পৃথিবীর সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত আগ্নেয় ব্যবস্থাগুলোর একটির জন্য নতুন মডেল

ইয়েলোস্টোনের বিখ্যাত আগ্নেয় ব্যবস্থা অনেক বিজ্ঞানীর ধারণার চেয়ে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। সরবরাহকৃত উৎসপাঠ অনুযায়ী, নতুন গবেষণা বলছে যে এই অঞ্চলের অগ্ন্যুৎপাত পৃথিবীর ভূত্বকে হওয়া পরিবর্তনের দ্বারা বেশি চালিত হতে পারে, নিচ থেকে উঠে আসা গভীর ম্যাগমার একটি বড় ভাণ্ডারের চেয়ে। যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তাহলে গবেষকরা ইয়েলোস্টোনের অভ্যন্তরীণ “পাইপলাইন” কীভাবে বোঝেন এবং ভবিষ্যতের অগ্ন্যুৎপাত মডেল কীভাবে তৈরি করা উচিত, তা বদলে যাবে।

এই গবেষণা ইয়েলোস্টোনের আগ্নেয়তার উৎস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে প্রবেশ করেছে। একটি মত অনুযায়ী, অঞ্চলের নিচে একটি গভীর ম্যান্টল প্লুম অত্যন্ত উত্তপ্ত পদার্থ উপরে পাঠায়, ভূত্বককে গরম করে এবং আগ্নেয় কার্যকলাপকে জ্বালানি জোগায়। অন্য মতটি বলে, আরও গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলো ভূত্বক ও উপরের ম্যান্টলেই নিহিত, যেখানে চাপ, গঠন, এবং টেকটোনিক আচরণ ম্যাগমা কীভাবে তৈরি হয়, সঞ্চিত হয়, এবং সরে যায় তা নির্ধারণ করে।

উৎসপাঠে সংক্ষেপিত নতুন গবেষণা দ্বিতীয় ব্যাখ্যার দিকেই ঝুঁকছে। এর মানে এই নয় যে ইয়েলোস্টোন কম গুরুত্বপূর্ণ বা কম জটিল। বরং এটি বোঝায় যে গভীর উল্লম্ব পাইপলাইনের সহজ ছবির বদলে ব্যবস্থাটি ভূত্বকের আচরণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে পারে।

ঝুঁকি-বিজ্ঞানের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ইয়েলোস্টোন শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বিষয় নয়। এর ইতিহাস ও সম্ভাব্য পরিণতির কারণে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত আগ্নেয় অঞ্চলের একটি। উৎসপাঠে উল্লেখ করা হয়েছে, গত 2.1 মিলিয়ন বছরে এখানে তিনটি বড় অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে, যার সর্বশেষটি 631,000 বছর আগে ঘটে এবং বর্তমান 30 মাইলেরও বেশি বিস্তৃত ক্যালডেরা তৈরি করে।

তাই বোঝাপড়ায় কোনো পরিবর্তন একাডেমিক ভূতত্ত্বের অনেক বাইরে প্রভাব ফেলে। যদি আগ্নেয়গিরিটি প্রধানত ভূত্বকের পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ আচরণ পূর্বাভাস দিতে ভূত্বকের গতিশীলতার দিকে সতর্ক নজর দিতে হবে: এর পুরুত্ব, চাপের অবস্থা, এবং সময়ের সঙ্গে পদার্থ কীভাবে পুনর্বণ্টিত হয়। উৎসপাঠে, গবেষণার সহলেখক Lijun Liu বলেন, ভবিষ্যৎ অগ্ন্যুৎপাত মডেলে এই সংশোধিত পাইপলাইনের চিত্র অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঝুঁকি মডেল তাদের অনুমানের ওপর নির্ভর করেই কার্যকর হয়। বিজ্ঞানীরা যদি তাপ ও গলিত পদার্থ কীভাবে ব্যবস্থার ভেতর সঞ্চালিত হয় তা বোঝার জন্য ভুল মৌলিক স্থাপত্য ব্যবহার করেন, তাহলে কোথায় চাপ জমতে পারে, ভূমি কীভাবে বিকৃত হতে পারে, বা অস্থিরতার সংকেতের অর্থ কী হতে পারে, সে-সব পূর্বাভাসও সংশোধন করতে হতে পারে।