পরিচিত এক গ্যালাক্সির ওপর একটি তীক্ষ্ণ নতুন দৃষ্টি
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের যৌথ ছবি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আরও কাছ থেকে দেখতে দিচ্ছে যে নক্ষত্র গঠন কীভাবে একটি গ্যালাক্সিকে ভেতর থেকে রূপান্তরিত করে। লক্ষ্যটি হলো ঘূর্ণাবর্ত গ্যালাক্সির একটি সর্পিল বাহু, যা মেসিয়ার 51 নামেও পরিচিত, এবং যা ক্যানেস ভেনাটিসি নক্ষত্রমণ্ডলে প্রায় 31 মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
এই ছবিটি 6 মে শেয়ার করা হয়েছিল এবং একই দিনে Nature Astronomy-এ প্রকাশিত একটি বৃহত্তর গবেষণার অংশ। সরবরাহিত প্রতিবেদনের মতে, পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে বড় নক্ষত্রগুচ্ছগুলো ছোটগুলোর তুলনায় তাদের জন্মমেঘ থেকে অনেক দ্রুত বেরিয়ে আসে। এই ফলাফল জ্যোতির্বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত: ঘন গ্যাস ও ধুলোর মেঘের ভেতরে নক্ষত্র তৈরি হওয়ার ঠিক পরেই কী ঘটে।
দুটি টেলিস্কোপ একসঙ্গে যা প্রকাশ করে
এই ফলাফলের শক্তি এসেছে দুটি মানমন্দিরের সক্ষমতা একত্রিত করার মাধ্যমে। হাবল বিশদ দৃশ্যমান-আলোর দৃশ্য দেয়, আর ওয়েব অবলোহিত আলো দেখতে পারে এবং এমন নক্ষত্র শনাক্ত করতে পারে যা অন্যথায় ধুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকত। যেখানে নক্ষত্র গঠন ঘন মেঘের মধ্যে আবৃত, এমন একটি গ্যালাক্সিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলস্বরূপ ছবিতে সর্পিল বাহু জুড়ে টেনে নেওয়া লাল-কমলা রঙের গ্যাস ও ধুলোর সুতোর মতো রেখা দেখা যায়, আর ভেতর থেকে জ্বলতে থাকা নীল বুদবুদও দেখা যায়। উজ্জ্বল সাদা নক্ষত্রগুচ্ছ সেখানে দেখা যায় যেখানে গ্যাসে ফাঁক খুলে গেছে। ভৌত অর্থে, ছবিটি একটি রূপান্তর ধরেছে: নক্ষত্রেরা আড়াল করা পদার্থের মধ্যে জন্মায়, তারপর তাদের বিকিরণ, বায়ুপ্রবাহ এবং পরবর্তী সুপারনোভা কার্যকলাপ সেই পদার্থকে সরিয়ে দিতে শুরু করে।
এই প্রক্রিয়াকে stellar feedback বলা হয়, এবং এটি গ্যালাকটিক বিবর্তনের অন্যতম মূল নিয়ন্ত্রক। কোনো গ্যালাক্সির সব গ্যাস শেষ পর্যন্ত নক্ষত্রে পরিণত হয় না। তরুণ নক্ষত্রেরা যখন তাদের চারপাশে শক্তি যোগাতে শুরু করে, তখন তারা কাছাকাছি অঞ্চলে আরও সংকোচন থামাতে পারে, তাদের জন্মমেঘ ছড়িয়ে দিতে পারে, এবং ভবিষ্যৎ নক্ষত্র গঠনের গতি ও ধরন বদলে দিতে পারে।
কেন এটি শুধু একটি সুন্দর ছবি নয়
ঘূর্ণাবর্ত গ্যালাক্সি দীর্ঘদিন ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রিয় লক্ষ্য, কারণ এর সর্পিল গঠন সুস্পষ্ট এবং বহির্জাগতিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। কিন্তু এই নতুন ছবির গুরুত্ব কেবল নান্দনিক নয়, বিশ্লেষণধর্মীও। একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দেখে এবং ভিন্ন ভিন্ন গুচ্ছের তুলনা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে শুরু করতে পারেন যে তরুণ নক্ষত্রগোষ্ঠী তাদের জন্মমেঘ থেকে কত দ্রুত বেরিয়ে আসে এবং গুচ্ছের আকার অনুযায়ী তা কীভাবে বদলে যায়।
