নতুন একটি মডেল গ্রহবিজ্ঞানের অন্যতম পুরোনো প্রশ্নগুলোর পুনর্বিবেচনা করছে

পৃথিবী কীভাবে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান পেল, তা গ্রহবিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক উন্মুক্ত প্রশ্ন। প্রদত্ত উৎস উপাদানে তুলে ধরা নাসা-সমর্থিত একটি গবেষণা বলছে, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বৃহস্পতির জন্য একটি সংশোধিত ভূমিকা বিবেচনা করতে হতে পারে। লেট হেভি বম্বার্ডমেন্টের সময় মূলত পরে আসা বহিঃসৌরজগতীয় পদার্থের ওপর নির্ভর করার বদলে, গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে বৃহৎ গ্রহটি অনেক আগেই জীবনের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলোকে অন্তঃসৌরজগতে পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।

প্রচলিত ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সরল ছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে, প্রাথমিক পৃথিবী ধূমকেতু ও গ্রহাণু থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বায়ী এবং জীববিজ্ঞানের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পেয়েছিল, যেগুলি সূর্য থেকে আরও দূরে তৈরি হয়েছিল; পরে সংঘর্ষের ফলে পানি এবং রাসায়নিক বিল্ডিং ব্লক সরবরাহ করা হয়। উৎস বলছে, এই মানক কাঠামোতে প্রায়ই বহিঃসৌরজগতীয় কনড্রাইটকে সম্ভাব্য বাহক হিসেবে ধরা হয়। তবে নতুন গবেষণা ওই ব্যাখ্যার সময়-ক্রমকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদি ওই উল্কাপিণ্ডের উৎস-দেহগুলো সৌরজগতের প্রথম কঠিন পদার্থের দুই থেকে চার মিলিয়ন বছর পরে তৈরি হয়ে থাকে, তবে জীবনের অপরিহার্য উপাদানের সবচেয়ে প্রাথমিক সরবরাহের ব্যাখ্যা দিতে সেগুলো খুব দেরিতে এসে থাকতে পারে।

রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল উৎস লেখায় CHNOPS নামে সংক্ষেপিত জীবনের অপরিহার্য উপাদানের উৎপত্তির ওপর নজর দেয়: কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস এবং সালফার। এগুলি পরিচিত জীবনের ভিত্তি, কিন্তু প্রশ্নটি এই নয় যে এগুলি তরুণ সৌরজগতে ছিল কি না। প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কখন সেগুলি সেই পদার্থে যুক্ত হলো, যা স্থলজ গ্রহগুলো গঠন করেছিল। এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পৃথিবী তার ইতিহাসের খুব শুরুতেই বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল বলে মনে হয়, এবং প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর আগে জীবনের উদ্ভব হয়েছিল বলে প্রমাণ রয়েছে।

এই গবেষণার গুরুত্ব গ্রহগত গতিবিদ্যা ও গ্রহ-রসায়নকে যুক্ত করার মধ্যে নিহিত। এই মডেলে বৃহস্পতি শুধু আরেকটি গ্রহ নয়। সৌরজগতের প্রধান মহাকর্ষীয় নিয়ামক হিসেবে, এটি প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কের মধ্যে পদার্থ কীভাবে চলেছে এবং গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অন্তঃগ্রহগুলোর জন্য কোন কোন ভান্ডার উন্মুক্ত ছিল, তা প্রভাবিত করতে পারত। অন্য কথায়, বৃহৎ গ্রহটি দূরের পটভূমি চরিত্রের চেয়ে পৃথিবীর রাসায়নিক শুরুর শর্তের স্থপতি হিসেবে বেশি কাজ করে থাকতে পারে।

এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি পরিবর্তন, কারণ এটি উপাদান সরবরাহের পুরোনো গল্পকে বাছাই ও পরিবহণের আরও জটিল কাহিনিতে রূপ দেয়। বাসযোগ্য উপাদানগুলো মূলত সৌরজগতের বিবর্তনের পরবর্তী পরিস্কার-পর্বে এসে পৌঁছেছিল বলে ধরে নেওয়ার বদলে, গবেষণাটি বলছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রসায়ন কক্ষীয় গঠন ও বৃহৎ গ্রহের প্রভাবে গড়ে ওঠা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগেই বিতরণ হয়ে থাকতে পারে। তা সত্যি হলে, পৃথিবীর গঠন এবং জীবনকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর অর্জনের মধ্যকার ব্যবধান কমে যাবে।

উৎস লেখাটি গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করেছে। পৃথিবীর জীবন-রসায়নের উৎস আগের তারকাপ্রজন্মে তৈরি হওয়া ভারী মৌলগুলো এবং সূর্য ও গ্রহ তৈরি করা নীহারিকায় সেগুলোর অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে যুক্ত। সেই মহাজাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সমস্যা উপাদানের অস্তিত্ব নয়, বরং নক্ষত্রীয় ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি জীবন্ত পৃথিবীতে পৌঁছানোর পথ। তাই বৃহস্পতির প্রস্তাবিত ভূমিকা জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, ভূ-রসায়ন এবং গ্রহ-গঠন তত্ত্বের সংযোগস্থলে অবস্থান করে।

গবেষকদের কেন আগ্রহী করবে

  • এই গবেষণা বহিঃসৌরজগতীয় কনড্রাইটের মাধ্যমে পরে সরবরাহের একটি বহুল উদ্ধৃত ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে।
  • এতে বলা হচ্ছে, ওই পদার্থগুলোর সময়-ক্রম জীবনের অপরিহার্য উপাদানের সবচেয়ে প্রাথমিক সরবরাহের সঙ্গে খাপ নাও খেতে পারে।
  • রাসায়নিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ অন্তঃসৌরজগতে কীভাবে চলাচল করেছে, তাতে বৃহস্পতির প্রভাব থাকতে পারে।
  • এই ফলাফল পৃথিবীতে প্রাথমিক বাসযোগ্যতা কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তার মডেল বদলে দিতে পারে।

প্রাথমিক সৌরজগতের ইতিহাসের অন্য যেকোনো পুনর্ব্যাখ্যার মতোই, নতুন এই প্রস্তাব বিতর্কের ইতি টানবে বলে মনে হয় না। তবে এটি বিতর্কটিকে গুরুত্বপূর্ণভাবে আরও স্পষ্ট করে। যদি বৃহস্পতি পৃথিবীর মৌলিক জীবন-রসায়ন কখন এবং কীভাবে এসে পৌঁছেছিল তা নির্ধারণে সাহায্য করে থাকে, তবে বাসযোগ্যতার উদ্ভব সম্ভবত যতটা না ছোট বস্তুদের ওপর নির্ভর করেছিল, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করেছিল বৃহৎ গ্রহের কাঠামোর ওপর। তাহলে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির কাহিনি শুধু রসায়নের প্রশ্ন থাকত না, বরং পুরো ব্যবস্থার মাত্রায় আকাশীয় গতিবিদ্যার প্রশ্নও হয়ে উঠত।

এই নিবন্ধটি Universe Today-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on universetoday.com