একটি জনস্বাস্থ্য সাফল্য এখন নতুন ক্যান্সার সতর্কতার সঙ্গে মুখোমুখি
মানব প্যাপিলোমাভাইরাস, বা HPV,-সম্পর্কিত সার্ভিকাল ক্যান্সার হ্রাস আধুনিক টিকা-সাফল্যের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি। কিন্তু এই উৎসাহব্যঞ্জক প্রবণতার সঙ্গে এখন আরও উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা যোগ হয়েছে: পুরুষদের মধ্যে HPV-সম্পর্কিত গলা ও মুখের ক্যান্সার বাড়ছে, এবং অনেক জায়গায় এগুলো একই ভাইরাসজনিত সার্ভিকাল ক্যান্সারের চেয়েও বড় বোঝা হয়ে উঠেছে।
Live Science-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্যান্সারগুলোকে broadly oropharyngeal cancers বলা হয়, এবং এগুলো মূলত মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে বাড়ছে। এগুলো গলার পেছনের অংশ, যার মধ্যে টনসিল এবং জিহ্বার গোড়া অন্তর্ভুক্ত, সেখানে প্রভাব ফেলে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত মার্কিন গবেষণার কথা লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় HPV-সম্পর্কিত oropharyngeal cancers ১৯৮৮ থেকে ২০০৪-এর মধ্যে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে, এবং এর বেশিরভাগ বৃদ্ধিই পুরুষ রোগীদের কারণে। এছাড়া ২০০০ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে আরও একবার তিনগুণ বৃদ্ধির কথা বলেছে একটি ড্যানিশ গবেষণা, যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রবণতাটি এক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ফলাফলটি একটি চোখে পড়ার মতো জনস্বাস্থ্য বৈপরীত্য। একই ভাইরাস পরিবার যখন একটি প্রধান ক্যান্সার পথে আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে উঠছে, তখন অন্য পথে এটি আরও বিশিষ্ট হয়ে উঠছে। এর মানে এই নয় যে প্রতিরোধ ব্যর্থ হচ্ছে। এর মানে হলো HPV-সম্পর্কিত সব ক্যান্সারে প্রতিরোধ, screening, এবং জনসচেতনতা সমানভাবে এগোয়নি।
HPV কীভাবে ক্যান্সার ঘটায়
HPV একটি একক ভাইরাস নয়, বরং ভাইরাসের একটি বড় গোষ্ঠী, যার মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকির স্ট্রেনও রয়েছে যা ক্যান্সার ঘটাতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, এই স্ট্রেনগুলো sex, যার মধ্যে oral sex-ও রয়েছে, এর মাধ্যমে ছড়ায়, এবং ত্বক বা শ্লেষ্মা ঝিল্লির ক্ষুদ্র কাটা-ছেঁড়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে। National Cancer Institute অনুমান করে, প্রায় ৮০% sexually active adult তাদের জীবদ্দশায় HPV সংক্রমণ পাবে, এবং সেগুলোর প্রায় অর্ধেক উচ্চ-ঝুঁকির ধরন।
অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ স্থায়ী হয় না। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এক বা দুই বছরের মধ্যে ভাইরাসটি নির্মূল করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি তখনই তৈরি হয়, যখন উচ্চ-ঝুঁকির HPV শরীরে দীর্ঘদিন থেকে DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কোষকে ক্যান্সারের দিকে ঠেলে দেয়। এই মৌলিক প্রক্রিয়া জরায়ুমুখ, মলদ্বার, এবং oropharynx-সহ বিভিন্ন টিস্যুতে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে।
এই বিজ্ঞানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যাখ্যা করে কেন শুধু সংক্রমণ মানেই ক্যান্সার নয়, আবার জনসংখ্যার স্তরে ঝুঁকি কেন গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে অগ্রগতির হার কম এমন একটি সাধারণ ভাইরাসও, যদি লক্ষ লক্ষ মানুষ দশকের পর দশক এর সংস্পর্শে থাকে, তাহলে বড় ক্যান্সার বোঝা তৈরি করতে পারে।
পুরুষরা কেন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন
বর্তমান উদ্বেগকে পুরুষদের কেন্দ্র করে দেখা হচ্ছে, কারণ HPV-সম্পর্কিত oropharyngeal cancer বৃদ্ধি মূলত তাদের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। সূত্র পাঠ এটি একক কোনো কারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে না, তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিষ্ঠা করে। প্রথমত, এসব ক্যান্সার যৌনবাহিত একটি ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত, যা oral sex-এর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, এগুলো প্রধানত মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যা সংক্রমণ ও ক্যান্সার নির্ণয়ের মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধানকে নির্দেশ করে।
এই বিলম্বটি গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ আজকের ক্যান্সার কেসগুলো হতে পারে বহু বছর বা দশক আগের সংক্রমণের ফল, অনেক সময় তখন, যখন টিকাদান ব্যাপকভাবে পৌঁছেনি। বাস্তব দিক থেকে, বর্তমান রোগভার যুবসমাজে প্রতিরোধ উন্নত হলেও বাড়তেই পারে।
