এডিনবরো বিশ্ববিদ্যালয় এবং UK Dementia Research Institute-এর গবেষণা বলছে, স্নায়ুতন্তুর চারপাশের সুরক্ষামূলক আবরণ বজায় রাখা মস্তিষ্কের কোষগুলো বয়স্ক মস্তিষ্কে সমস্যার অংশ হয়ে উঠতে পারে। Nature Medicine-এ প্রকাশিত গবেষণাটি মাইলিন রক্ষণাবেক্ষণকারী কোষের অকার্যকারিতাকে স্নায়ুতন্তুর ক্ষতি এবং পরবর্তী জীবনে জ্ঞানীয় ক্ষমতা কমার গতির পার্থক্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
মাইলিন হলো স্নায়ুতন্তুকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ, যা স্নায়ুতন্ত্রে সংকেত দ্রুত চলাচলে সাহায্য করে। গবেষকেরা দেখেছেন, বয়স বাড়লে এই আবরণ রক্ষণাবেক্ষণকারী কোষগুলো অস্বাভাবিক পরিমাণে মাইলিন তৈরি করতে পারে। এতে যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ার বদলে স্নায়ুতন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি কমতে পারে।
এর অর্থ মাইলিন বা সহায়ক কোষ স্বভাবতই ক্ষতিকর নয়। স্বাভাবিকভাবে মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ত্রুটির দিকটি গবেষণাটি চিহ্নিত করেছে।
জ্ঞানীয় বার্ধক্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি
গবেষকেরা Lothian Birth Cohort 1936-এর তথ্য ব্যবহার করেন, যেখানে শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জ্ঞানীয় ক্ষমতা অনুসরণ করা হয়েছে। 70 থেকে 82 বছর বয়সে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি, তথ্য-প্রক্রিয়াকরণের গতি এবং স্থানিক দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়। 1,091 জনের মধ্যে 866 জন 70 বছরের পর অতিরিক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রায় সবারই কিছুটা অবনতি দেখা গেলেও গতি ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন ছিল।
মানব মস্তিষ্কের টিস্যু পরীক্ষা এবং ইঁদুরের ওপর পরীক্ষাও করা হয়। এতে দ্রুত অবনতির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্ক এবং ধীর পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের সম্ভাব্য পার্থক্য দেখা সম্ভব হয়।
সহায়ক কোষ অকার্যকর হলে
মাইলিনকে প্রায়ই স্নায়ুতন্ত্রের ইনসুলেশন বলা হয়। এটি বজায় রাখা কোষগুলোর ভূমিকা এতদিন উপকারী হিসেবেই দেখা হয়েছে। কিন্তু বয়স বাড়লে সম্পর্কটি বদলাতে পারে; অস্বাভাবিক মাইলিন উৎপাদন স্নায়ুতন্তুকে ব্যাহত করতে পারে।
গবেষণাটি দীর্ঘমেয়াদি মানব জ্ঞানীয় তথ্য, মানব টিস্যু এবং ইঁদুরের পরীক্ষা একত্র করেছে। এতে কোষের ত্রুটি, স্নায়ুতন্তুর ক্ষতি এবং জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র দেখা গেছে।
- 70 থেকে 82 বছর বয়সে জ্ঞানীয় পরিবর্তন পরীক্ষা করা হয়।
- মাইলিন রক্ষণাবেক্ষণকারী কোষগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- বয়সজনিত অকার্যকারিতা অস্বাভাবিক মাইলিন উৎপাদন ও স্নায়ুতন্তুর ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
- এই জৈবিক পথ ভবিষ্যৎ গবেষণার লক্ষ্য হতে পারে।
চিকিৎসা গবেষণার সম্ভাব্য পথ
গবেষকদের মতে, এই জৈবিক পথে কাজ করা ওষুধ অন্য স্নায়বিক অবস্থায় ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়। তাই বয়সজনিত জ্ঞানীয় অবনতিতে সেগুলো পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে কোনো বর্তমান ওষুধ এখনই এই উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রমাণ এটি নয়।
বিদ্যমান ওষুধ নতুন কাজে ব্যবহার করলে কিছু উন্নয়ন ধাপ সহজ হতে পারে। তবু সঠিক লক্ষ্য, মাত্রা, সময়, রোগী-গোষ্ঠী এবং উপকার আলাদা ক্লিনিক্যাল গবেষণায় নিশ্চিত করতে হবে।
তাই এটি তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রস্তাব নয়; পরীক্ষাযোগ্য একটি প্রক্রিয়া শনাক্ত করার গবেষণা।
গবেষণার প্রশ্ন কেন বদলাচ্ছে
বয়সজনিত জ্ঞানীয় অবনতিতে রক্তনালির পরিবর্তন, প্রদাহ, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ এবং স্নায়ুকোষের স্বাস্থ্যসহ বহু কারণ থাকতে পারে। স্নায়ুতন্তুকে সহায়তা করা কোষগুলোর বয়সজনিত আচরণকে গবেষণাটি আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন শুধু মাইলিন কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নয়; তার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় রাখা যায় সেটিও। কম রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষতিকর হতে পারে, আবার অস্বাভাবিক উৎপাদনও ক্ষতিকর হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই পথটি জ্ঞানীয় অবনতির কারণ, নাকি অন্য বয়সজনিত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া—তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় স্পষ্ট করতে হবে। এটিকে লক্ষ্য করলে স্মৃতি, প্রক্রিয়াকরণের গতি বা দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা রক্ষা করা যায় কি না তাও পরীক্ষা করা দরকার।
এখন গবেষণাটি বয়স্ক মস্তিষ্কের একটি সম্ভাব্য দুর্বলতার স্পষ্টতর ব্যাখ্যা দেয়। স্নায়ু-সংযোগ রক্ষার জন্য তৈরি কোষগুলো স্বাভাবিক আচরণ হারালে সেই সংযোগের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
এই নিবন্ধটি Science Daily-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on sciencedaily.com





