একটি পুরোনো মহাজাগতিক ধারণা আবার শোনার সুযোগ পাচ্ছে
চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্বের পদার্থবিজ্ঞানে সবসময়ই এক অস্বাভাবিক অবস্থান ছিল। এটি একদিকে বিশাল, অন্যদিকে অনাকর্ষণীয়; একদিকে নান্দনিক, অন্যদিকে প্রমাণ করা কঠিন। এর মূল ধারণাটি যথেষ্ট সরল: মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়, শেষে উল্টো দিকে ঘুরে যায়, একটি “বিগ ক্রাঞ্চ”-এ সংকুচিত হয়, তারপর আরেকটি বিগ ব্যাংয়ে আবার শুরু হয়। বহু বছর ধরে এই চিত্রটি মূলধারার বাইরে ছিল। এখন, সরবরাহকৃত New Scientist উৎস-পাঠ্য অনুযায়ী, Dark Energy Spectroscopic Instrument বা DESI থেকে নতুন ডেটা আসায় এটি আবার আলোচনায় ফিরতে পারে; যেটি এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় 3D মানচিত্র তৈরি করেছে।
প্রবন্ধটি এই নতুন মনোযোগকে সতর্কভাবে উপস্থাপন করেছে। এতে বলা হয়নি যে চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব প্রমাণিত হয়ে গেছে। বরং যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে এই অনুমান, একটি অবক্ষয়ের সময় পার করার পর, নতুন আগ্রহ পাচ্ছে। মহাবিশ্বতত্ত্বে এটি উল্লেখযোগ্য, কারণ নতুন তথ্য না এলে বড় বড় তত্ত্ব দীর্ঘদিন স্থবির থাকতে পারে।
‘বিগ বাউন্স’-এর আকর্ষণ আংশিকভাবে দার্শনিক
চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব টিকে থাকার এক কারণ হলো এটি মহাবিশ্বতত্ত্বের কিছু সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের সহজবোধ্য উত্তর দেয়। যদি মহাবিশ্ব চক্রাকার হয়, তাহলে বিগ ব্যাংকে একেবারে শূন্য থেকে সৃষ্টির শুরু হিসেবে ধরতে হয় না। সেটি পুনরাবৃত্ত প্রক্রিয়ার একটি পর্যায় হয়ে যায়। উৎস-পাঠ্যটি বলছে, এই সমমিতি দীর্ঘদিন ধরে কিছু মহাবিশ্বতত্ত্ববিদকে আকৃষ্ট করেছে, কারণ এটি প্রচলিত এক-বারের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিগ ব্যাংয়ের “আগে” কী ছিল তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন কমিয়ে দেয়।
স্কটল্যান্ডের Astronomer Royal ক্যাথরিন হেইম্যানসকে প্রবন্ধে উদ্ধৃত করা হয়েছে; তিনি বলেন, এই চিত্রটি তাঁর কাছে “মিলছে”: মহাবিশ্ব বিগ ব্যাংয়ে সৃষ্টি হয়, প্রসারিত হয়, ধীর হয়, সংকুচিত হয় এবং আবার শুরু হয়। ডার্ক এনার্জি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়া অ্যাডাম রিসকেও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন গবেষকেরা এই ধারণাটি পছন্দ করেন কারণ এটি আমাদের বর্তমান মুহূর্তকে এক-বারের মহাবিশ্বে অতিরিক্ত বিশেষ বলে দেখায় না।
এই আকর্ষণ তত্ত্বটিকে সত্য করে না। কিন্তু পর্যবেক্ষণভিত্তিক প্রমাণ বেশিরভাগ মহাবিশ্বতত্ত্ববিদকে অন্য দিকে নিয়ে গিয়েছিল, তবুও এই ধারণাটি কেন একেবারে হারিয়ে যায়নি, তা এটি বোঝাতে সাহায্য করে।
তত্ত্বটি কেন পিছিয়ে পড়েছিল
সরবরাহকৃত উৎস-পাঠ্যটি এমন এক গতিপথের কথা বলে যা যেন তত্ত্বটিরই প্রতিফলন: চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব উঠেছিল, পড়েছিল এবং এখন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটি ২০শ শতকের মাঝামাঝি কিছু সময়ের জন্য জনপ্রিয় ছিল, তারপর সমর্থন হারায়। কারণটা শুধু রুচির পরিবর্তন ছিল না। মূলধারার মহাবিশ্বতত্ত্ব ক্রমশ এমন এক প্রসারমান মহাবিশ্বের দিকে স্থিত হয়, যার ত্বরিত সম্প্রসারণ ডার্ক এনার্জির সঙ্গে যুক্ত, ফলে ভবিষ্যতে উল্টো দিকে ঘোরার সম্ভাবনা প্রচলিত অনুমানের মধ্যে মানানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে, ‘বিগ বাউন্স’ একটি সম্ভাব্য মহাজাগতিক পরিণতির বদলে সুন্দর কিন্তু অসমর্থিত বিকল্প বলে মনে হতে থাকে। মহাবিশ্বতত্ত্বে এমনটা প্রায়ই ঘটে। একটি তত্ত্ব গাণিতিক বা ধারণাগতভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু পর্যবেক্ষণের ছবি অন্যদিকে যেতে থাকলে তা প্রান্তে পড়ে থাকে।
DESI-এর ভূমিকা প্রশ্নটি আবার খোলা, চূড়ান্ত করা নয়
