চিন্তানিরীক্ষা থেকে মিশনের খসড়া
একটি মহাকাশযানকে ব্ল্যাক হোলে পাঠানো সায়েন্স ফিকশনের জন্য সংরক্ষিত ধরনের ধারণা মনে হতে পারে, কিন্তু সরবরাহ করা উৎস পাঠ্য বলছে যে এই প্রশ্নের আরও প্রযুক্তিগত একটি রূপ এখন গবেষণায় আকার নিচ্ছে। Universe Today-এ আলোচিত একটি সাম্প্রতিক প্রিপ্রিন্ট পরীক্ষা করছে, কাছাকাছি একটি নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোলে গ্রাম-স্তরের প্রোব পাঠাতে কী প্রয়োজন হবে; তা আগামীকাল নয়, এবং বর্তমান উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গেও নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মিশন নকশার সীমার মধ্যে।
সূত্রে শাংহাইয়ের Fudan University-এর Cosimo Bambi-এর কাজ হিসেবে বর্ণিত এই প্রবন্ধটি একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রেরণা দিয়ে শুরু হয়। ব্ল্যাক হোল পরিচিত সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী মহাকর্ষ ক্ষেত্রগুলিতে প্রবেশাধিকার দেয়, যা তাদের সাধারণ আপেক্ষিকতা পরীক্ষার জন্য অনন্যভাবে মূল্যবান পরিবেশ করে তোলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনেক কিছু শিখেছেন, কিন্তু উৎসের মতে এই পদ্ধতি কিছু প্রশ্নের ক্ষেত্রে তার সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি খুব ছোট একটি সরাসরি প্রোবও তত্ত্বগতভাবে এমন পরিমাপ দিতে পারে যা পৃথিবী থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।
এর মানে এই নয় যে মিশনটি কাছাকাছি। প্রবন্ধটি স্পষ্ট করে যে ধারণাটি অত্যন্ত অনুমাননির্ভর রয়ে গেছে এবং প্রথমে একটি উপযুক্ত লক্ষ্য খুঁজে বের করা, তারপর এমন প্রোপালশন ও যন্ত্রপাতি তৈরি করা, যা আজকের প্রচলিত রকেটগুলির পক্ষে উপকারী সময়সীমায় আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণের জন্য যা দিতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশি।
প্রথম সমস্যা হলো কাছাকাছি লক্ষ্য খুঁজে বের করা
উৎস পাঠ্য বলছে, সর্বনিকট পরিচিত ব্ল্যাক হোল Gaia BH1, যা Ophiuchus নক্ষত্রমণ্ডলে প্রায় 1,560 আলোকবর্ষ দূরে। ওই দূরত্বে, যেকোনো প্রোব মিশন কার্যত বর্তমান প্রকৌশলের নাগালের বাইরে। কিন্তু প্রিপ্রিন্টের বিস্তৃত বক্তব্যটি পরিসংখ্যানভিত্তিক: মিল্কি ওয়ে-তে প্রায় 100 মিলিয়ন নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোল থাকতে পারে, এবং তাদের প্রায় 92% উজ্জ্বল সঙ্গী নক্ষত্রের সাথে জোড়া নয়, বরং বিচ্ছিন্ন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিচ্ছিন্ন ব্ল্যাক হোল শনাক্ত করা কঠিন। কাছাকাছি কোনো নক্ষত্র তাদের জ্বালানি না দিলে বা তাদের মহাকর্ষকে কক্ষপথগত গতির মাধ্যমে প্রকাশ না করলে, তারা মূলত অদৃশ্যই থেকে যেতে পারে। উৎস বলছে, এমন বস্তু সহজে শনাক্তযোগ্য সংকেত বিকিরণ করার বদলে আগত আলো শোষণ করবে। বাস্তবে এর মানে হলো, বর্তমানে পরিচিত রেকর্ডধারীর চেয়েও পৃথিবীর কাছাকাছি অনেক ব্ল্যাক হোল থাকতে পারে, কিন্তু মানক পর্যবেক্ষণের চোখে তারা লুকিয়ে আছে।
