একই অংশগ্রহণকারীদের ৪৭ বছর ধরে পরিমাপ করা সুইডিশ গবেষণা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে শারীরিক সক্ষমতা ও শক্তি অনেকের ধারণার চেয়ে আগেই কমতে শুরু করতে পারে। সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যেও অ্যারোবিক ফিটনেস, পেশির সহনশীলতা এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের কাছাকাছি কমতে শুরু করে।

তবে এই পতন অনিবার্য নয়। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ালে ফিটনেস ও শক্তিতে অর্থবহ উন্নতি হতে পারে, যদিও ব্যায়াম বয়সজনিত সব পরিবর্তন পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না।

দশকের পর দশক একই মানুষদের অনুসরণ

গবেষণাটি Swedish Physical Activity and Fitness study বা SPAF-এর অংশ। ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ৪২৭ জন পুরুষ ও নারী এতে অংশ নেন। ১৬ বছর বয়সে প্রথম মূল্যায়ন শুরু হয়ে ৬৩ বছর পর্যন্ত চলে।

একই জনগোষ্ঠীকে বারবার পরিমাপ করায় বয়স বাড়ার সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের ভেতরের পরিবর্তন দেখা সম্ভব হয়। অ্যারোবিক ফিটনেস, পেশির সহনশীলতা ও পেশিশক্তি—বিভিন্ন সক্ষমতা মাপা হয়।

৩৫-এর কাছাকাছি ধারাবাহিক পরিবর্তন

ফলাফলে দেখা যায়, অ্যারোবিক ফিটনেস ও পেশির সহনশীলতা প্রায় ৩৫ বছর থেকে কমতে শুরু করে এবং পরবর্তী জীবনে পতন দ্রুত হয়। এতে বয়সজনিত পরিবর্তন শুধু বৃদ্ধ বয়সে শুরু হয়—এই ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

নিয়মিত কার্যকলাপ জৈবিক বার্ধক্য পুরোপুরি থামায়নি, তবে সক্রিয় ব্যক্তিদের কর্মক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

পরে কার্যকলাপ বাড়ালেও লাভ আছে

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ব্যায়াম শুরু করতে দেরি হয়ে যায় না—এটাই গবেষণার আশাব্যঞ্জক দিক। বয়সজনিত সব পরিবর্তন মুছে না গেলেও ফিটনেস ও শক্তি উন্নত হতে পারে।

মূল তথ্য

  • SPAF ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ৪২৭ জনকে ১৬ থেকে ৬৩ বছর পর্যন্ত অনুসরণ করে।
  • অ্যারোবিক ফিটনেস ও পেশির সহনশীলতা প্রায় ৩৫ বছর থেকে কমতে শুরু করে।
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে পতন দ্রুত হয়।
  • প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বেশি সক্রিয়তা ফিটনেস ও শক্তির উন্নতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

মূল বার্তা হলো, শারীরিক বার্ধক্য ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে নিয়মিত সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রতিবেদনটি Science Daily-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি। মূল প্রতিবেদন পড়ুন।

Originally published on sciencedaily.com