হৃদ্‌যন্ত্রের শক্তির সহায়ক হিসেবে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ

চীনের গবেষকেরা পালং শাকের সালোকসংশ্লেষণ ব্যবস্থার একটি অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত ইঁদুরের হৃদ্‌যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য পরিবর্তন করেছেন। Small-এ প্রকাশিত গবেষণায় লাল আলোয় সক্রিয় উদ্ভিদ থাইলাকয়েড ঝিল্লি থেকে তৈরি ন্যানোকণার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

হৃদ্‌যন্ত্রের পেশির জন্য ক্রমাগত ATP দরকার। ATP তৈরি করা মাইটোকন্ড্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে শক্তির ঘাটতি রক্ত পাম্প করার সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষকেরা পালং শাক থেকে থাইলাকয়েড ঝিল্লি বের করে ন্যানোকণায় রূপান্তর করেন। কোষ ও ইঁদুরের পরীক্ষায় দেখা যায়, লাল আলোয় ATP বাড়তে পারে এবং পরীক্ষামূলক হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় ক্ষতি কমতে পারে।

কণাগুলোর নকশা

থাইলাকয়েড হলো উদ্ভিদ কোষের ঝিল্লি কাঠামো, যা আলোকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। কণাগুলোকে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিকোষের ঝিল্লি দিয়ে আবৃত করা হয়, যাতে কার্ডিওমায়োসাইটের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বাড়ে।

পরীক্ষাগারে আবৃত কণাগুলো ইঁদুরের হৃদ্‌কোষ বেশি গ্রহণ করে। লাল আলো দেওয়ার পর চিকিৎসাপ্রাপ্ত কোষে ATP বেড়ে যায়।

এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক বিপাকের বিকল্প নয়। অতিরিক্ত শক্তি উৎপাদন লাল আলো দ্বারা সক্রিয় হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা বা ব্যবহারিকতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

ইঁদুরের ক্ষেত্রে ফলাফল

পরীক্ষামূলক হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত ইঁদুরে পালং-উৎপন্ন, হৃদ্‌কোষ-ঝিল্লি-আবৃত ন্যানোকণা ও লাল আলো ব্যবহারের পর পাম্পিং ক্ষমতা উন্নত এবং টিস্যুর ক্ষতি কম দেখা যায়।

Spinach nanoparticles help failing rat hearts with a boost from red light
কার্ডিওমায়োসাইট ঝিল্লি-আবৃত সালোকসংশ্লেষী ন্যানো-থাইলাকয়েডের নির্মাণ, হৃদ্‌যন্ত্র লক্ষ্যকরণ এবং আলো-সক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকল্পিত চিত্র। Credit: Small (2026). DOI: 10.1002/smll.76087

এই ফলাফল হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতার একটি মূল সমস্যা—হৃদ্‌যন্ত্রের প্রয়োজনীয় শক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের উৎপাদিত শক্তির ব্যবধান—লক্ষ্য করে।

তবে এটি কেবল ইঁদুরের কোষ ও রোগ-মডেলে দেখা ফল। মানুষের চিকিৎসা বা উদ্ভিদজাত ন্যানোম্যাটেরিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এটি প্রমাণ করে না।

আশাব্যঞ্জক ফল, কিন্তু বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে

শরীরে কণাগুলো কীভাবে ছড়ায়, কতক্ষণ সক্রিয় থাকে, রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কি না এবং প্রয়োজনীয় আলো নিরাপদে টিস্যুতে পৌঁছায় কি না—এসব পরীক্ষা করতে হবে।

লাল আলো-নির্ভর চিকিৎসার জন্য লক্ষ্য টিস্যুতে আলো পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিও দরকার। নিয়মিত চিকিৎসায় এটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, গবেষণাটি তা সমাধান করেনি।

তবু গবেষণাটি ন্যানোমেডিসিনের একটি বিস্তৃত দিক দেখায়: এক জীবের জৈবিক ক্ষমতাকে অন্য জীবের জন্য মানিয়ে নেওয়া।

  • কণাগুলো পালং শাকের থাইলাকয়েড ঝিল্লি থেকে তৈরি।
  • হৃদ্‌কোষের ঝিল্লির আবরণ কার্ডিওমায়োসাইটে গ্রহণ বাড়িয়েছে।
  • লাল আলো চিকিৎসাপ্রাপ্ত কোষে ATP বাড়িয়েছে।
  • হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় ইঁদুরের পাম্পিং উন্নত ও টিস্যু ক্ষতি কমেছে।

গুরুত্ব ধারণার প্রমাণে

গবেষণাটিকে নিকট ভবিষ্যতের চিকিৎসা নয়, ধারণার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষী উপাদানকে ন্যানো ব্যবস্থায় রূপান্তর, হৃদ্‌কোষে পৌঁছানো এবং আলো দিয়ে সক্রিয় করা সম্ভব—এটাই এর মূল ফল।

চিকিৎসাগত ব্যবহারের জন্য পুনরাবৃত্তি, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং মানব রোগের কাছাকাছি মডেল দরকার। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইঁদুরের হৃদ্‌যন্ত্রে অতিরিক্ত শক্তি দেওয়া সম্ভব বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on phys.org