জলবায়ু বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সম্ভাব্য এক পর্যায়গত পরিবর্তন
বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বোধহয় এতদিন ধারণা করা মতো মসৃণ ও স্থির গতিতে বাড়ছিল না। ইউরোপিয়ান জিওসায়েন্সেস ইউনিয়নের এক সভায় উপস্থাপিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উপগ্রহ-রেকর্ডে ২০১২ সালের কাছাকাছি একটি হঠাৎ ত্বরণ দেখা যায়, যেখানে গড় হার ওই সময়ের আগে বছরে প্রায় ২.৯ মিলিমিটার থেকে বেড়ে পরে প্রায় ৪.১ মিলিমিটারে পৌঁছায়।
প্রতিবেদিত এই পরিবর্তন সেন্টিমিটারে মাপা কোনও নাটকীয় লাফ হিসেবে নয়, তবু তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রীয় দীর্ঘমেয়াদি সূচককে প্রভাবিত করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বন্যার ঝুঁকি, উপকূলীয় ক্ষয়, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বাড়ায়। দশকজুড়ে এবং বৈশ্বিকভাবে প্রয়োগ করলে বার্ষিক হারে অপেক্ষাকৃত ছোট পরিবর্তনও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন টুলুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যান্সেলট লেক্লের্ক। তাঁর দল বলছে, এই পরিবর্তনটি উপগ্রহ-তথ্যে একই প্রবণতার ধীরে ধীরে চলা ধারাবাহিকতা নয়, বরং একটি ধাপগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাথন ব্যাম্বার, যিনি এই গবেষণায় জড়িত ছিলেন না, বলেন সংকেতটি বড় নয়, তবে উপগ্রহ রেকর্ডকে প্রায় এক শতাব্দী পিছিয়ে যাওয়া টাইড-গেজ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একসঙ্গে দেখলে ত্বরণের বৃহত্তর চিত্রটি স্পষ্ট।
তথ্যে কী বদলাল
সমুদ্রপৃষ্ঠের উপগ্রহ-মাপজোক ১৯৯০-এর দশকে শুরু হয়, এবং তখন পর্যন্ত বৃদ্ধিকে সাধারণত বছরে প্রায় ৩.৬ মিলিমিটার হারে তুলনামূলক স্থির বলে মনে করা হতো। তবে আরও পর্যবেক্ষণ যোগ হতে থাকায়, লেক্লের্কের দল ২০১২ সালের কাছাকাছি একটি স্পষ্ট পরিবর্তন শনাক্ত করে। এরপর থেকে গড় হার উঁচু স্তরেই রয়েছে বলে মনে হয়।
এই সময়-নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমাগত বেশি হার মানে শুধু বছরের পর বছর ওঠানামা নয়, বরং সমুদ্রপৃষ্ঠ পরিবর্তনের অন্তর্নিহিত চালকদের মধ্যে সম্ভাব্য এক পরিবর্তন। গবেষকদের মতে, এই ত্বরণ সম্ভবত একক কোনও প্রধান কারণের বদলে একাধিক অবদানকারী উপাদানের সম্মিলিত গতির ফল।
কয়েকটি কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। মহাসাগরের জল উষ্ণ হলে প্রসারিত হয়। পার্বত্য হিমবাহ গলে। গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফচাদর ভর হারায়। স্থলে সঞ্চিত জলও ভারসাম্য বদলাতে পারে: স্থলে কম মিঠে জল আটকে থাকলে বেশি জল সমুদ্রে পৌঁছে যায়। নতুন বিশ্লেষণ বলছে, এই নানা উৎসের বদলে যাওয়া প্রবণতা মিলিত হয়ে হারকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।



