ব্রেন-কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের আরও বিস্তৃত একটি ধরন
গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেসে সজ্জিত রিসাস মাকাকরা কেবল স্নায়বিক কার্যকলাপ ব্যবহার করেই ভার্চুয়াল পরিবেশে চলাচল করতে পারে, যা বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক BCI সিস্টেমের তুলনায় আরও স্বাভাবিক ধরনের যন্ত্র-নিয়ন্ত্রণের দিকে ইঙ্গিত করে। এই কাজটি শুধু তাই নয় যে প্রাণীগুলো একটি কার্সার-জাতীয় বস্তু নাড়াতে পেরেছে; বরং তারা আরও সমৃদ্ধ ভার্চুয়াল পরিবেশের ভেতরে পথ চলতে পেরেছে, যার মধ্যে অবতার-ধরনের গতি ছিল, যা জীবন্ত দেহ বা হুইলচেয়ার ভবিষ্যতে যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে তার সঙ্গে আরও বেশি মেলে।
প্রদত্ত উৎসপাঠ অনুযায়ী, তিনটি বানরের প্রতিটিকে ৯৬টি ইলেকট্রোডের তিনটি আলাদা ইমপ্লান্ট দেওয়া হয়েছিল, ফলে প্রতি প্রাণীতে মোট প্রায় ৩০০টি ইলেকট্রোড ছিল। সেন্সরগুলো শুধু primary motor cortex-এ নয়, dorsal এবং ventral premotor এলাকাতেও বসানো হয়েছিল, যেগুলো উচ্চস্তরের চলাচল পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। ওই অঞ্চলগুলোর সংকেত একটি AI মডেল ডিকোড করে 3D মনিটরে প্রদর্শিত বস্তু ও অবতারের নিয়ন্ত্রণে রূপান্তরিত করে।
সেন্সরের অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ
আগের অনেক BCI গবেষণায় মানব অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক কাজ কল্পনা করতে বলা হয়েছে, যেমন আঙুল নাড়ানো, যাতে কার্সার সরানো বা স্ক্রিনে কোনো আইটেম নির্বাচন করা যায়। এই পদ্ধতি কাজ করতে পারে, তবে এটিকে প্রায়ই অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর বলা হয়। প্রদত্ত উৎসপাঠে গবেষক Peter Janssen-এর মতামত উল্লেখ করা হয়েছে যে নতুন ইমপ্লান্টের অবস্থান ব্যবহারকারীকে অদ্ভুত একটি বিচ্ছিন্ন আন্দোলন অনুকরণ করতে বলার বদলে, চলাচল পরিকল্পনার আরও বিমূর্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত স্তরকে ধরতে পারে।
এই ব্যাখ্যা যদি সত্যি হয়, তাহলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস তখনই বেশি উপযোগী হয় যখন তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করা অভিপ্রায়কে উপস্থাপন করতে বলে, ব্যবহারকারীকে পেশির কল্পনার এক অদ্ভুত বিকল্প ভাষা শিখতে বাধ্য না করে। প্রতিবেদনে বলা পরীক্ষাগুলোতে প্রাণীরা স্থির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ল্যান্ডস্কেপের মধ্য দিয়ে চলা একটি গোলক নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং তৃতীয়-ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে অ্যানিমেটেড বানর অবতারও চালিয়েছে। পরে পরীক্ষায় ভার্চুয়াল ভবনের মধ্যে চলাফেরা, দরজা খোলা এবং কক্ষের মধ্যে যাতায়াতও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে গবেষকেরা জানান।
এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে BCI শুধু এক-মাত্রিক পয়েন্টিং কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে সাধারণ নেভিগেশনের মতো দেখাতে শুরু করছে।
ভার্চুয়াল পরিবেশ থেকে বাস্তব জগতের চলাচল
উৎসে বর্ণিত দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োগগুলো বাস্তবধর্মী, নাটকীয় নয়। Janssen এবং সহকর্মীরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে ভার্চুয়াল জায়গা আরও স্বাভাবিকভাবে ঘুরে দেখতে বা বাস্তব জগতে বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। লক্ষ্য শুধু VR-এ প্রাণীর চমকপ্রদ প্রদর্শনী নয়। উদ্দেশ্য হলো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গতির সঙ্গে সম্পর্কিত স্নায়বিক সংকেত এমনভাবে ডিকোড করা যায় কি না, যাতে প্রশিক্ষণের চাপ কমে এবং সহায়ক সিস্টেম আরও বেশি কাজ করতে পারে।
স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে। মানব পরীক্ষা এখনও অনেক দূরে, এবং উৎসে বলা হয়েছে যে মানুষের ক্ষেত্রে সমতুল্য ইমপ্লান্টের অবস্থান নির্ধারণে আরও কাজ লাগবে, কারণ সেই মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলো এখনও এতটা সুনির্দিষ্টভাবে মানচিত্রায়িত নয় যে তা সঙ্গে সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ব্যবহারে আনা যায়। তবুও, গবেষকেরা মনে করেন ধারণাটি মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব এবং মানব অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া গেলে তা আরও সহজও হতে পারে।
তাই এই পরীক্ষা স্নায়ুবিজ্ঞান, AI এবং সহায়ক প্রযুক্তির সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। এখানে AI স্নায়বিক ইন্টারফেসের বিকল্প নয়; এটি অনুবাদক হিসেবে কাজ করছে, মস্তিষ্কের জটিল সংকেতকে ব্যবহারযোগ্য নির্দেশে রূপান্তর করছে। ডিকোডিং মডেল যত উন্নত হবে, কঠোর BCI কাজ থেকে সরে এসে এমন সিস্টেমের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে, যা যন্ত্র চালানোর চেয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করার মতো মনে হয়।
- তিনটি রিসাস মাকাকে, প্রতিটি বানরের জন্য প্রায় ৩০০টি implanted electrodes সহ, মোটর ও premotor মস্তিষ্ক অঞ্চলে ইমপ্লান্ট দেওয়া হয়েছিল।
- একটি AI মডেল স্নায়বিক সংকেতকে ভার্চুয়াল পরিবেশে চলাচলে ডিকোড করেছে।
- এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে পক্ষাঘাত ও স্বতঃস্ফূর্ত হুইলচেয়ার নিয়ন্ত্রণের জন্য BCI-কে কাজে লাগাতে পারে।
এই গবেষণার গভীর তাৎপর্য কেবল এই নয় যে বানররা একটি ডিজিটাল জগতে চলেছে। আসল বিষয় হলো, নিয়ন্ত্রণটি কোনো একটি শরীরের অংশের জোরপূর্বক মানসিক অনুকরণ থেকে নয়, বরং আরও উচ্চস্তরের “আড়ানোর ইচ্ছা” ধরনের প্রতিনিধিত্ব থেকে এসেছে কি না। ভবিষ্যৎ কাজ যদি তা নিশ্চিত করে, তাহলে BCI ব্যবহার করা কম অচেনা এবং দৈনন্দিন জীবনে অনেক বেশি উপকারী হয়ে উঠতে পারে।
এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনভিত্তিক। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on newscientist.com

