প্রশান্ত মহাসাগর থেকে টাইফুন চাম্পি এগিয়ে আসায় তাইওয়ানের প্রায় পুরো দ্বীপজুড়ে কাজ ও ক্লাস বাতিল করা হয়। ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও বিশাল ঢেউয়ের পূর্বাভাস ছিল। ঝড়টি মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে, আঞ্চলিক বিমান চলাচল ব্যাহত করেছে এবং উদ্ধার অভিযানের জন্য হাজার হাজার সামরিক সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনের তৈরি ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে একজন মারা গেছেন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ঝড়ের আগে ১,২০০-র বেশি মানুষ বাড়ি ছেড়েছিলেন।
ঝড়ের আগে বিস্তৃত বন্ধ
চাম্পি তাইওয়ানের কাছে আসায় শুক্রবার বেশিরভাগ দোকান ও স্কুল বন্ধ ছিল। টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে চীন ও জাপানের দিকে এগোবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে বিপজ্জনক সমুদ্র, বাতাস ও বৃষ্টির প্রভাব ইতিমধ্যে অনুভূত হচ্ছিল।
তাইওয়ানের বাইরেও এর প্রভাব পড়ে। অঞ্চলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয় এবং জাপানের দক্ষিণের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের স্থানীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের চলমান Keen Sword যৌথ সামরিক মহড়ায় পরিবর্তন আনা হয়নি, যদিও জাপানি সামরিক মুখপাত্র জানান, মহড়াটি নমনীয়ভাবে পরিচালিত হবে।
তাইওয়ানের উপকূলে কর্তৃপক্ষ তীব্র আবহাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। শুক্রবার ও শনিবার ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও বড় ঢেউয়ের পূর্বাভাস ছিল। কিলুংয়ের ছবিতে কংক্রিটের ঢেউ-রোধকের ওপর ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা যায়; ভবনের বাইরে বালুর বস্তা ও বন্যা-রোধকও বসানো হয়েছিল।
ঝড় দুর্বল হলেও বিপজ্জনক রয়ে যায়
সমুদ্র পার হওয়ার সময় চাম্পি অল্প সময়ের জন্য সুপার-টাইফুনের শক্তি অর্জন করেছিল। Joint Typhoon Warning Center-এর উদ্ধৃত সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, তাইওয়ানের কাছে আসার সময় এটি দুর্বল হয়; তবু সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় ১০৪ মাইল।

শ্রেণিবিন্যাস বদলালেও ঝুঁকি দূর হয়নি। জনবহুল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা ঝড় বাতাস, বৃষ্টি, ঢেউ এবং এর অতিক্রমের সময়কালের কারণে বিপজ্জনক থাকতে পারে। তাইওয়ানের Central Weather Administration সতর্ক করে যে ঝড়টি দ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে ধীর হতে পারে, ফলে এর প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে পারে।
“এটি ধীর হলে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে,” ব্রিফিংয়ে Central Weather Administration-এর কর্মকর্তা Lu Kuo-chen বলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির উদ্বেগ দেখায়, চরম আবহাওয়ায় ক্ষতির সম্ভাবনা শুধু সর্বোচ্চ বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে না; ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সমুদ্র কতক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী হয়, তার ওপরও নির্ভর করে।
উচ্ছেদ ও জরুরি প্রস্তুতি
উপকূলের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেন এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য সামরিক সদস্যদের প্রস্তুত করেন। ঝড়ের সবচেয়ে কাছাকাছি আসার আগেই ১,২০০-র বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তাইওয়ানে রিপোর্ট হওয়া মৃত্যুটি ঢেউয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। টাইফুন সবচেয়ে কাছে আসার আগেই উপকূলীয় সতর্কতা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা এটি দেখায়। সাগরের ঢেউ ও ঝড়-চালিত জোয়ার বন্দর, সমুদ্রপ্রাচীর ও উন্মুক্ত উপকূলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের ইশিগাকিতে এক ঝড় পর্যবেক্ষক জানান, শক্তিশালী বাতাস পানির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় দ্বীপের বন্দরের দিকে যাওয়া চ্যানেলে তীব্র ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তাই বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া শুধু সরাসরি বাতাসের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এর মধ্যে উপকূল থেকে মানুষকে দূরে রাখা, ভারী বৃষ্টির সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের প্রস্তুতি, উদ্ধার সক্ষমতা বজায় রাখা এবং পরিবহন ব্যাহত হওয়া সামলানোও ছিল।

প্রশান্ত মহাসাগরে ব্যস্ত ঝড়ের মৌসুম
এল নিনো পরিস্থিতি এবং নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ পানিতে প্রভাবিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৌসুমের সর্বশেষ শক্তিশালী ঝড় হলো চাম্পি। ওই অঞ্চলের অভূতপূর্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে এই ব্যস্ত মৌসুমের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তাইওয়ান, জাপান এবং পূর্ব এশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলের জন্য তাৎক্ষণিক প্রশ্ন ছিল চাম্পির গতিপথ ও গতি কীভাবে বদলাবে। উত্তর-পূর্ব তাইওয়ানের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথ দ্বীপটিকে তীব্র আবহাওয়ার মুখে ফেলতে পারে; চীন ও জাপানের দিকে এর অগ্রসর হওয়ায় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।
তাইওয়ানের বড় অংশে কাজ ও ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত সতর্কতার মাত্রা তুলে ধরে। এ ধরনের বন্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যয় থাকলেও, বাতাস, বৃষ্টি ও ঢেউ সবচেয়ে বিপজ্জনক হওয়ার সময়ে এগুলো যাতায়াত ও মানুষের ঝুঁকি কমায়।
পরবর্তী নজরদারি
পরবর্তী পর্যায়ে ঝড়ের অগ্রসর হওয়ার গতি, তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে সুনির্দিষ্ট পথ এবং বৃষ্টির পরিমাণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী বাতাস কমলেও ধীরগতির টাইফুন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করতে পারে।
চাম্পির আগমন টাইফুন ঝুঁকির বহুস্তরীয় প্রকৃতি ইতিমধ্যে দেখিয়েছে: ঝড়টি অতিক্রম করার আগেই ঢেউয়ে একজনের মৃত্যু, আহত হওয়া, উচ্ছেদ, বাতিল ফ্লাইট ও ব্যাপক বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে মানুষকে উদ্ধারের সক্ষমতা বজায় রেখে এসব ঝুঁকি সীমিত করাই সরকারি প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল।
ব্যবস্থাটি চীন ও জাপানের দিকে এগোলে এর প্রভাব নির্ভর করবে এটি বর্তমান পথ ধরে রাখে কি না এবং কত দ্রুত দুর্বল হয় তার ওপর। তাইওয়ানের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি, ধ্বংসাত্মক উপকূলীয় পরিস্থিতি ও শক্তিশালী বাতাস থেকে জনগণকে রক্ষা করা।
এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on phys.org




