কিয়েভ উপসাগরীয় অঞ্চলে তার নিরাপত্তা কূটনীতি বিস্তৃত করছে

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপসাগরীয় অঞ্চল সফর করার সময় ইউক্রেন কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ের সঙ্গেই নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে। Defense News অনুযায়ী, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে কিয়েভের সঙ্গে চুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা প্রতিরোধে দক্ষতা বিনিময় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই সফরে UAE-তেও বৈঠক ছিল, যেখানে জেলেনস্কি বলেছেন, দুই দেশ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই আলোচনার বিস্তারিত দলগুলো চূড়ান্ত করবে।

যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের রপ্তানিযোগ্য জ্ঞানে পরিণত হচ্ছে

এই চুক্তিগুলোর বাস্তব গুরুত্ব নিহিত আছে সেই অভিজ্ঞতায়, যা ইউক্রেন বছরের পর বছর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে অর্জন করেছে। Defense News বলছে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা Reuters-কে জানান, ইরানি হামলা প্রতিরোধ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চুক্তি কিয়েভ চূড়ান্ত করার কাছাকাছি ছিল।

এতে নতুন অংশীদারত্বগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক প্রতীকী তাৎপর্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইউক্রেন শুধু কূটনৈতিক সমর্থন চাইছে না; বরং যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির মুখে থাকা দেশগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞতার উৎস হিসেবে উপস্থাপন করছে।

অস্থিতিশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা একটি চুক্তি

চুক্তিগুলো এমন এক বিশেষভাবে অস্থির সময়ে এসেছে। উৎস পাঠ্যে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধে 2,000-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে বিঘ্ন ঘটেছে, এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সমন্বয় উন্নত করার তাৎক্ষণিক প্রয়োজন রয়েছে, আর ইউক্রেনেরও দরকার এমন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা, যারা আঞ্চলিক সংঘাতের অভিঘাত সামলাচ্ছে। এই চাহিদার মিল কাতার চুক্তিতে counter-UAS ও counter-missile দক্ষতাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করে তুলেছে।

শুধু প্রতীকী সফরের চেয়ে বেশি

জেলেনস্কি আগে সৌদি আরবে পৌঁছেছিলেন, যেখানে উৎস অনুযায়ী আরও একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় সফরটি কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনীতির চেয়ে বেশি কিছু বলে মনে হচ্ছে। এটি ইউক্রেনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কৌশলগত সম্পর্কের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে রূপান্তর করার চেষ্টা, এমন এক সময়ে যখন নিরাপত্তা জ্ঞান এক ধরনের প্রভাবশালী সম্পদে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধৃত উৎস পাঠ্যে চুক্তিগুলোর প্রকাশ্য বিবরণ সীমিত, তবে দিকনির্দেশ স্পষ্ট। ইউক্রেন যুদ্ধের কঠিন শিক্ষা ব্যবহার করে ইউরোপের বাইরেও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ছে, আর উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বদলে দেওয়ার মধ্যে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on defensenews.com