দেশ গড়ার উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অবস্থানটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইনটিকে মূলত জীবনযাত্রার ওপর বিধিনিষেধ হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রোগ কমানোর জন্য একটি কাঠামোগত জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এই যুক্তি কয়েক দশকের তামাক নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত। ধূমপান ক্যান্সার, হৃদ্রোগ-সংক্রান্ত রোগ, এবং শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার উচ্চ ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। লেখাটিতে World Health Organization-এর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ধূমপান প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ৭ মিলিয়নেরও বেশি মৃত্যুর কারণ, যার মধ্যে সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোকের সংস্পর্শে থাকা প্রায় ১.৬ মিলিয়ন অধূমপায়ীর মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত।
এখানে পার্থক্যটি আইনগত কাঠামোতে। কেবল আরেকটি কর বৃদ্ধি বা প্যাকেজিং নিয়মের বদলে, সরকার ভবিষ্যতে তামাকের প্রবেশাধিকারই নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। লক্ষ্য হলো, বয়স্ক ধূমপায়ীরা বয়সের কারণে সরে গেলে এবং তরুণরা কখনও আইনগতভাবে যুক্ত না হলে, ধূমপায়ী জনগোষ্ঠী সময়ের সঙ্গে সঙ্কুচিত হয়ে আসবে।





