মাধ্যাকর্ষণের এক বড় পরীক্ষা অদৃশ্য পদার্থের পক্ষেই ঝুঁকেছে

কসমোলজির পুরোনো আধুনিক টানাপোড়েনগুলোর মধ্যে একটি একই সঙ্গে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সমস্যাগুলোরও একটি। হয় মহাবিশ্বে এমন বিপুল পরিমাণ পদার্থ আছে যা আমরা সরাসরি দেখতে পাই না, নয়তো সবচেয়ে বড় স্কেলে মাধ্যাকর্ষণের নিয়ম তার পরিচিত রূপ থেকে সরে যাচ্ছে। এই সপ্তাহের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্বিতীয় বিকল্পটি একা আর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রদত্ত Gizmodo লেখার অনুযায়ী, একটি আন্তর্জাতিক দল সাধারণ আপেক্ষিকতাকে ভিত্তি করে নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ-সংক্রান্ত মৌলিক নিয়মের সঙ্গে ব্রহ্মাণ্ডীয় পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে দেখেছে, এবং পেয়েছে যে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে দূরবর্তী কাঠামোগুলিও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে গঠনকারী একই মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম অনুসরণ করে। লেখাটি বলছে, এই ফলাফল Physical Review Letters-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং শুধুমাত্র মাধ্যাকর্ষণ বদলে কসমোলজিক্যাল অসামঞ্জস্য ব্যাখ্যার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে ডার্ক ম্যাটারের পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী করছে।

মাধ্যাকর্ষণের আরেকটি পরীক্ষা কেন দরকার ছিল

কারণটি পরিচিত, কিন্তু এখনো অমীমাংসিত। কয়েক দশক আগে দেখা গিয়েছিল, ছায়াপথ এবং ছায়াপথ-গুচ্ছের নক্ষত্র ও পদার্থ এমনভাবে চলাচল করছে যা কেবল দৃশ্যমান পদার্থ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সহজভাবে বললে, একটি ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে দূরের বস্তুর গতি জ্যোতির্বিদেরা দৃশ্যমান আলোর পরিমাণের ভিত্তিতে যা আশা করেছিলেন তার চেয়ে বেশি ছিল। একই ধরনের ধাঁধা বৃহত্তর ব্যবস্থাতেও দেখা গেছে।

প্রদত্ত নিবন্ধে যেমন বলা হয়েছে, সেই অসামঞ্জস্যগুলো দুটি চরম সিদ্ধান্তের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য করে: ডার্ক ম্যাটার আছে, অথবা মাধ্যাকর্ষণের নিয়মে বড় ধরনের সংশোধন দরকার। ডার্ক ম্যাটার প্রধান কাঠামো হয়ে উঠেছে কারণ এটি বিপুল পরিমাণ পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করতে পারে, অথচ মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখে। তবে ডার্ক ম্যাটার সরাসরি শনাক্ত না হওয়ায়, পরিবর্তিত-গুরুত্ব তত্ত্বগুলো এখনো সক্রিয় বিকল্প রয়ে গেছে।

এই কারণেই বৃহৎ-স্কেল অভিজ্ঞতাভিত্তিক পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ। যদি মানক মাধ্যাকর্ষণ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলিতেও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে মাধ্যাকর্ষণ-ভিত্তিক বিকল্প তত্ত্বের পরিসর সঙ্কুচিত হয়। বিতর্ক শেষ হয় না, কিন্তু তার কেন্দ্র সরে যায়। নিয়ম বদলের চেয়ে অনুপস্থিত ভর ব্যাখ্যা করার দায় আরও বেশি হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদিত গবেষণাটি কী পেল

প্রদত্ত উৎস অনুযায়ী, গবেষকেরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মাধ্যাকর্ষণ-সমীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং তাঁরা যে জটিল পর্যবেক্ষণগুলো পরীক্ষা করছিলেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে “পুরোনো পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান দৃঢ়ভাবে টিকে ছিল” বলে পেয়েছেন। আরও নির্দিষ্টভাবে, লেখাটি বলছে, এমনকি সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে দূরবর্তী কাঠামোগুলিও নিউটন ও আইনস্টাইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম অনুসরণ করে।

এটি ডার্ক ম্যাটারের সরাসরি সনাক্তকরণ নয়। লেখাটি সে বিষয়ে স্পষ্ট: ব্রহ্মাণ্ডের ভরের প্রায় ৮৫% ব্যাখ্যা করতে পারে বলে বহু গবেষক যে অদৃশ্য পদার্থের কথা ভাবেন, তার সরাসরি প্রমাণ বিজ্ঞানীরা এখনো পাননি। কিন্তু নতুন ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রধান ধারণাগত পথগুলোর একটিকে সংকুচিত করে। যদি মাধ্যাকর্ষণের নিয়ম বিশাল স্কেলেও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে ছায়াপথ ও গুচ্ছের আচরণের জন্য অদৃশ্য ভরই আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা হয়ে ওঠে।

তাই এই গবেষণা যেমন একটি আবিষ্কার, তেমনি একটি সীমাবদ্ধতাও। এটি বিকল্প মাধ্যাকর্ষণ-প্রস্তাবগুলোকে কতদূর পর্যন্ত দেখা জগৎ-এর সঙ্গে মেলানো যায়, তা নির্ধারণ করে। কসমোলজিতে সীমাবদ্ধতা অত্যন্ত শক্তিশালী। নির্দিষ্ট কোনো কণা বা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মতোই, বিস্তৃত ব্যাখ্যার শ্রেণি বাতিল করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এতে ডার্ক ম্যাটারের পক্ষে যুক্তি কেন শক্তিশালী হচ্ছে