উৎসে বর্ণিত প্রিপ্রিন্ট অনুযায়ী, প্রায় প্রতি 1,500 ঘন পারসেকের জন্য একটি নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোল থাকতে পারে। সেই ভিত্তিতে, প্রবন্ধটি বলছে, পৃথিবী থেকে 20 থেকে 25 আলোকবর্ষের মধ্যে একটি অনাবিষ্কৃত ব্ল্যাক হোল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটিও এখনো যেকোনো নিয়মিত মিশনের চেয়ে অনেক দূরে, কিন্তু এটি ধারণাটিকে মানবিক দৃষ্টিতে অসম্ভব থেকে অন্তত আলোচনাযোগ্য পর্যায়ে আনবে। কয়েক ডজন আলোকবর্ষ দূরের লক্ষ্যে মিশন, 1,000-এরও বেশি আলোকবর্ষ দূরের মিশন থেকে গুণগতভাবে আলাদা।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, প্রবন্ধটি বলছে যে এমন কাছের বস্তু ওই দূরত্বে সৌরজগতের জন্য কোনো হুমকি হবে না। এর তাৎপর্য বৈজ্ঞানিক, অস্তিত্বগত নয়।
গবেষকেরা কীভাবে এমন বস্তু শনাক্ত করতে পারেন
উৎস পাঠ্য একটি সম্ভাব্য শনাক্তকরণ কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে: একটি ব্ল্যাক হোল স্থানীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে আশপাশের গ্যাস সঞ্চয় করার সময় যে বিকিরণ নির্গত হয় তা পর্যবেক্ষণ করা। বিচ্ছিন্ন নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোল উজ্জ্বল সঙ্গী নক্ষত্রের মাধ্যমে নিজেদের জানান না বলে, গবেষকদের এমন পরোক্ষ পদ্ধতি দরকার হবে যা বস্তুকে নয়, তার পরিবেশগত প্রভাবকে দেখবে।
প্রবন্ধ অনুযায়ী, বর্তমান বহুতরঙ্গ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জরিপ সম্ভবত এই ধরনের সংকেত শনাক্ত করতে পারবে। যদি তা সত্যি হয়, তবে ভবিষ্যৎ ব্ল্যাক হোল প্রোবের প্রথম সহায়ক ধাপ হলো প্রোপালশন নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞান। প্রকৌশলীরা পে-লোডের ভর, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ফ্লাইবাই ট্র্যাজেক্টরি নিয়ে আলোচনা করার আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট কাছের একটি লক্ষ্য শনাক্ত, নিশ্চিত এবং বৈশিষ্ট্যায়িত করতে হবে।
এই framing-টি উপকারী, কারণ এটি আপাতদৃষ্টিতে ব্যতিক্রমী একটি মিশনকে ইতিমধ্যেই চলতে থাকা আরও পরিচিত বৈজ্ঞানিক কাজে ভিত্তি দেয়। আকাশ জরিপ, ক্ষণস্থায়ী ঘটনা শনাক্তকরণ এবং বহু-ব্যান্ড পর্যবেক্ষণ অভিযান সক্রিয় ক্ষেত্র। তাই ব্ল্যাক হোল প্রোব ধারণাটি আংশিকভাবে এমন অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে, যা ধাপে ধাপে এগোয়, কেবল অনুমাননির্ভর নয়।
প্রোবটিকে এত ছোট হতে হবে কেন
উৎস পাঠ্য স্পষ্ট যে এই ধরনের মিশনের জন্য রকেট উত্তর নয়। যদিও প্রদত্ত অংশ পূর্ণ স্থাপত্য ব্যাখ্যা করার আগে কেটে গেছে, তার গ্রাম-আকারের প্রোবের ওপর জোরটি যুক্তিটা পরিষ্কার করে। যদি কোনো মহাকাশযানকে মানবজীবনের মধ্যে আন্তঃনাক্ষত্রিক দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়, তবে ভরই কেন্দ্রীয় সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়। বড়, শক্তিখোর মহাকাশযান অবাস্তব; অতি-হালকা প্রোবই একমাত্র ধারণা যা খসড়া করা যায়।
