বড় পরিসরের জন্য গড়া গবেষণা কেন্দ্রগুলোর ওপর NSF পাঁচ বছরের বাজি ধরছে

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন তিনটি নতুন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারে পাঁচ বছরে ৯ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, যার মধ্যে মানব-রোবট সহ-অভিযোজনে কেন্দ্রিত একটি কেন্দ্রও রয়েছে। এই উদ্যোগে গবেষণা তহবিল, কর্মশক্তি উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বকে এমন একটি কাঠামোতে একত্র করা হয়েছে, যা এককালীন প্রকল্পের বদলে দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতা গড়ে তুলতে তৈরি।

২৭ আগস্টের ঘোষণার বিষয়ে The Robot Report-এর বিবরণ অনুযায়ী, তিনটি কেন্দ্রের প্রতিটিই প্রাথমিক পাঁচ বছরের জন্য বছরে ৬০ লাখ ডলার করে পাবে। এরপর কেন্দ্রগুলো আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত সহায়তার জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবে। বাস্তবে, NSF এমন একটি কাঠামো তৈরি করছে যা প্রাথমিক অগ্রগতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প এবং সরকারের মধ্যে টেকসই সহযোগিতা গড়ার সক্ষমতাকেও পুরস্কৃত করে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজকের বহু উচ্চ-প্রভাবশালী প্রযুক্তিক্ষেত্র ঠিক এই ধরনের আন্তঃখাত ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করে। রোবোটিক্স, AI, টারবুলেন্স মডেলিং এবং জিনোম ইঞ্জিনিয়ারিং এমন গবেষণা ক্ষেত্র নয় যেখানে বিচ্ছিন্ন অনুদান সহজেই মোতায়েনযোগ্য সিস্টেম বা বিস্তৃত জাতীয় সক্ষমতায় রূপ নেয়। সাধারণত এগুলোর জন্য ভাগাভাগি করা অবকাঠামো, বহু-বিষয়ক দল এবং বহু বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ পাইপলাইন দরকার হয়।

রোবোটিক্স কেন্দ্র মানুষ ও মেশিনের মধ্যে অভিযোজনকে কেন্দ্র করে

AI এবং রোবোটিক্স পরিমণ্ডলে সবচেয়ে সরাসরি প্রাসঙ্গিক কেন্দ্রটি হলো Center for Human and Robot Co-Adaptation, যার নেতৃত্ব দেবে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন। এর ম্যান্ডেট হলো, বাড়ি, হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র এবং জনপরিসরে সেবা ও সহায়ক রোবট আরও সাধারণ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ও রোবট কীভাবে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে একে অপরের সঙ্গে অভিযোজিত হতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা।

এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। রোবোটিক্সের বড় অংশ এখন আর শুধু আলাদাভাবে হার্ডওয়্যার বা মোশন প্ল্যানিং উন্নত করার বিষয় নয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো এমন সিস্টেম ডিজাইন করা, যা বিভিন্ন মানব আচরণ, পছন্দ, আস্থার মাত্রা এবং শারীরিক প্রয়োজনের মধ্যে কাজ করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে রোবট কেবল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একটি নির্দিষ্ট কাজ করছে না। এটি মানুষের কাছ থেকে শিখছে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সাড়া দিচ্ছে, এবং সামাজিক ও ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছে, যা একজন ব্যবহারকারী ও একটি প্রেক্ষাপট থেকে আরেকটিতে ভিন্ন হয়।

উৎস পাঠে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি রোবোটিক্স, AI এবং মানব-কারককে একত্র করে এমন পদ্ধতি তৈরি করবে, যা embodied intelligence-সম্পন্ন রোবটকে মানুষের কাছ থেকে শিখতে, চাহিদা ও পছন্দ বুঝতে, এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশ ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক ও জ্ঞানীয় উভয়ভাবেই অভিযোজিত হতে সাহায্য করবে। এটি বিস্তৃত, তবে কৌশলগতভাবে সুসংগত একটি এজেন্ডা। এটি মেশিন লার্নিং, ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক নকশা, সহায়ক প্রযুক্তি এবং বাস্তব দুনিয়ার মোতায়েন চ্যালেঞ্জকে এক ছাতার নিচে আনে।

