টাকা ও সময়ের চাপ ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং আচরণ গড়ে তুলছে

সাম্প্রতিক একটি গুণগত গবেষণা খাদ্য ডেলিভারির অর্থনীতিতে এক অস্বস্তিকর তথ্য যোগ করেছে: বড় অগ্রিম টিপস কিছু ড্রাইভারকে দ্রুতগতিতে চালাতে বেশি আগ্রহী করে তুলতে পারে। প্রদত্ত উৎস পাঠ অনুযায়ী, অ্যাপ-ভিত্তিক ডেলিভারি কর্মীদের Reddit পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, কিছু ড্রাইভার খোলাখুলিভাবে রাস্তায় তাদের গতি অর্ডারের সঙ্গে যুক্ত অর্থের সঙ্গে সংযোগ করেছেন।

এই ফলাফল বলে না যে সব কুরিয়ারই দ্রুত চালান, এবং উৎস পাঠে বলা হয়েছে ড্রাইভারদের মধ্যে কোনো ঐকমত্য ছিল না। কিন্তু এটি দেখায় যে টিপ দেওয়া সেবার পুরস্কারের চেয়ে বেশি কিছু হিসেবে কাজ করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এটি এক ধরনের বাধ্যবাধকতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা ড্রাইভারদের আচরণ বদলে দেয়।

গবেষণাটি সমস্যাটিকে কীভাবে দেখেছে

প্রদত্ত পাঠ অনুযায়ী Transportation Research Interdisciplinary Perspectives-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য অনলাইন আলোচনাগুলো বিশ্লেষণের একটি অস্বাভাবিক পদ্ধতি নিয়েছিল। এই পদ্ধতি নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণের মতো প্রমাণ দেয় না, কিন্তু কর্মীরা নিজেদের ওপর যে চাপ অনুভব করেন তা কীভাবে ব্যাখ্যা করেন, তা দেখাতে পারে।

উৎস পাঠে উদ্ধৃত এক ড্রাইভার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, কর্মক্ষমতা সবচেয়ে বেশি দরদাতার সঙ্গে যুক্ত। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শব্দগত অভিব্যক্তি নয়, বরং তার পেছনের প্রণোদনা কাঠামো। যদি কর্মীরা টিপের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হন এবং মনে করেন দ্রুত ডেলিভারি রেটিং, আয় বা ভবিষ্যৎ অর্ডার রক্ষা করে, তাহলে গতি চাকরির লঙ্ঘন না হয়ে তারই অংশ বলে মনে হতে পারে।

শুধু গ্রাহক নয়, অ্যাপও গুরুত্বপূর্ণ

প্রদত্ত পাঠ দায় শুধু গ্রাহকদের ওপর দেয় না। এতে বলা হয়েছে, অ্যাপের নকশা এবং ডেলিভারি মেট্রিকসও দ্রুতগতিতে চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে বলে মনে হয়। ড্রাইভাররা পৌঁছানোর সময়সংক্রান্ত প্রত্যাশা থেকে চাপের কথা বলেছেন, এবং কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সময়মতো লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে গতি সীমা অতিক্রম করতে হতে পারে।

এই পর্যবেক্ষণ সমস্যাটিকে ব্যক্তিগত আচরণের বাইরে নিয়ে প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনের দিকে ইঙ্গিত করে। যদি কোনো ডেলিভারি অ্যাপ এমন সময়ের প্রত্যাশা নির্ধারণ করে, যা সাধারণ ট্রাফিক পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত নয়, তাহলে নিরাপদহীন ড্রাইভিং একটি বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত না থেকে ব্যবস্থার প্রত্যাশিত ফল হয়ে উঠতে পারে।

পাঠে আরও বলা হয়েছে, বেশি অভিজ্ঞ ড্রাইভাররা কখনও কখনও প্ল্যাটফর্মের সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের জন্য বেশি সময় বের করতে শেখেন, যেমন অর্ডার এখনও প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানানো। কম অভিজ্ঞ ড্রাইভাররা এসব কৌশল নাও জানতে পারেন এবং ঘড়ির দিকে আরও কঠোরভাবে নজর দিতে পারেন।

নীতিগত প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠছে

নগর সরকারগুলো গিগ-ডেলিভারি মডেলের প্রভাব আরও ঘনিষ্ঠভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। প্রদত্ত প্রবন্ধটি নিউ ইয়র্ক সিটির কথা বলছে, যেখানে অধিকাংশ ডেলিভারি ই-বাইকে হয়, এবং যেখানে বিস্তৃত ডেলিভারি প্রশিক্ষণ ও আরও নিরাপদ অবকাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বড় শিক্ষা হলো, প্রণোদনা ঠিকমতো সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সুবিধার জন্য ট্রাফিক-নিরাপত্তার মূল্য দিতে হয়। গ্রাহকরা দ্রুত খাবার চান। প্ল্যাটফর্ম নির্ভরযোগ্য সময় চায়। ড্রাইভাররা আয় চান। এই স্বার্থগুলো পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া জনসড়কে মিলিত হলে, চাপ প্রায়ই সবচেয়ে কম দরকষাকষির ক্ষমতা এবং সবচেয়ে বেশি শারীরিক ঝুঁকিতে থাকা কর্মীর ওপর এসে পড়ে।

গবেষণাটি ডেলিভারি নিরাপত্তা নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে: প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প যদি আরও নিরাপদ রাস্তা চায়, তাহলে শুধু ড্রাইভারদের আচরণ নয়, টিপিংয়ের গতিবিদ্যা, সময়-সংক্রান্ত মেট্রিকস, এবং নীরবে তাড়াহুড়োকে পুরস্কৃত করে এমন পণ্য-নিয়মও পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

এই নিবন্ধটি Jalopnik-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on jalopnik.com