উৎস উপকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হলো DESI-এর ভূমিকা। এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে বড় 3D মহাবিশ্ব মানচিত্র তৈরি করে এই যন্ত্রটি সময় ও কাঠামো জুড়ে মহাজাগতিক সম্প্রসারণ কীভাবে আচরণ করে তা মূল্যায়নের জন্য মহাবিশ্বতত্ত্ববিদদের আরও বিশদ ভিত্তি দিচ্ছে। প্রবন্ধটি ইঙ্গিত দেয় যে এই নতুন পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট অনিশ্চয়তা, বা অন্তত যথেষ্ট ব্যাখ্যাগত জায়গা, তৈরি করেছে, যাতে চক্রাকার ধারণাগুলো আবার গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে।
এটি ছোট হলেও অর্থবহ একটি পরিবর্তন। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কেবল কথার জোরে ফিরে আসে না। নতুন পরিমাপ যখন আগের সম্মতির প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয় বা পুরোনো ধারণা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ধারা প্রকাশ করে, তখনই তারা ফেরে। এমনকি সেই প্রক্রিয়া মূল তত্ত্বকে পুনর্বাসিত না করলেও, গবেষকদের ভাবার মতো প্রশ্নের পরিসর বদলে দিতে পারে।
মহাবিশ্বতত্ত্বে ফিরে আসা মানে সত্যায়ন নয়
নতুন করে আগ্রহ এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক নিশ্চিতকরণের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। New Scientist প্রবন্ধটি স্পষ্টভাবে বলছে, চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব “ফিরে আসছে” এমন একটি ধারণা হিসেবে, মহাবিশ্ব যে সত্যিই বাউন্স করেছে তা নয়। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহাবিশ্বতত্ত্ব পর্যবেক্ষণ থেকে অনুমান করা যায় এমন সীমার প্রান্তে কাজ করে। তত্ত্বগুলো শুধু সরাসরি প্রমাণ দিয়ে নয়, বরং সম্প্রসারণ, কাঠামো গঠন এবং মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের নানা ডেটার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তার দ্বারাও যাচাই করা হয়।
তবু ‘বিগ বাউন্স’-এর পুনরায় দৃশ্যমানতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় কিছু মৌলিক প্রশ্ন এখনও খোলা আছে। ডার্ক এনার্জি, মহাজাগতিক ত্বরণ এবং মহাবিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনো বন্ধ অধ্যায় নয়। নতুন তথ্য যদি গবেষকদের একসময় অগ্রহণযোগ্য মডেলগুলো আবার দেখতে বাধ্য করে, তা হলে সেটি এমন একটি সুস্থ ক্ষেত্রের চিহ্ন, যা কেবল গোঁড়ামি রক্ষা না করে প্রমাণের প্রতি সাড়া দিচ্ছে।
তত্ত্বের বৃহত্তর মূল্য হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা
চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব যদি মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ ব্যাখ্যা করার প্রধান তত্ত্ব না-ও হয়, তবু এর ফিরে আসার মূল্য আছে। এই তত্ত্ব মহাবিশ্বতত্ত্ববিদদের শুরু, শেষ এবং আমাদের বর্তমান মহাজাগতিক যুগ ব্যতিক্রমী কি না, তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। এটি এমন এক ধারণাগত প্রতিপক্ষও দেয়, যেখানে মহাবিশ্ব কোনো গভীর পুনরাবৃত্ত কাঠামো ছাড়াই কেবল অনন্তকাল প্রসারিত হতে থাকে।
এই কারণেই পুরোনো ধারণাগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী থাকতে পারে। তারা বিকল্প কাঠামো দেয়, যাদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী মডেলগুলো পরীক্ষা করা যায়। মহাবিশ্বতত্ত্বে, যেখানে সরাসরি পরীক্ষা সম্ভব নয়, ধারণাগত প্রতিযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মহাবিশ্ব হয়তো বাউন্স করেনি, কিন্তু ধারণাটি করেছে
উৎস-পাঠ্য থেকে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তটি সহজ: চক্রাকার মহাবিশ্বতত্ত্ব আবারও গুরুতর আলোচনার অংশ। এটি ‘বিগ বাউন্স’-এর প্রমাণ নয়, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক আবহের একটি বাস্তব পরিবর্তন। নতুন তথ্য ও নতুন বিতর্কের কারণে, একসময় প্রান্তে ঠেলে দেওয়া তত্ত্বটি এখন আবার বিবেচিত হচ্ছে।
সে অর্থে, গল্পটি যথাযথভাবেই পুনরাবর্তী। মহাবিশ্ব হয়তো সংকুচিত হয়ে আবার শুরু করতে পারে, আবার নাও পারে। কিন্তু মহাবিশ্বতত্ত্বের সবচেয়ে স্থায়ী ধারণাগুলোর একটি তা স্পষ্টভাবেই করেছে।
এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on newscientist.com


