কূটনীতি আবার আলোচ্যসূচিতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের জন্য চাপ দিচ্ছে ইউক্রেন
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের দুইটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে মনোযোগ দেন: রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে ইউক্রেন কীভাবে তার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে পারে, এবং মস্কোর সঙ্গে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক পথ আবার চালু করা সম্ভব কি না। আলোচনার পর উদ্ধৃত বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনাটি ইউক্রেনকে Patriot ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের সম্ভাব্য মার্কিন লাইসেন্স এবং সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনাকে পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টাকে ঘিরে ছিল।
জেলেনস্কির জন্য এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সফর। তিনি ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে কথা বলেন, এবং ক্যাপিটল হিলে মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সফরটি কিয়েভের জন্য কঠিন প্রেক্ষাপটেও অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় উষ্ণ বলে বর্ণনা করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য সহায়তা আটকে রেখেছে, এবং সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু ওয়াশিংটনে কিয়েভের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থককে সরিয়ে দেয়।
এই প্রেক্ষাপট আকাশ প্রতিরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষভাবে জরুরি করে তোলে। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইউক্রেনের অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের কাছে ইরানি ও রুশ-নির্মিত ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম ড্রোন রয়েছে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাই বেশি তীব্র ঘাটতি। ক্যাপিটলে সিনেটরদের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি বলেন, “আসল সমস্যা হলো অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক সিস্টেম আর অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।”
Patriot ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে
Patriot সিস্টেম পশ্চিমা সামরিক সহায়তার সবচেয়ে কৌশলগতভাবে মূল্যবান অংশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে, কারণ, উৎস অনুযায়ী, এটি ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নামানোর সক্ষম একমাত্র অস্ত্র। রাশিয়া আকাশপথে হামলা বাড়ানোর সঙ্গে এবং ইউক্রেন বারবার Patriot ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির মুখে পড়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে, ওই ইন্টারসেপ্টরগুলোর অন্তত কিছু দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা প্রতীকী শিল্প-ধাপের চেয়ে বেশি কিছু হবে। এটি বাহ্যিক সরবরাহের ওপর একমাত্র নির্ভরতার বদলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থার দিকে সম্ভাব্য সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেবে।
জেলেনস্কি বলেন, এই মাসের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প আগে ইউক্রেনকে নিজস্ব Patriot ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের বৈঠকের পর তিনি বলেন, সেই আলোচনা এগিয়েছে। টেলিগ্রামে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথোপকথনকে তিনি একটি ভালো বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তারা ওই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরে ফক্স নিউজের “Hannity”-তে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প “মেনে নিয়েছেন যে তিনি আমাদের ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লাইসেন্স দেবেন।”
শব্দচয়নটি গুরুত্বপূর্ণ। উৎসে বলা হয়নি যে উৎপাদন-চুক্তি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বা বাস্তবায়িত হয়েছে; কেবল বলা হয়েছে, নেতারা লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং জেলেনস্কি ট্রাম্পকে ধারণাটি মেনে নেওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবু এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইউক্রেন সরাসরি সরবরাহের বাইরে গিয়ে মার্কিন অনুমোদনে স্থানীয় উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, তিনি আলাদাভাবে লকহিড মার্টিনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, যাকে উৎসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা বলা হয়েছে। এই বিবরণ দেখায় যে ইউক্রেনীয় সরকার ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে এমন প্রতিরক্ষা-শিল্প সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে, যা বাস্তব উৎপাদন বা সরবরাহের ব্যবস্থা সমর্থন করতে পারে।
নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, পুরনো অনিশ্চয়তার সঙ্গে
সামরিক আলোচনার পাশাপাশি, জেলেনস্কি বলেন কূটনীতিও তার এজেন্ডার অংশ ছিল। সিনেটরদের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি বলেন, “কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ,” এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথা উল্লেখ করেন, যা যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করার সময় স্থবির হয়ে রয়েছে। এই মন্তব্য সংঘাতে পরিচিত এক ধরণকে প্রতিফলিত করে: কূটনৈতিক চ্যানেল নীতিগতভাবে সক্রিয় থাকে, কিন্তু তারা বারবার টেকসই আলোচনায় বা বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়।
রিপোর্টে উদ্ধৃত আলোচনার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে মধ্যস্থতার কাজ পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ইউক্রেন সফরে যেতে সম্মত হয়েছেন। একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৫-এ ট্রাম্প আবার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তারা দুজনেই রাশিয়া সফর করেছেন এবং বহুবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। জেলেনস্কি গত সপ্তাহে বলেন, নবায়িত আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আগেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যদিও সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
এতে কূটনৈতিক পথটি এখনো অস্থায়ী পর্যায়ে রয়ে যায়। অগ্রগতি আছে, কিন্তু এখনো কোনো সময়সূচি বা আলোচনার জন্য প্রকাশ্য কাঠামো নেই। তবুও, এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে হোয়াইট হাউস ও কিয়েভ সামরিক সহায়তার আলোচনা ও একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেগুলোকে পুরোপুরি আলাদা ট্র্যাক হিসেবে দেখছে না।
ওয়াশিংটন সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল এর আনুষ্ঠানিক এজেন্ডার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অত্যাবশ্যক হলেও নিশ্চিত নয় এমন এক সময়ে ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ জেলেনস্কির ছিল। সূত্র বলছে, তিনি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ইউক্রেনের অন্যতম প্রভাবশালী সমর্থককে সরিয়ে দেয়। বাস্তবে, এর মানে কিয়েভ এখন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে একজন সমর্থক কম নিয়ে কাজ করছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সমর্থন সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
জেলেনস্কি রুশ জ্বালানির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নেওয়া নতুন মার্কিন আইনকেও স্বাগত জানান। যদিও রিপোর্টে সেসব ব্যবস্থার বিস্তারিত নেই, তাঁর সমর্থন দেখায় যে ইউক্রেন এগুলোকে মস্কোর ওপর বৃহত্তর চাপ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূরক করে।
সব মিলিয়ে, বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ইউক্রেন ওয়াশিংটনে একটি বহুস্তরীয় কৌশল অনুসরণ করছে। এক স্তর হলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা। আরেকটি হলো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্পগত স্থিতিশীলতা। তৃতীয়টি হলো, যতই অনিশ্চিত হোক, কূটনৈতিক পুনঃসম্পৃক্ততা। তিনটিই এক দিনে আলোচনায় উঠে আসা দেখায়, এখন তারা কতটা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বৈঠকটি প্রকাশ্যে কোনো বিশদ চুক্তি দেয়নি, এবং অনেক অপারেশনাল প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত, যার মধ্যে রয়েছে কোনো লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কত দ্রুত উৎপাদনে রূপ নিতে পারে এবং রাশিয়ার সঙ্গে নবায়িত আলোচনা অনুসন্ধানী যোগাযোগের বাইরে যেতে পারবে কি না। তবে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো স্পষ্ট। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য নিজের কাছে থাকা একমাত্র ব্যবস্থার সরবরাহে আরও নিয়ন্ত্রণ চায় ইউক্রেন, এবং সেই প্রচেষ্টায় ও কূটনীতি পুনরায় শুরু করার পরবর্তী প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকেও জড়াতে চায়।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে স্পষ্ট শিরোনাম Patriot আলোচনা। লাইসেন্সিং যদি রাজনৈতিক স্বীকৃতি থেকে বাস্তবায়নে যায়, তবে তা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। কূটনীতিও যদি গতি পায়, তবে মঙ্গলবারের বৈঠকগুলোকে বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রাথমিক চিহ্ন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই পর্যায়ে, উভয় পথই এখনো চূড়ান্ত ফল নয়, বরং অগ্রসরমান প্রতিশ্রুতি।
এই নিবন্ধটি Defense News-এর রিপোর্টিংয়ের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on defensenews.com



