উৎসটি অফিসিয়াল মনে হওয়ায় একটি ভুয়া ছবি ছড়িয়ে পড়ে

গ্রেপ্তারটি সত্যি ছিল, কিন্তু সেটিকে বিশ্বব্যাপী কৌতূহলের বিষয় বানানো ছবিটি সত্যি ছিল না। সরবরাহ করা উৎস লেখ্য অনুযায়ী, একটি থাই পুলিশ স্টেশন ঝকমকে পোশাক পরা কর্মকর্তাদের হাতকড়া পরানো এক সন্দেহভাজনের সঙ্গে পোজ দেওয়া একটি AI-সৃষ্ট ছবি পোস্ট করেছিল। ছবিটি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড এবং নিউ ইয়র্ক পোস্টসহ একাধিক গণমাধ্যম এটিকে এমনভাবে পুনরায় প্রকাশ করে, যেন এটি কোনো অস্বাভাবিক গোপন অভিযানের নথি।

পরে গিয়ে সমস্যাটি স্পষ্ট হয়। স্টেশনটি আসল ছবি প্রকাশ করে, যেখানে কর্মকর্তারা সাধারণ পোশাকে ছিলেন এবং কোনো নারী নৃত্যশিল্পীই ছিল না। আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিজ্যুয়ালটি স্টেশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রশাসক তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়, পুলিশের একটি বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং হাস্যরসাত্মক জনসম্মুখ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টায়।

ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর, কিন্তু এর গুরুত্ব এক অদ্ভুত ছবির চেয়ে অনেক বেশি। মূল ব্যর্থতা শুধু এই নয় যে একটি AI ছবি ছিল। ব্যর্থতাটি ছিল এই যে ছবিটি এমন এক উৎস থেকে এসেছিল, যাকে অনেক সম্পাদক সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেন: একটি অফিসিয়াল প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট।

কেন অফিসিয়াল উৎস আর যথেষ্ট নয়

বছরের পর বছর ডিজিটাল যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ কৌশলগুলোর একটি ছিল উৎস যাচাই। কোনো ছবি যদি অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট, সরকারি দফতর বা প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্রের কাছ থেকে আসে, তাহলে সেটি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন একেবারে শেষ হয়ে যেত না, তবে সন্দেহ অনেকটাই কমে যেত। থাই পুলিশের ঘটনাটি সেই ধারণাকে দুর্বল করে। এখন একটি ছবি ঘটনা-সন্নিহিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই এলেও তা মিথ্যা হতে পারে।

এটি সংবাদকক্ষের ঝুঁকি বদলে দেয়। অনেক ছবি যাচাই ব্যবস্থা অজানা বিকৃতি, ভুল ক্যাপশন বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল থেকে পুনর্ব্যবহৃত ভিজ্যুয়াল শনাক্ত করার জন্য তৈরি। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উৎস নিজেই কৃত্রিম মাধ্যম তৈরি বা বিতরণ করেছে, সেই পরিস্থিতির জন্য এগুলো কম প্রস্তুত।

এর ফলে এক নতুন ধরনের ব্যর্থতা তৈরি হয়। কোনো ছবি প্রথম দেখায় ফরেনসিক সফটওয়্যারকে বিভ্রান্ত না-ও করতে পারে, যদি সেটি কোনো অফিসিয়াল প্রকাশকের সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতার ফিল্টার পেরিয়ে যায়। একবার সংবাদমাধ্যম বিশ্বাস করে যে চেইন অফ কাস্টডি নির্ভরযোগ্য, তখন ভিজ্যুয়াল অযৌক্তিকতাকে জালিয়াতির প্রমাণ না ভেবে অদ্ভুত বাস্তবতা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

মিডিয়ার সমস্যা কেবল সম্পাদকীয় নয়, কাঠামোগতও

পরে কয়েকটি প্রকাশনা স্পষ্ট করে যে তাদের প্রতিবেদন পুলিশের সরবরাহ করা ভুয়া AI ছবির ওপর নির্ভর করেছিল। এটি একটি সংশোধন, কিন্তু মূল সমস্যা মেটে না। সংবাদকক্ষ এখন এমন পরিবেশে কাজ করছে যেখানে সিন্থেটিক ভিজ্যুয়াল সস্তা, দ্রুত এবং প্রায়ই সেই একই যোগাযোগ ব্যবস্থার ভেতরেই তৈরি হয়, যা সাংবাদিকরা প্রথম খবরের জন্য নজরে রাখেন।

