নাসা এক বিরল সূর্যগ্রহণকে চলমান পর্যবেক্ষণাগারে পরিণত করছে

12 আগস্ট, 2026-এর পূর্ণ সূর্যগ্রহণের জন্য নাসা একটি ব্যতিক্রমীভাবে গতিশীল বিজ্ঞান অভিযান প্রস্তুত করছে। একটি উচ্চ-উচ্চতার গবেষণা জেট এবং বৈজ্ঞানিক বেলুন ব্যবহার করে সূর্যের করোনা এবং সূর্যালোকের হঠাৎ হ্রাসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কী পরিবর্তন ঘটে, তা অধ্যয়ন করা হবে। এই গ্রহণপথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের ওপর দিয়ে যাবে, ফলে গবেষকদের এমন কিছু প্রক্রিয়া দেখার জন্য একটি ছোট কিন্তু মূল্যবান সময়সীমা মিলবে, যেগুলো সাধারণ পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সংক্ষিপ্ত, ভৌগোলিকভাবে সরু ঘটনা। কিন্তু এগুলো পৃথিবীতে থাকা গবেষকদের জন্য সূর্যের ক্ষীণ বাইরের বায়ুমণ্ডল, অর্থাৎ করোনা, সরাসরি অধ্যয়নের অন্যতম বিরল সুযোগ, এমনভাবে যা প্রচলিত পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি মেলাতে পারে না। আকাশের সাময়িক অন্ধকার বায়ুমণ্ডলবিজ্ঞানের জন্যও একটি প্রাকৃতিক পরীক্ষা তৈরি করে, তাই নাসা বলছে 2026-এর ঘটনাটি কেবল গ্রহণের ছবি তোলা বা জনসচেতনতার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই দ্বৈত মনোযোগই এই অভিযানের বিশেষত্ব। এক অংশ বাহিরের দিকে, করোনা-র গঠন ও আচরণের দিকে কেন্দ্রীভূত। অন্য অংশটি আবার পৃথিবীর দিকে, জিজ্ঞাসা করছে গ্রহণপথে আসা সৌর বিকিরণ হঠাৎ কমে গেলে বায়ুমণ্ডল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। নাসার পরিকল্পনা এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ভিন্ন ভিন্ন আকাশপথের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

WB-57 জেট চাঁদের ছায়াকে অনুসরণ করবে

সৌর পর্যবেক্ষণ প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে নাসার WB-57 উচ্চ-উচ্চতার গবেষণা বিমান। বিমানের নাকের অংশে চারটি ক্যামেরার একটি সেট বসানো হয়েছে, যা ল্যাংলি রিসার্চ সেন্টারে নাসার Scientifically Calibrated In-Flight Imagery, বা SCIFLI, দলের তৈরি যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্মিত। গ্রহণের সময় এই ক্যামেরাগুলো করোনা-র উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি একাধিক দৃশ্যমান ও ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সংগ্রহ করবে।

নাসা বলছে, ক্যামেরা সিস্টেমটি প্রতি সেকেন্ডে অন্তত 20টি ছবি তুলবে। এই গতি বিজ্ঞানীদের পূর্ণতার সময় করোনা-র ভেতরের গঠন, বহিঃপ্রবাহ এবং দ্রুত পরিবর্তন নথিভুক্ত করতে সহায়তা করার জন্য নির্ধারিত। লক্ষ্য শুধু চমকপ্রদ ছবি তোলা নয়, বরং সূর্য তার বাইরের স্তরগুলোতে কীভাবে আচরণ করে, তার ভৌত সূত্রও বের করা।

গবেষকরা আশা করছেন, এই তথ্য একাধিক ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বাড়াবে। নাসার মতে, এসব ছবি সূর্যের পৃষ্ঠের ওপর ঝুলে থাকা সৌর পদার্থের গঠন, অর্থাৎ prominences, সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরও জানতে সাহায্য করতে পারে। পর্যবেক্ষণগুলো করোনা নিজেকেও ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করবে, যার মধ্যে এটি কেন প্রায় এক মিলিয়ন ডিগ্রি পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়, সে প্রশ্নও আছে। আরেকটি প্রশ্ন করোনা-র উপাদান এবং সৌর বায়ুর সম্পর্ক নিয়ে; এটি সূর্য থেকে বাইরে সৌরজগত জুড়ে বয়ে যাওয়া কণার স্রোত।