সরবরাহিত প্রতিবেদন বলছে, বড় নক্ষত্রগুচ্ছগুলো ছোটগুলোর তুলনায় ওই জন্মমেঘ দ্রুত ত্যাগ করে। এর মানে হলো, বৃহৎ নক্ষত্রগুচ্ছের আশপাশের স্থানীয় পরিবেশ আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিষ্কার হয়, সম্ভবত কারণ শক্তিশালী নক্ষত্রবায়ু, অতিবেগুনি বিকিরণ এবং পরবর্তী সুপারনোভার সম্মিলিত প্রভাব বেশি তীব্র। অন্য কথায়, বেশি নক্ষত্র একসঙ্গে কাজ করলে তাদের চারপাশকে দ্রুত রূপান্তরিত করে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ একই feedback চক্র প্রাথমিক মহাবিশ্বকেও প্রভাবিত করেছিল। আজ নক্ষত্রগুচ্ছ কীভাবে গ্যাস পরিষ্কার করে তা বোঝা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে যে মহাবিশ্ব যখন আরও তরুণ, ঘন এবং আরও সক্রিয়ভাবে নক্ষত্র গঠন করছিল, তখন গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে বিবর্তিত হয়েছিল।
কার্যরত feedback-এর দৃশ্যমান রেকর্ড
এই ছবি তত্ত্বটিকে কল্পনা করা সহজ করে তোলে। যেখানে গ্যাস ও ধুলো প্রাধান্য পায়, সেখানে নক্ষত্র গঠন আংশিকভাবে লুকানো থাকে। যেখানে বুদবুদ ও ফাঁক দেখা যায়, সেখানে feedback ইতিমধ্যে পদার্থের ভেতর দিয়ে পথ কেটেছে। সাদা গুচ্ছগুলো এমন জায়গা চিহ্নিত করে যেখানে নক্ষত্র এখন আর পুরোপুরি আবৃত নয়। ওয়েবের অবলোহিত সংবেদনশীলতা এখানে বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ এটি ধুলোময় অঞ্চলে এখনও লুকিয়ে থাকা নক্ষত্রগুলোকে উন্মোচন করতে পারে এবং সেই গোপন জনসংখ্যাকে বৃহত্তর বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।
আবদ্ধ নক্ষত্র, দৃশ্যমান গুচ্ছ, এবং পরিষ্কার হয়ে যাওয়া গহ্বরের মধ্যে এই সংযোগ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নক্ষত্র গঠনের সময়রেখার আরও অবিচ্ছিন্ন দৃষ্টি দেয়। বিচ্ছিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করার বদলে, তারা মেঘধস থেকে উদ্ভব এবং পরিবেশগত বিঘ্ন পর্যন্ত একটি ধারাবাহিকতা অনুসরণ করতে পারে।
এই গবেষণা কী যোগ করে
এই গবেষণা নক্ষত্রজন্মের সব রহস্য সমাধান করে না, তবে এটি ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে আরও স্পষ্ট করে: নবজাত নক্ষত্র এবং যে পদার্থ তাদের তৈরি করেছে তার মধ্যকার প্রাথমিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক আরও ভালোভাবে মাপা গেলে, গ্যালাক্সি কীভাবে নক্ষত্র গঠন বজায় রাখে বা দমন করে তার মডেল আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
সেই অর্থে, ঘূর্ণাবর্ত গ্যালাক্সির নতুন ছবি শুধু দুটি শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপের প্রদর্শনী নয়। এটি একটি গবেষণা সরঞ্জাম, যা একটি পরিচিত সর্পিল বাহুকে feedback পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে পরিণত করে। নক্ষত্রগুচ্ছ কীভাবে ভিন্ন গতিতে তাদের চারপাশ থেকে বেরিয়ে আসে ও তা পরিষ্কার করে তা দেখিয়ে এই পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে মহাজাগতিক সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে তা বোঝার আরও কাছে নিয়ে যায়।
এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on livescience.com

