সামুদ্রিক পারমাণবিক শক্তির জন্য নতুন বহুজাতিক উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পঁচিশটি সদস্য দেশ সমুদ্রে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। Atomic Technologies Licensed for Applications at Sea, বা ATLAS নামে এই কর্মসূচি দুটি সম্পর্কিত ক্ষেত্রকে সমর্থন করার জন্য তৈরি: পারমাণবিক-চালিত বেসামরিক জাহাজ এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

প্রদত্ত উৎস পাঠ অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি সামুদ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরিয়ে এমন পারমাণবিক প্রযুক্তির দিকে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যা উপকূলীয় পরিবেশে এবং খোলা সমুদ্রে কাজ করতে পারে। বড় পরিসরে কোনো জাহাজ মোতায়েনের আগেই এর নীতিগত তাৎপর্য স্পষ্ট। বহু বছর ধরে সামুদ্রিক পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে সীমিতই ছিল। ATLAS ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকারগুলো এখন লাইসেন্সিং, নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ পর্যন্ত গ্রহণের জন্য আরও সমন্বিত পথ চাইছে।

অংশগ্রহণকারী ২৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, ভারত, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, গ্রিস, মাল্টা, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, স্লোভেনিয়া, তুর্কিয়ে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি বড় অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে, ফলে এই উদ্যোগটি একটি ছোট পাইলট জোটের তুলনায় বেশি ওজন বহন করে।

সামুদ্রিক খাত আবার কেন পারমাণবিক শক্তির দিকে তাকাচ্ছে

সমুদ্রে পারমাণবিক প্রপালশনের যুক্তি নতুন নয়, তবে এখন আবার তা গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ ডিকার্বনাইজেশনের চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। উৎস পাঠ অনুযায়ী, পারমাণবিক-চালিত জাহাজ চলার সময় শূন্য কার্বন নির্গমন দিতে পারে, ঘন ঘন জ্বালানি ভরার প্রয়োজন এড়াতে পারে, এবং প্রচলিত জাহাজ যেসব জ্বালানি-সাশ্রয়ী আপস করে তা ছাড়াই পূর্ণ গতি বজায় রাখতে পারে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো দীর্ঘপথের কার্গো রুট, বিশেষায়িত শিল্প কার্যক্রম এবং দূরবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পারমাণবিক শক্তিকে কাগজে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে। ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও একই যুক্তির অংশ। স্থলভাগের রিঅ্যাক্টর থেকে দীর্ঘ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পাঠানোর বদলে, অপারেটররা উৎপাদন সম্পদকে উপকূলীয় চাহিদা কেন্দ্র বা শিল্পস্থলের কাছে রাখতে পারে। কিছু দেশের জন্য এটি বিদ্যুৎ-সহনশীলতা, সামুদ্রিক লজিস্টিকস বা কঠিনভাবে বিদ্যুতায়িত করা যায় এমন খাতের জন্য নতুন একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে।

তবে, এই ধারণা ঐতিহাসিকভাবে কাঁচা প্রকৌশলগত অসম্ভবতার কারণে কম এবং অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা ও জনসমর্থনের অভাবের কারণে বেশি বাধার মুখে পড়েছে। উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৯ সালে NS Savannah, একটি পারমাণবিক-চালিত কার্গো জাহাজ, চালু করেছিল, এবং পরবর্তী দশকগুলোতে অন্য দেশগুলোও অনুরূপ প্রকল্প নিয়েছিল। প্রযুক্তিগতভাবে, সেই জাহাজগুলো যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করেছিল। বাণিজ্যিকভাবে, সেগুলো খুব ব্যয়বহুল হওয়ায় টেকসই মডেল তৈরি করতে পারেনি।