এগুলো সরু একাডেমিক প্রশ্ন নয়। সূর্য উপগ্রহ, মহাকাশচারী এবং পৃথিবী ও তার চারপাশের সিস্টেমগুলিকে প্রভাবিত করে। নাসার গ্রহণ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক কেলি করেক বলেছেন, পূর্ণতার মুহূর্তে পাওয়া অনন্য পর্যবেক্ষণমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে সেই প্রভাব বোঝার কাজ এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ এই সময়।

উড়ে যাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ

WB-57-এর প্রধান সুবিধা শুধু উচ্চতা নয়। সেটি গতিশীলতা। মাটিতে, এই গ্রহণে করোনা-র সবচেয়ে দীর্ঘ দৃশ্য হবে 2 মিনিট 18 সেকেন্ড, বলছে নাসা। গ্রহণপথ ধরে ঘণ্টায় প্রায় 460 মাইল বেগে উড়ে, জেটটি চাঁদের ছায়ার মধ্যে বেশি সময় থাকতে পারে এবং পর্যবেক্ষণের সময়কে প্রায় তিন মিনিটে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এই বাড়তি সময় সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু গ্রহণ বিজ্ঞানে এটি গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণতা হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল ডিস্ক পুরোপুরি ঢেকে দেয় এবং অনেক ম্লান করোনা দৃশ্যমান হয়। প্রতিটি অতিরিক্ত সেকেন্ড গবেষকদের আরও ফ্রেম, আরও তরঙ্গদৈর্ঘ্য কাভারেজ, এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল গঠন ধরার আরও সুযোগ দেয়, যা অন্যথায় চোখ এড়িয়ে যেতে পারত।

বিমানের 50,000 ফুট অপারেটিং উচ্চতা আরেকটি সুবিধা দেয়, কারণ এটি পর্যবেক্ষণকে মেঘের ওপরে নিয়ে যায়, যা সহজেই ভূমিভিত্তিক দেখার চেষ্টা নষ্ট করতে পারে। গ্রহণ গবেষণায় গতিশীলতা ও উচ্চতা মিলে দুটি বড় সীমাবদ্ধতা কমায়: সীমিত সময়কাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়া।

নাসা এর আগে 8 এপ্রিল, 2024-এর পূর্ণ সূর্যগ্রহণে একই ক্যামেরা সিস্টেম WB-57-এ উড়িয়েছিল। সংস্থাটি বলছে, সেই আগের উড়ানগুলো একাধিক দৃশ্যমান ও ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে করোনা এবং সৌর prominences-এর ছবি তুলেছিল। 2026 সালে একই সিস্টেম পুনরায় ব্যবহার করলে দলটি ধারাবাহিকতা পায়, ফলে তারা আগের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে এগোতে পারে, শূন্য থেকে শুরু করতে হয় না।

বেলুন বায়ুমণ্ডলের প্রতিক্রিয়া দেখবে

এই গ্রহণ অভিযান কেবল সৌর পদার্থবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ নয়। নাসা বলছে, দিনের আলো সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন গবেষণার জন্য বৈজ্ঞানিক বেলুনও ব্যবহার করা হবে। কাজের এই অংশ পূর্ণ গ্রহণের একটি মৌলিক সত্যকে তুলে ধরে: এগুলো শুধু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, আমাদের ওপরের বাতাসে হঠাৎ নেমে আসা পরিবেশগত পরিবর্তনও।

দেওয়া প্রতিবেদনে প্রতিটি বেলুন যন্ত্র বা পরিমাপের লক্ষ্য বিস্তারিত নেই, তবে কাঠামো স্পষ্ট। চাঁদের ছায়া উপর দিয়ে সরে গেলে বায়ুমণ্ডলে তাপের একটি হঠাৎ, স্থানীয় পরিবর্তন ঘটে। এতে গ্রহণ অল্পমেয়াদি সৌর বিঘ্নে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য একটি উপযোগী পরীক্ষামূলক উদাহরণ হয়ে ওঠে।

