কার্বন রূপান্তরের একটি নতুন পথ
ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি অনুঘটক তৈরি করেছেন যা কম্পন শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে কার্বন মনোক্সাইডে রূপান্তর করে। ফলাফলটি উল্লেখযোগ্য, কারণ কার্বন মনোক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ফিডস্টক, আর কার্বন ডাইঅক্সাইড হলো নির্গমন কমানো এবং কার্বন-ব্যবস্থাপনার আরও কার্যকর পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টার কেন্দ্রীয় লক্ষ্য।
সূত্রসামগ্রীতে এই কাজটিকে কম্পন শক্তির মাধ্যমে CO2 থেকে CO-তে অনুঘটক-নির্ভর রূপান্তর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ফলে এই আবিষ্কারটি কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বর্জ্য নয়, বরং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহারযোগ্য ইনপুটে পরিণত করার বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার অংশ হয়ে উঠেছে।
কার্বন মনোক্সাইড কেন গুরুত্বপূর্ণ
কার্বন মনোক্সাইড শিল্প রসায়নে অন্য পণ্যের জন্য একটি বিল্ডিং ব্লক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই কার্বন ডাইঅক্সাইডকে কার্বন মনোক্সাইডে রূপান্তর করা নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করতে পারে। এমন যেকোনো প্রক্রিয়ার বাস্তব মূল্য নির্ভর করে দক্ষতা, স্কেলযোগ্যতা, শক্তির চাহিদা এবং বিদ্যমান শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের ওপর।
ওসাকার কাজটি মূলত অনুঘটকটির ওপরই কেন্দ্রীভূত। একটি অনুঘটক মূল্যবান, কারণ এটি কোনো ফিডস্টকের মতো একইভাবে ক্ষয় না হয়ে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সম্ভব বা ত্বরান্বিত করতে পারে। যদি কোনো অনুঘটক অনুকূল পরিস্থিতিতে CO2 রূপান্তর সহজ করতে পারে, তবে তা কার্বন-ব্যবহার ব্যবস্থার অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সম্ভাবনাকে উন্নত করতে পারে।
কম্পন শক্তির ভূমিকা
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে স্বাতন্ত্র্যসূচক উপাদান হলো কম্পন শক্তির ব্যবহার। প্রচলিত তাপীয় বা বৈদ্যুতিক পথের বদলে, উৎসে কম্পনকে সেই শক্তির ইনপুট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে যা অনুঘটক রূপান্তর চালাতে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা আরেকটি প্রক্রিয়া অধ্যয়নের সুযোগ পান, যাতে বোঝা যায় কার্বন ডাইঅক্সাইড রসায়নে শক্তি কীভাবে সরবরাহ করা যেতে পারে।
এ মুহূর্তে মূল বার্তাটি বৈজ্ঞানিক, বাণিজ্যিক নয়। প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে না যে অনুঘটকটি মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত, কিংবা খরচ বা শিল্প-স্কেল নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট তথ্য দেয় না। তবে এটি কার্বন ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন অনুঘটক পদ্ধতি চিহ্নিত করে।
কী নজরে রাখবেন
পরবর্তী প্রশ্নগুলো সরল: অনুঘটকটি কতটা দক্ষ, বারবার ব্যবহারে এটি কতটা টেকসই থাকে, এর জন্য কী শর্ত প্রয়োজন, এবং এটি কি পরীক্ষাগারের বাইরে বড় পরিসরে ব্যবহার করা যাবে? গবেষক এবং শিল্প অংশীদারদের এই পদ্ধতিটিকে CO2 থেকে CO-র অন্যান্য পথের সঙ্গে তুলনাও করতে হবে।
পদ্ধতিটি যদি শক্তপোক্ত প্রমাণিত হয়, তবে এটি কার্বন ডাইঅক্সাইডকে রাসায়নিকভাবে উপযোগী করার প্রযুক্তির বৃহত্তর ভাণ্ডারে অবদান রাখতে পারে। এমন পোর্টফোলিও-ভিত্তিক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো একক রূপান্তর পদ্ধতিই সম্ভবত সব শিল্প ব্যবহারক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত হবে না।
এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন।
Originally published on phys.org