সাধারণ অটোমেশনের চেয়ে “co-adaptation” কেন বেশি শক্তিশালী লক্ষ্য

কেন্দ্রের শিরোনাম রোবোটিক্স ভাবনায় সূক্ষ্ম কিন্তু অর্থবহ এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত অটোমেশন সাধারণত ধরে নেয় যে মেশিনকে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে এবং মানুষ সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেবে। Co-adaptation একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া বোঝায়: রোবটকে মানব পরিবেশে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার যোগ্য হতে হবে, এবং মানুষকে তাদের সঙ্গে এমনভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে, যা নিরাপদ, বোধগম্য এবং কার্যকর।

এটি বিশেষভাবে স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, যা উৎস পাঠে উল্লিখিত দুটি প্রয়োগক্ষেত্র। ওইসব ক্ষেত্রে, কেবল প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম রোবট যথেষ্ট নয়। সেটিকে ব্যবহারকারীর কাছে বোধগম্য, পরিবর্তনশীল চাহিদায় সাড়া দিতে সক্ষম, এবং এমন পরিবেশে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে যেখানে ভুল, বিভ্রান্তি, বা ভঙ্গুর আচরণের গুরুতর পরিণতি হতে পারে। AI, রোবোটিক্স এবং মানব-কারককে স্পষ্টভাবে একত্র করে এমন গবেষণায় অর্থায়ন করে NSF এমন একটি মডেলকে সমর্থন করছে, যা ব্যবহারযোগ্যতা ও অভিযোজনকে পার্শ্ববর্তী নকশা ইস্যু নয়, বরং মূল প্রযুক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে দেখে।

বিস্তৃত পোর্টফোলিও NSF-এর কৌশলগত বিজ্ঞান-দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়

অন্য দুটি নতুন অর্থায়িত কেন্দ্র হলো Center for Transformative Explorations in Multi-Physics and Engineering of Scientific Turbulence, অর্থাৎ TEMPEST, যার নেতৃত্বে আছে Michigan State University, এবং Center for Genome Intelligence Engineering, বা GENIE, যার নেতৃত্বে আছে Northwestern University।

সাপ্লায়েড উৎস পাঠের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকেই তিন কেন্দ্রের এই মিশ্রণ ফেডারেল অগ্রাধিকার সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। একটি কেন্দ্র মানব-কেন্দ্রিক পরিবেশে রোবোটিক্স এবং AI-কে লক্ষ্য করে। আরেকটি টারবুলেন্স এবং মাল্টি-ফিজিক্স বিজ্ঞানে ফোকাস করে, যা প্রকৌশল, জলবায়ু-সম্পর্কিত মডেলিং, শক্তি ব্যবস্থা এবং উন্নত সিমুলেশনের জন্য কেন্দ্রীয় ক্ষেত্র। তৃতীয়টি জিনোম ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মনোনিবেশ করে, যা জৈবিক নকশার জন্য একটি গণনামূলক ও সিস্টেম-ভিত্তিক পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়।

সব মিলিয়ে, এই প্যাকেজটি এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে যে মৌলিক বিজ্ঞান নেতৃত্ব ডিজিটাল পদ্ধতিকে ভৌত সিস্টেম এবং জীবনবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর নির্ভর করে। এটি সংকীর্ণ বাণিজ্যায়ন কর্মসূচি নয়, আবার প্রয়োগ থেকে বিচ্ছিন্ন মৌলিক বিজ্ঞানও নয়। বরং NSF এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করছে, যারা আবিষ্কার, পদ্ধতি-নির্মাণ এবং পরবর্তী ব্যবহার - এই তিনটির মধ্যে চলাচল করতে পারে।

কর্মশক্তি উন্নয়নও এর অংশ

উৎস পাঠে উদ্ধৃত NSF-এর বিবৃতিতে কেন্দ্রগুলোকে সাহসী গবেষণা, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং দক্ষ কর্মশক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখার একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে Science and Technology Centers কীভাবে কাজ করেছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: কেবল এমন জায়গা নয় যেখানে গবেষণাপত্র তৈরি হয়, বরং এমন প্রশিক্ষণক্ষেত্র যেখানে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং অংশীদাররা বিভিন্ন শাখা ও খাতে একসঙ্গে কাজ করতে শেখে।