এটি ব্যাখ্যা করে কেন জনপরিসরের আলোচনা এত অসম ছিল। সার্ভিকাল ক্যান্সার প্রতিরোধ দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত screening, জনস্বাস্থ্য বার্তা, এবং টিকা-সমর্থনের সুবিধা পেয়েছে। Oropharyngeal cancer-এ তেমন কোনো সমতুল্য শনাক্তকরণ কাঠামো বা একই মাত্রার জনস্বীকৃতি নেই, বিশেষত পুরুষদের মধ্যে, যারা হয়তো জানেনই না যে HPV তাদের ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সংখ্যার পেছনের টিকাদান-ফাঁক
নিবন্ধটি স্পষ্ট করে যে HPV টিকাদান টিকা নেওয়া নারীদের মধ্যে সার্ভিকাল ক্যান্সারের হার কমাতে সাহায্য করছে। এটি বড় অর্জন, কিন্তু এটিও দেখায় কোথায় সুরক্ষা অসম ছিল। যখন একটি টিকাকে জনমানসে প্রধানত সার্ভিকাল ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখন এর গ্রহণযোগ্যতা ও জরুরিতা লিঙ্গভিত্তিক ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে যে কাকে এটি সবচেয়ে বেশি দরকার।
এ ধরনের framing ছেলেদের ও পুরুষদের কম সুরক্ষিত রেখে দিতে পারে, যদিও HPV এসব সীমানা মানে না। ভাইরাসের বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ ক্যান্সার বোঝা কমাতে ব্যাপক টিকাদান দরকার, শুধু মেয়ে ও নারীদের জন্য টিকাটিকে প্রাসঙ্গিক ভাবলেই চলবে না। পুরুষদের মধ্যে বাড়তে থাকা oropharyngeal cancer মনে করিয়ে দেয় যে টিকাদানের উপকারিতা একটিমাত্র অঙ্গপ্রণালী বা একটিমাত্র রোগী গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ নয়।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সময়। টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে; বহু পুরনো সংস্পর্শকে তা উল্টে দিতে পারে না। তাই আরও শক্তিশালী টিকাদান প্রচার চললেও, স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলো বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গলা ও মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের উচ্চ হার আরও বহু বছর দেখতে পারে। এই বিলম্বিত ফলাফল সমস্যাটিকে অমীমাংসনীয় মনে করাতে পারে, যদিও এটি আসলে মহামারিবিদ্যাগত গতির ফল।
এটি প্রতিরোধের পাশাপাশি শনাক্তকরণেরও সমস্যা
সার্ভিকাল ক্যান্সার প্রতিরোধ এত কার্যকর হওয়ার একটি কারণ শুধু টিকাদান নয়, বরং দীর্ঘদিনের screening পথও। HPV-সম্পর্কিত oropharyngeal cancer-এর জন্য প্রতিদিনের চিকিৎসায় একই মাত্রার নিয়মিত screening ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাথমিক শনাক্তকরণ কঠিন হয় এবং উপসর্গ চেনা ও চিকিৎসাগত সন্দেহের ওপর বেশি নির্ভরতা পড়ে।
সোর্স নিবন্ধ কোনো সহজ সমাধান দেয় না, কিন্তু বৃহত্তর চ্যালেঞ্জটি তুলে ধরে: একটি বাড়তে থাকা ক্যান্সার ধরন, যার জনপরিচিতি কম, পদ্ধতিগত শনাক্তকরণের পথ কম, এবং এমন রোগীসমাজ যা ঐতিহ্যবাহী HPV বার্তায় নিজেদের দেখতে পায় না। এই সমন্বয় নির্ণয় বিলম্বিত করতে পারে এবং সচেতনতা-নির্ভর প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে।
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য-যোগাযোগকারীদের জন্য এটি এক বাস্তব দায়িত্ব তৈরি করে। HPV নিয়ে আলোচনা আর শুধু সার্ভিকাল ক্যান্সারে কেন্দ্রীভূত করা যায় না, না হলে ঝুঁকির প্রকৃত বণ্টন বিকৃত হবে। ভাইরাসটি নারীদের স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, কিন্তু head and neck cancers-এর প্রেক্ষাপটে এটি ক্রমশ পুরুষদের স্বাস্থ্যেরও সমস্যা হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের জনস্বাস্থ্যে অর্থ কী
মূল শিক্ষা এই নয় যে এক HPV ক্যান্সার অন্যটিকে বদলে দিচ্ছে। বরং টিকাদান প্রমাণ করেছে কী সম্ভব, আর বদলে যাওয়া রোগের ধরন দেখাচ্ছে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোথায় এখনও পিছিয়ে আছে। সার্ভিকাল ক্যান্সার কমা দেখায় যে প্রতিরোধ কাজ করে। পুরুষদের মধ্যে oropharyngeal cancer বাড়া দেখায় যে প্রতিরোধকে বিস্তৃত, স্থায়ী, এবং আরও ভালো সচেতনতাসম্পন্ন হতে হবে।
এই প্রবণতা সাফল্য মাপার ধরনকেও জটিল করে তোলে। এক ধরনের ক্যান্সারে হার কমলেও, প্রতিরোধ যদি সমভাবে না পৌঁছায় বা ক্যান্সার ভিন্ন সময়রেখায় প্রকাশ পায়, তবে অন্য ধরনের ক্যান্সারে বৃদ্ধি থাকতে পারে। তাই নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্য-প্রতিষ্ঠানগুলোর একক মেট্রিক উদযাপনের বদলে HPV বোঝার পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির দিকে যেতে হবে।
জনগণের জন্য বার্তাটিও স্পষ্ট। HPV সাধারণ, উচ্চ-ঝুঁকির ধরন একাধিক ক্যান্সার ঘটাতে পারে, এবং টিকার উপকারিতা শুধু সার্ভিকাল রোগ প্রতিরোধে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাজ হলো শিক্ষা, টিকাদান, এবং ক্লিনিক্যাল সতর্কতাকে সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা।
সার্ভিকাল ক্যান্সারের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মধ্যে HPV-সম্পর্কিত গলা ও মুখের ক্যান্সারের বাড়তি বোঝা একসঙ্গে সতর্কতা ও প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায়: ভাইরাসকে মোকাবিলা করা যায়, কিন্তু কেবল তখনই, যখন প্রতিরোধকে বাছাইকৃত নয়, সর্বজনীন হিসেবে ধরা হয়।
এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on livescience.com