এই ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক পারমাণবিক সমর্থকেরা প্রায়ই ব্যাখ্যা করতে পেরেছেন কেন প্রযুক্তিটি কাজ করতে পারে, কিন্তু কেন এটি সস্তা হবে, বীমা করা সহজ হবে, বা বিদ্যমান ব্যবস্থার তুলনায় বন্দরে প্রবেশ করা সহজ হবে, তা ব্যাখ্যা করতে পারেননি। ATLAS উদ্যোগটি স্বীকার করছে বলে মনে হয় যে এসব সমস্যা সমাধান করতে শুধু রিঅ্যাক্টর ডিজাইন যথেষ্ট নয়। এর জন্য সমন্বিত নিয়ম এবং রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন।

নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং খরচই এখনও আসল বাধা

উৎস পাঠ তিনটি বড় বাধার কথা বলছে: বন্দর প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা এবং খরচ। বন্দর প্রবেশাধিকার একটি মৌলিক কিন্তু গুরুতর সমস্যা। রিঅ্যাক্টরচালিত বেসামরিক জাহাজ প্রযুক্তিগতভাবে ঠিক থাকলেও, তাকে অবশ্যই সেইসব স্থানে প্রবেশের অনুমতি পেতে হবে যেখানে বৈশ্বিক বাণিজ্য আসলে হয়। নিরাপত্তা মান, পরিদর্শন, জরুরি পদ্ধতি, দায়বদ্ধতা এবং সীমান্তপারের তত্ত্বাবধানের জন্য একীভূত কাঠামো ছাড়া অনেক বন্দর পারমাণবিক-চালিত বাণিজ্যিক জাহাজকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী হবে না।

নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও স্পষ্ট। বেসামরিক সামুদ্রিক রুটগুলো ভিড়ভাট্টা সংকীর্ণ পথ, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল অঞ্চল এবং জলদস্যুতা বা নাশকতার ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমার মধ্য দিয়ে যায়। সমুদ্রে পারমাণবিক উপাদানের উপস্থিতি বাড়ানোর যেকোনো পরিকল্পনাকে শারীরিক সুরক্ষা, নাবিকদের প্রশিক্ষণ, জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং বেসামরিক রিঅ্যাক্টর-সংক্রান্ত ঘটনার ভূরাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। উৎস পাঠ এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেছে, যেখানে জলদস্যুদের পারমাণবিক উপাদানে পৌঁছে যাওয়ার বিপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তারপর খরচ, যা আগের আগ্রহকে ভেঙে দিয়েছিল। এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বেশ কিছু পারমাণবিক স্টার্টআপ ছোট রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের ওপর কাজ করছে, যাতে মূলধন খরচ কমে এবং মোতায়েনের সুযোগ বাড়ে। কিন্তু প্রদত্ত উৎস বলছে না যে এসব অর্থনৈতিক প্রশ্ন ইতিমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে। বরং, এটি ATLAS-কে আরও গুরুতর রূপান্তর শুরু করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতের যেকোনো বড় পরিসরের সম্প্রসারণের জন্য নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় পূর্বশর্ত।

এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা। যদি সামুদ্রিক পারমাণবিক ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তবে তা সম্ভবত প্রথমে সীমিত কিছু প্রয়োগের মাধ্যমে হবে, বিশ্বব্যাপী জাহাজ বহরে সঙ্গে সঙ্গেই মূলধারার গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে নয়।

ভূরাজনীতি পৃষ্ঠের ঠিক নিচেই আছে

দেশগুলোর তালিকাও একটি ভূরাজনৈতিক স্তর প্রকাশ করে। উৎস পাঠে বলা হয়েছে, রাশিয়া এবং চীন এই উদ্যোগে নেই, যদিও উভয় দেশ ইতিমধ্যেই অল্প কয়েকটি ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালায়, এবং রাশিয়া একটি পারমাণবিক-চালিত আর্কটিক বহরও পরিচালনা করে, যার মধ্যে আইসব্রেকার ও একটি কার্গো জাহাজ রয়েছে। এই অনুপস্থিতি ATLAS-কে শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমন্বয় প্রচেষ্টা নয়, বরং পশ্চিমা এবং পশ্চিম-সংযুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত সমন্বয় হিসেবেও দেখায়।