এই ধরনের পর্যবেক্ষণ হেলিওফিজিক্সকে পৃথিবী ব্যবস্থাবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে। একটি পূর্ণ গ্রহণ কার্যত একটি স্বাভাবিকভাবে নির্ধারিত বিঘ্ন-পরীক্ষা। বিজ্ঞানীরা জানেন ছায়া কোথায় যাবে এবং প্রায় কীভাবে পরিস্থিতি বদলাবে, ফলে তারা ঘটনার আগে, চলাকালীন এবং পরে পরিমাপ সংগঠিত করতে পারেন। বেলুন এই কাজের জন্য খুবই উপযুক্ত, কারণ তারা ভূমি স্টেশন ও আকাশচিত্রের পরিপূরক হিসেবে সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নমুনা নিতে পারে।

শুধু দৃশ্য নয়, লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞানী সুযোগ

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত জনমানসে নাটকীয় আকাশদর্শন ঘটনা হিসেবে আসে, কিন্তু নাসার অভিযান দেখাচ্ছে কয়েক মিনিটের অন্ধকারে কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ বিজ্ঞান গুঁজে দেওয়া যায়। সংস্থাটি এই ঘটনাকে উচ্চগতিতে এবং একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সৌর গঠন পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করছে, পাশাপাশি গ্রহণকে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক করিডরে সংঘটিত নিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলীয় বিঘ্ন হিসেবেও দেখছে।

গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেন জুড়ে 12 আগস্টের পথ এই পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিক চরিত্রও নির্ধারণ করে। পূর্ণতা একাধিক অঞ্চলে ঘটায়, গবেষকরা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দেখার ও পরিমাপের কৌশল সমন্বয় করতে পারেন। আকাশপথের এই পদ্ধতি সেই পরিকল্পনায় স্থিতিস্থাপকতা যোগ করে, বিশেষ করে যেখানে স্থানীয় মেঘ আকাশ-ভিত্তিক কাজ ব্যাহত করতে পারত।

নাসা মিশনটি যেভাবে উপস্থাপন করছে, তাতে আরও একটি বৃহত্তর কৌশলগত দিক আছে। সংস্থাটি গ্রহণবিজ্ঞানকে সরাসরি সূর্যের দৈনন্দিন জীবন, উপগ্রহ এবং মহাকাশে মানব কার্যকলাপের ওপর প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করছে। এতে এই অভিযান বিশেষায়িত পর্যবেক্ষণ ব্যায়ামের চেয়ে বেশি কিছু হয়ে ওঠে। এটি আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের তৈরি পরিবেশ এবং সেই পরিবেশ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা বোঝার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হয়ে যায়।

জনসাধারণের জন্য, গ্রহণ তখনও এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হবে। নাসার জন্য, এটি খুব কম ত্রুটির সুযোগসহ সময়-নির্ধারিত গবেষণার একটি সুযোগ, যার বৈজ্ঞানিক ফল অত্যন্ত বেশি হতে পারে। চাঁদের ছায়া ধাওয়া করা WB-57 এবং বায়ুমণ্ডল অনুসন্ধানকারী বেলুন এমনই একটি মুহূর্তের জন্য তৈরি: সংক্ষিপ্ত, বিরল, এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সমৃদ্ধ।

যদি এই অভিযান সফল হয়, তা হলে করোনা-র নতুন পর্যবেক্ষণ, বর্ধিত আকাশভিত্তিক পূর্ণতা-তথ্য, এবং গ্রহণ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিক্রিয়ার নতুন মাপজোক মিলবে। এগুলো আলাদা ফলাফল, কিন্তু একই মূল ধারণায় যুক্ত। কয়েক মিনিটের অন্ধকারও ওপরের সূর্য এবং নিচের গ্রহ সম্পর্কে অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারে।

এই নিবন্ধটি science.nasa.gov-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on science.nasa.gov