এটি উন্নত মিশন গবেষণার একটি বিস্তৃত প্রবণতার সাথে মেলে, যেখানে ভারী মহাকাশযানের বদলে ন্যূনতম পে-লোড রাখা হয় এবং চরম ত্বরণ ধারণা ও হালকা যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করা হয়। সুবিধা পরিষ্কার: কম ভর প্রোপালশন চাহিদা কমায়। খরচও তেমনি পরিষ্কার: প্রোবের ভর যখন কিলোগ্রাম বা টনের বদলে গ্রামে মাপা হয়, তখন যোগাযোগ, বিকিরণ সুরক্ষা, অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা ফেরত পাঠানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবু বৈজ্ঞানিক লাভ বিপুল হতে পারে। একটি ব্ল্যাক হোলের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া তার মহাকর্ষীয় পরিবেশের সরাসরি পরিমাপ, অন্য কোথাও অনুপস্থিত পরিস্থিতিতে আপেক্ষিক প্রভাবের পরীক্ষা, এবং event horizon-এর কাছে পদার্থ ও বিকিরণ কীভাবে আচরণ করে তার আরও ভাল সীমা দিতে পারে। উৎস এই ধারণাটিকে এমন এক পথে হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা কেবল দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা যায় না।
এখন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রিপ্রিন্টটির মূল্য এই নয় যে এটি একটি মিশনের প্রতিশ্রুতি দেয়, বরং এটি একটি অস্পষ্ট আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব প্রয়োজনের ধারায় সংকুচিত করে। প্রথমে, কাছাকাছি একটি বিচ্ছিন্ন নক্ষত্র-ভরের ব্ল্যাক হোল খুঁজে বের করুন। দ্বিতীয়ত, নিশ্চিত করুন যে এটি এত কাছের যে জীবনকাল-পর্যায়ের একটি মিশন অর্থপূর্ণ হয়। তৃতীয়ত, সেটি পৌঁছাতে সক্ষম একটি অতি-হালকা প্রোব স্থাপত্য নকশা করুন। কেবল এসব ধাপের পরই যন্ত্র, যোগাযোগ বা ট্র্যাজেক্টরি নিয়ে সিরিয়াসভাবে কথা বলা যায়।
এটা সাদামাটা শোনাতে পারে, কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ প্রকল্পগুলো বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সম্প্রদায়ের কাছে বোধগম্য হয়ে ওঠে এভাবেই। তারা কল্পনা থেকে রোডম্যাপে রূপ নেয় তখনই, যখন কাজ সহজ হয়ে যায় বলে নয়, বরং নির্ভরতাগুলো এত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সেগুলো মূল্যায়ন করা যায়। সেই দৃষ্টিতে, উৎসে বর্ণিত কাজটি একটি উপকারী পরিবর্তন চিহ্নিত করে। এটি ব্ল্যাক হোল প্রোবকে দর্শনীয় কিছু হিসেবে নয়, বরং সমাধানযোগ্য ও এখনো অসমাধিত সমস্যার একটি শৃঙ্খল হিসেবে দেখে।
এখনও সবচেয়ে বড় বাধা আবিষ্কারই। যদি কাছাকাছি কোনো লক্ষ্য না থাকে, তবে মিশনের ধারণা একাডেমিকই থেকে যাবে। যদি কয়েক ডজন আলোকবর্ষের মধ্যে একটি পাওয়া যায়, তাহলে আলোচনা সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাবে। তাই প্রবন্ধটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় তাৎপর্য প্রযুক্তিগত নয়, পর্যবেক্ষণমূলক হতে পারে: আকাশগঙ্গা এমন বৈজ্ঞানিকভাবে অমূল্য গন্তব্য লুকিয়ে রাখতে পারে, যা বর্তমান ক্যাটালগে দেখা দূরত্বের চেয়ে অনেক কাছাকাছি।
এই সম্ভাবনাটাই ধারণাটিকে জীবিত রাখার জন্য যথেষ্ট। মানুষ ব্ল্যাক হোল প্রোব উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত বলে নয়, বরং কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞান এখনও প্রকাশ করতে পারে যে মহাবিশ্বের সবচেয়ে চরম পরীক্ষাগারগুলোর একটি প্রত্যাশার চেয়ে কাছেই রয়েছে।
এই নিবন্ধটি Universe Today-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on universetoday.com