এর মানে এই নয় যে উদ্যোগটি পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক। বেসামরিক জ্বালানি, শিপিং দক্ষতা, নির্গমন হ্রাস, এবং শিল্পনীতি সবই বাস্তব চালিকা শক্তি। কিন্তু পারমাণবিক প্রযুক্তি খুব বেশি দিন কৌশলগত প্রতিযোগিতার বাইরে থাকে না। মানদণ্ড, লাইসেন্সিং পদ্ধতি, সরবরাহ শৃঙ্খল, রপ্তানি কাঠামো, এবং পরিচালনাগত নিয়ম ভবিষ্যতের ব্যবস্থা কে তৈরি করবে এবং কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, তা নির্ধারণ করতে পারে। শুরুতেই সংগঠিত হয়ে ATLAS সদস্যরা বাজার পুরোপুরি গঠিত হওয়ার আগে এই নিয়মগুলো প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক কার্গো জাহাজ নির্মাণে আগ্রহের উল্লেখও দেখায়, গতি কোথা থেকে আসতে পারে। উন্নত জাহাজ নির্মাণ খাত এবং শক্তিশালী পারমাণবিক প্রকৌশলভিত্তি থাকা দেশগুলোই সম্ভবত প্রথম এই ধারণা পরীক্ষা করবে। প্রাথমিক মোতায়েন হলে, তা সম্ভবত সেখানেই দেখা যাবে যেখানে শিল্পক্ষমতা, রাষ্ট্রসমর্থন এবং রপ্তানি-আকাঙ্ক্ষা আগে থেকেই একত্রিত।

ধারণা থেকে বাস্তবায়ন এখনও অনেক দূরে

সুতরাং ATLAS-কে আসন্ন সামুদ্রিক পারমাণবিক উত্থানের প্রমাণের বদলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকেত হিসেবে বোঝাই সবচেয়ে ভালো। এই উদ্যোগ আগের দশকগুলোর বাণিজ্যিক ব্যর্থতা মুছে দেয় না, আবার পারমাণবিক শিপিং ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখা নিরাপত্তা, বীমা এবং অবকাঠামোগত প্রশ্নও সমাধান করে না। তবে এটি দেখায় যে IAEA-র ছাতার নিচে আনুষ্ঠানিক সমন্বয় শুরু করার মতো সম্ভাবনা এই ধারণায় যথেষ্ট আছে বলে এখন একটি বড় সরকারি জোট মনে করছে।

  • ATLAS পারমাণবিক-চালিত বেসামরিক জাহাজ এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
  • এই উদ্যোগে ২৫টি IAEA সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে, যা বড় শিপিং ও জ্বালানি অর্থনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে।
  • এর মূল প্রতিশ্রুতি হলো কম-নির্গমন সামুদ্রিক জ্বালানি, কিন্তু এর প্রধান বাধা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং খরচ।
  • রাশিয়া ও চীনের অনুপস্থিতি এই প্রচেষ্টাকে স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক মাত্রা দেয়।

ATLAS বিস্তৃত মোতায়েনের দিকে যাবে কিনা, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ধাপের ওপর: সাধারণ লাইসেন্সিং পদ্ধতি, প্রদর্শনী প্রকল্প, গ্রহণযোগ্য অর্থনীতি এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। এখনকার জন্য, এই উদ্যোগ নীতির একটি মোড় নির্দেশ করে। সরকারগুলো আর সমুদ্রে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিকে শুধু একটি ঐতিহাসিক কৌতূহল বা সীমিত প্রকৌশল-ধারণা হিসেবে দেখছে না। তারা এটিকে ভবিষ্যতের সামুদ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার সম্ভাব্য অংশ হিসেবে সংগঠিত করতে শুরু করেছে।

এই নিবন্ধটি Jalopnik-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on jalopnik.com