প্রদত্ত Gizmodo লেখাটি ফলাফলটিকে সেইভাবেই উপস্থাপন করেছে। যদি “মৌলিক নিয়মগুলো ঠিক হয়,” তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, “তাহলে এমন কিছু আছে যা আমরা দেখছি না।” এই সারাংশটাই বলে ডার্ক ম্যাটার ধারণা হিসেবে কেন এত টেকসই। এর জন্য পদার্থবিজ্ঞানীদের সর্বকালের অন্যতম সফল তত্ত্ব সাধারণ আপেক্ষিকতাকে বাতিল করতে হয় না। বরং, যা সরাসরি দৃশ্যমান নয় এমন পদার্থের তৈরি মাধ্যাকর্ষণ প্রভাবকে হিসাব করতে হয়।

বহু অসামঞ্জস্যকে এক ধারণার অধীনে একত্রিত করতে পারার ক্ষমতার কারণে ডার্ক ম্যাটার দীর্ঘদিন ধরে শক্তি পেয়ে এসেছে। এর ঘাটতি হলো এর ভৌত স্বরূপের সরাসরি প্রমাণ নেই। এই ধরনের গবেষণা সেই শেষ সমস্যাটি মেটায় না, কিন্তু যেখানে ডার্ক ম্যাটার প্রশ্নটি তোলা হয় সেই কাঠামোকেই আরও দৃঢ় করে। এগুলো দেখায়, অসামঞ্জস্যগুলো যে কেবল ভুল মাধ্যাকর্ষণ-নিয়ম ব্যবহারের ফল, সেই যুক্তি টেনে নেওয়া আরও কঠিন।

সাধারণ পাঠকের কাছে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কসমোলজির বিতর্ক প্রায়ই সমান সম্ভাবনার দুটি গল্পের সহজ প্রতিযোগিতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। বাস্তবে, প্রমাণ অসমভাবে জমা হয়। ব্রহ্মাণ্ডীয় স্কেলে মানক মাধ্যাকর্ষণ বজায় রাখে এমন ফলাফল ডার্ক ম্যাটারকে সরাসরি প্রমাণ করে না, কিন্তু সম্ভাব্যতার ভারসাম্য বদলে দেয়।

বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক প্রভাব

এই ধরনের ফলাফল সাধারণত একসঙ্গে দুটি কাজ করে। কিছু তাত্ত্বিক পথ বন্ধ করে, আবার অন্যগুলোকে আরও তীক্ষ্ণ করে। যারা পরিবর্তিত মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা এখনও খুঁজে দেখবেন বিকল্প মডেল কোথায় টিকে থাকতে পারে বা মানক বিশ্লেষণ কোথায় এখনো অসম্পূর্ণ। একই সঙ্গে, ডার্ক ম্যাটার গবেষণা মানচিত্রায়ন, মডেলিং এবং সরাসরি অনুসন্ধান আরও এগিয়ে নেওয়ার আরেকটি কারণ পায়।

প্রদত্ত লেখাটি পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর একটি দিকও তুলে ধরে। মাধ্যাকর্ষণ একসঙ্গে পরিচিতও, আবার অধরা-ও। এটি পড়ন্ত বস্তু, গ্রহের কক্ষপথ, ব্ল্যাক হোল, এবং দৃশ্যমান মহাবিশ্বের গঠন নিয়ন্ত্রণ করে, অথচ ব্রহ্মাণ্ডীয় হিসাবের মধ্যে এর পূর্ণ স্থান নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে। তাই যত বড় স্কেলে পরীক্ষা করা যায়, ততই তার গুরুত্ব বাড়ে। এগুলো বিজ্ঞানীদের বলে দেয় স্থানীয়ভাবে কাজ করা নিয়মগুলো সত্যিই সর্বজনীন কি না।

রহস্যের আরও স্পষ্ট রূপ

সবচেয়ে স্থায়ী বৈজ্ঞানিক রহস্যগুলো প্রায়ই এমন, যা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় না; বরং আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। এই গবেষণা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। এটি ডার্ক ম্যাটার বিতর্ক শেষ করে না। তবে নিউটোনীয় ও আইনস্টাইনীয় মাধ্যাকর্ষণ যে গবেষকেরা পরীক্ষা করতে পারেন এমন সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলিতেও অটুট আছে, সেই ধারণাকে সমর্থন দিয়ে বিতর্কটিকে আরও নির্দিষ্ট করেছে।

যদি এই সিদ্ধান্ত টিকে যায়, তাহলে মহাবিশ্বের অনুপস্থিত ভরের সমস্যা মাধ্যাকর্ষণের ব্যর্থতার চেয়ে অনেক বেশি একটি বিশাল-স্কেলের তালিকা-সমস্যা বলে মনে হবে। আমরা এখনো জানি না ডার্ক ম্যাটার কী। কিন্তু সেখানে কিছু অদৃশ্য জিনিস আছে, এই যুক্তি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেল।

এই নিবন্ধটি Gizmodo-র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on gizmodo.com