বিশেষ করে রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে, এটি যেকোনো একক প্রযুক্তিগত মাইলফলকের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘস্থায়ী ইন্টিগ্রেশন সমস্যা আছে। যান্ত্রিক নকশা, উপলব্ধি, শেখা, নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, মানব-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন এবং মোতায়েন অর্থনীতি - সবকিছুকে একসঙ্গে যুক্ত হতে হয়। যে কেন্দ্রগুলো গবেষকদের এই ফাঁকগুলো পেরিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারে, তাদের দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব অসামান্য হতে পারে, এমনকি তাদের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফল যদি প্রাথমিক পর্যায়ের প্রোটোটাইপ বা পদ্ধতিও হয়।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রটির সেবা ও সহায়ক রোবটের ওপর ফোকাস এটাও ইঙ্গিত দেয় যে NSF গবেষণাকে জনসংখ্যাগত ও শ্রমবাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে চাইছে। বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসংকট, প্রবেশগম্যতার চাহিদা এবং জনমুখী পরিবেশে অটোমেশনের প্রত্যাশা - সবই এমন সিস্টেমের চাহিদা তৈরি করে, যা শুধু সক্ষমই নয়, বিশ্বাসযোগ্য এবং অভিযোজ্যও।

যুক্তরাষ্ট্রের রোবোটিক্স ইকোসিস্টেমের জন্য একটি সংকেত

যদিও তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে ৯ কোটি ডলার ভাগ হয়ে পুরো জাতীয় রোবোটিক্স পরিমণ্ডলকে একা বদলে দেবে না, তবু ঘোষণাটি তাৎপর্যপূর্ণ। ফেডারেল গবেষণা-অর্থায়ন কোন ধরনের সমস্যাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হবে, তা নির্ধারণে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে, NSF সংকেত দিচ্ছে যে মানব-রোবট সহযোগিতা, embodied intelligence, এবং নিরাপদ অভিযোজন টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।

এটি প্রতিভা প্রবাহ, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ, স্টার্টআপ গঠন, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং পরবর্তী অনুদান কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত শিল্প পরিবেশের বাইরে রোবটদের কীভাবে মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করা উচিত, সে বিষয়ে মানদণ্ড ও প্রত্যাশা গড়ার একটি মঞ্চও এটি দেয়।

এরপর কী দেখার আছে

তাৎক্ষণিক ঘোষণা অর্থায়ন এবং কাঠামো নিয়ে, পণ্য উন্মোচন বা নিকট-মেয়াদী মোতায়েন মেট্রিক নিয়ে নয়। আগামী কয়েক বছরে মূল প্রশ্ন হবে, কেন্দ্রগুলো কি তাদের দীর্ঘ সময়সীমাকে স্বতন্ত্র প্রযুক্তিগত কাঠামো, টেস্টবেড এবং অংশীদার নেটওয়ার্কে রূপান্তর করতে পারে কি না।

রোবোটিক্স কেন্দ্রের জন্য, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সম্ভবত একটি একক যুগান্তকারী মেশিন হবে না। বরং হতে পারে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিরাপদে শেখার পদ্ধতি, অভিযোজন ও আস্থা পরিমাপের পুনরাবৃত্তিযোগ্য উপায়, এবং এমন সিস্টেম নকশা যা বাড়ি, ক্লিনিক, কর্মক্ষেত্র এবং জনপরিসরে রোবটকে আরও ব্যবহারিক করে তোলে। যদি তা ঘটে, তাহলে কেন্দ্রটি সরাসরি বাণিজ্যিকীকরণ না করেও ভবিষ্যতের বিস্তৃত প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।

  • NSF পাঁচ বছরে তিনটি নতুন কেন্দ্রজুড়ে ৯ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।
  • প্রতিটি কেন্দ্র প্রাথমিক পাঁচ বছরের জন্য বছরে ৬০ লাখ ডলার পাবে।
  • রোবোটিক্স কেন্দ্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন।
  • এর লক্ষ্য মানুষ ও রোবটের মধ্যে নিরাপদ ও কার্যকর অভিযোজন।
  • NSF বলছে, কেন্দ্রগুলোর উদ্দেশ্য গবেষণাগত নেতৃত্ব, অংশীদারিত্ব এবং STEM কর্মশক্তিকে শক্তিশালী করা।

এই নিবন্ধটি The Robot Report-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on therobotreport.com