উৎস পাঠ্যটি উল্লেখ করে যে মূল দৃশ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি অ্যাক্সেস ছাড়া কোনো ছবি আসল কি না তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করার নিখুঁত উপায় নেই। এই সমস্যা আরও তীব্র হয় যখন সিন্থেটিক ছবি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সত্য খবরের মধ্যে মিশে যায়। গ্রেপ্তার হয়েছে। স্থানটি ছিল। পুলিশ জড়িত ছিল। কেবল ভিজ্যুয়াল প্রমাণটি বদলে দেওয়া হয়েছিল। সত্য ও জালিয়াতির এই মিশ্রণই সিন্থেটিক মিডিয়াকে এত কার্যকরভাবে বিপজ্জনক করে তোলে।

এখানে একটি সাংস্কৃতিক চাপও কাজ করে। ছবিটি আকর্ষণীয় ছিল কারণ তা ছিল উজ্জ্বল, অদ্ভুত এবং সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করার মতো। প্রকাশনার সিদ্ধান্ত দ্রুততর করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে এ ধরনের বৈশিষ্ট্যেরই। অফিসিয়াল উৎস এবং ভাইরাল আকর্ষণ একসঙ্গে এলে সম্পাদকীয় সংশয় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।

AI যুগে বিশ্বাস সম্পর্কে এই ঘটনা কী বোঝায়

শিক্ষাটি এই নয় যে অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টকে মূল্যহীন বলে ধরে নিতে হবে। বরং প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের ভিত্তিতে আর সত্যতা অনুমান করা যায় না। ছবি, বিশেষ করে অস্বাভাবিক বা নাট্যধর্মী ছবি, এখন এমন যাচাই প্রক্রিয়া দাবি করে যা ধরে নেয় যে উৎসকে কর্তৃত্বপূর্ণ মনে হলেও সিন্থেটিক জেনারেশন সম্ভব।

এর মানে সম্ভবত রিভার্স চেকের আরও নিয়মিত ব্যবহার, মূল সংস্থার সঙ্গে সরাসরি নিশ্চিতকরণ, কম্পোজিশনের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা এবং যেখানে সম্ভব মূল ফাইল বা অতিরিক্ত দৃশ্যের প্রমাণ চাওয়া। এগুলোর কোনোটি সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু থাই ঘটনাটি দেখায় যে পোস্টের পাশে থাকা ব্যাজে বিশ্বাস করার পুরোনো শর্টকাট এখন কম যৌক্তিক হয়ে উঠছে।

এর একটি বৃহত্তর জনপরিণতিও আছে। কোনো অফিসিয়াল সংস্থা যখন স্পষ্ট লেবেল ছাড়া AI-সৃষ্ট ছবি বিতরণ করে, তখন তা আসল নথিভুক্তির নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষয় করে। এটি শুধু সংবাদকক্ষের সমস্যা নয়। এটি নাগরিকদের ভিজ্যুয়াল রেকর্ডের ওপর আস্থাকে দুর্বল করে, যা পুলিশি কার্যক্রম, রাজনীতি এবং সংকট পরিস্থিতি সম্পর্কে জনবোঝাপড়ার কেন্দ্রে রয়েছে।

থাই পুলিশের ছবিটি ভাইরাল হয়েছিল কারণ তা ছিল মজার, সুররিয়াল এবং দৃশ্যত আসল। কিন্তু প্রমাণমূল্য হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থে এগুলোর কিছুই তা ছিল না। AI যুগে, এমনকি অফিসিয়াল ছবিও এখন আপাতত অস্থায়ী, যতক্ষণ না বিপরীতটি প্রমাণিত হয়।

এই নিবন্ধটি The Guardian-এর প্রতিবেদনভিত্তিক। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on theguardian.com