ব্যর্থ এক মিল্কি ওয়ে দৃশ্যও একটি দরকারি বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন রেখে গিয়েছিল

২০১৪ সালে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা G2 নামে একটি বস্তুকে খুব কাছ থেকে Sagittarius A*-এর পাশ দিয়ে যেতে মনোযোগ দিয়ে দেখেছিলেন, যা মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল। অনেকেই জোরালো বিস্ফোরণমূলক দৃশ্যের আশা করেছিলেন। যদি বস্তুটিকে আরও সরাসরি টেনে নেওয়া হতো, তাহলে ব্ল্যাক হোলের চারপাশে উত্তপ্ত পদার্থ থেকে উজ্জ্বল একটি ফ্লেয়ার তৈরি হতে পারত। কিন্তু, সরবরাহকৃত উৎস পাঠ অনুযায়ী, G2 সেই flyby-তে টিকে যায় এবং একটি সংক্ষিপ্ত কক্ষপথে চলতে থাকে। প্রত্যাশিত outburst না আসাই ঘটনাটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যবান করে তুলেছিল।

প্রত্যাশা ও ফলাফলের এই অমিল Syracuse University এবং University of Zurich-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন কাজের পটভূমি তৈরি করে। তাঁদের কম্পিউটার সিমুলেশনগুলো ব্যাখ্যা করতে চাইছে, একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের সঙ্গে নক্ষত্রের ঘনিষ্ঠ সংঘর্ষ কখন নাটকীয় ফ্লেয়ারে পরিণত হয় আর কখন প্রায় কিছুই ঘটে না।

মহাজাগতিক tidal disruption ঘটনাগুলোই লুকানো ব্ল্যাক হোল অধ্যয়নের অন্যতম বিরল উপায়

সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সরাসরি আলো ছাড়ে না, কিন্তু তাদের চারপাশের পদার্থ তা করতে পারে। যখন কোনো নক্ষত্র ধ্বংসাত্মক সংঘর্ষে পড়ে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সেটিকে tidal disruption event, বা TDE, বলেন। উৎস পাঠে বর্ণিত দৃশ্যপটে, নক্ষত্রটি ভিতরের দিকে ঘুরতে ঘুরতে ছিঁড়ে যায়, আর তার কিছু ধ্বংসাবশেষ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে একটি accretion disk গঠন করে। সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ঘর্ষণ পদার্থটিকে এমনভাবে উত্তপ্ত করে যে তা তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে, কখনও কখনও হোস্ট গ্যালাক্সির চেয়েও উজ্জ্বল হয়ে।

এই কারণেই TDE-গুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো এমন ব্ল্যাক হোলগুলোকে অধ্যয়নের সবচেয়ে স্পষ্ট পর্যবেক্ষণমূলক পথগুলোর একটি, যেগুলো অন্যভাবে দেখা কঠিন। Syracuse University-এর Eric Coughlin, যাকে উৎসে উদ্ধৃত করা হয়েছে, বলেন যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা tidal disruption ঘটনাগুলো ব্যবহার করে Sagittarius A* এবং অন্যান্য গ্যালাক্সিতে থাকা অনুরূপ অবজেক্টসহ দৃশ্যের বাইরে লুকিয়ে থাকা ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।