উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে এক বড় ডাইনোসর আবিষ্কার

থাইল্যান্ডে পাওয়া জীবাশ্ম থেকে একটি নতুনভাবে বর্ণিত লম্বা-গলাযুক্ত ডাইনোসর সামনে এসেছে, যাকে গবেষকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় সোরোপড বলে মনে করছেন। Nagatitan chaiyaphumensis নামের এই প্রজাতি প্রায় ১২০ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন বছর আগে আজকের থাইল্যান্ডে বাস করত এবং প্রাথমিক ক্রিটেশিয়াস বাস্তুতন্ত্রে এক বিশাল উদ্ভিদভোজী ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

দেওয়া প্রতিবেদনের অনুযায়ী, প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৯০ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ টন। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সোরোপড না হলেও, আঞ্চলিক রেকর্ডে শীর্ষে ওঠার জন্য এবং প্রাচীন এশিয়ায় দৈত্যাকার ডাইনোসরদের বিস্তারের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

জীবাশ্ম কী দেখায়

অবশেষগুলো চায়াফুম প্রদেশের Khok Kruat Formation থেকে উদ্ধার করা হয়। ২০১৬ সালে এক স্থানীয় বাসিন্দা শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের ধারে একটি হাড়ের স্তূপে জীবাশ্মগুলো প্রথম দেখতে পান, যা পরে গুরুত্বপূর্ণ প্যালিয়োন্টোলজিক্যাল আবিষ্কারের সূচনা করে।

উদ্ধার করা উপাদানের মধ্যে ছিল vertebrae, pelvic হাড়, leg হাড়, এবং একটি ভাঙা ডান femur। ভাঙাচোরা অবস্থায়ও femur-টি প্রায় ৬.৫ ফুট লম্বা ছিল বলে অনুমান করা হয়। এই একটিমাত্র মাপই প্রাণীটির বিশালতা বোঝাতে যথেষ্ট। মানুষের উচ্চতার কাছাকাছি একটি femur দেখায় কেন এই প্রজাতি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সোরোপডদের মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়ে।

বৈজ্ঞানিকভাবে এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ

দেওয়া প্রতিবেদনে ডাইনোসরটিকে somphospondylan sauropod হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে যে নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোন ডাইনোসর গোষ্ঠী ছিল এবং সময়ের সঙ্গে শরীরের আকার, গঠন ও বিস্তার কীভাবে বদলেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দক্ষিণ আমেরিকার মতো এত বিশ্বখ্যাত বিশাল সোরোপড দেয়নি, তাই প্রতিটি সুসংরক্ষিত আবিষ্কার আঞ্চলিক জীবাশ্ম রেকর্ডকে উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে।

নতুন প্রজাতিটি আরও প্রমাণ দেয় যে প্রাথমিক ক্রিটেশিয়াস সময়ে এখনকার থাইল্যান্ডের পরিবেশে খুব বড় উদ্ভিদভোজী ডাইনোসররা ভালোভাবেই টিকে ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখন ওই অঞ্চল ছিল আধা-শুষ্ক, যা আবিষ্কারের পরিবেশগত প্রেক্ষাপট যোগ করে এবং গবেষকদের বুঝতে সাহায্য করে এই প্রাণীরা কীভাবে তাদের আবাসে বাস করত ও চলাফেরা করত।

বড়, কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় নয়

গবেষকেরা আকার নিয়ে সতর্ক ছিলেন। গবেষণাপত্রের লেখক Thitiwoot Sethapanichsakul বলেন, ডাইনোসরটি সম্ভবত বিখ্যাত Diplodocus নমুনা Dippy-এর চেয়ে অন্তত ১০ টন বেশি ভারী ছিল, তবে এটি এখনও Patagotitan এবং Argentinosaurus-এর মতো বিশাল দক্ষিণ আমেরিকান দৈত্যদের তুলনায় অনেক ছোট বলে মনে হয়। এই তুলনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আবিষ্কারটিকে অতিরঞ্জিত না করে বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে।

অন্যভাবে বললে, Nagatitan chaiyaphumensis-এর গুরুত্ব ডাইনোসরের আকারের চূড়ান্ত ঊর্ধ্বসীমা নতুন করে লেখা নয়। এর গুরুত্ব হলো এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশাল ডাইনোসরদের জানা বৈচিত্র্য ও পরিসর বাড়ায়, এমন একটি অঞ্চলে যেখানে প্রতিটি বড় আবিষ্কার বৈজ্ঞানিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

আঞ্চলিক রেকর্ড, বড় প্রভাবসহ

নতুন ডাইনোসর প্রজাতি শুধু তালিকায় আরেকটি নাম যোগ করে না। এগুলো বিবর্তনগত সম্পর্ক নির্ভুল করতে, প্রধান বংশধারার বিস্তার নিশ্চিত করতে, এবং প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে কীভাবে আলাদা ছিল তা বোঝাতে সাহায্য করে। এই থাই আবিষ্কার তিনটিই করে। এটি জীবাশ্ম রেকর্ডে একটি নতুন দৈত্য যোগ করে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় সোরোপডের জন্য প্রমাণ জোরদার করে, এবং অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক জীবনের আরও ভালো ছবি দেয়।

এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on livescience.com