ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউক্রেনের বাইরেও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

লিথুয়ানিয়া থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরবরাহ করা মূল পাঠ্যে উদ্ধৃত আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, রুশ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ড্রোনগুলোকে মিত্র আকাশসীমায় ঘুরিয়ে পাঠিয়ে NATO-এর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি করছে। ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হলো GPS স্পুফিং, যেখানে ড্রোনকে ভুয়া অবস্থান তথ্য পাঠানো হয় এবং ফলে তা তার নির্ধারিত পথ থেকে অনেক দূরে সরে যেতে পারে।

এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো কার্যগত বিভ্রান্তি। কৌশলগত প্রভাব আরও গুরুতর: ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্ত ড্রোনগুলো ক্রমশ NATO রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে, যা সামরিক প্রতিক্রিয়া, জনসতর্কতা, এবং শত্রুপক্ষের হস্তক্ষেপ যখন তাদের মাটিতে বারবার ঘটনা ঘটায়, তখন জোট কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সে প্রশ্ন তুলছে।

স্পুফিং জ্যামিং থেকে কীভাবে আলাদা

মূল পাঠ্য স্পুফিং এবং জ্যামিং-এর মধ্যে একটি কার্যকর পার্থক্য তুলে ধরে। জ্যামিং ড্রোনের রিসিভারকে শব্দে আচ্ছন্ন করে, যতক্ষণ না সেটি নিজের অবস্থান নির্ণয় করার ক্ষমতা হারায়। স্পুফিং আরও প্রতারণামূলক। এটি একটি শক্তিশালী ভুয়া সংকেত পাঠায়, যা রিসিভার সত্যি বলে মেনে নেয়, ফলে ড্রোন নিজেকে অন্য কোথাও আছে বলে মনে করে।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্পুফিং শুধু একটি মিশন ব্যাহত করার চেয়েও বেশি কিছু করতে পারে। এটি সরাসরি একটি বিমানকে পথচ্যুত করতে পারে। কালিনিনগ্রাদের ট্রান্সমিটার থেকে রাশিয়া নকল স্যাটেলাইট সংকেত সম্প্রচার করছে বলে বলা হয়, যা একটি ড্রোনের নেভিগেশন দখল করতে এবং উড্ডয়নের সময় ভুয়া স্থানাঙ্ক দিতে যথেষ্ট শক্তিশালী।

মূল উপাদানে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সপ্তাহে লিথুয়ানিয়া ৩৬টি স্পুফিং ট্রান্সমিটার গণনা করেছে, যা ২০২৫ সালের শুরুতে ছিল মাত্র তিনটি। তাদের প্রভাব ৪৫০ কিলোমিটার জুড়ে অঞ্চলে বিস্তৃত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ঝুঁকি বাড়িয়েছে

এই অভিযান আর কেবল একটি তাত্ত্বিক প্রযুক্তিগত উদ্বেগ নয়। লিথুয়ানিয়া বলেছে, ২০ মে ভিলনিয়াসে হস্তক্ষেপ পৌঁছায়, যার ফলে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যায়, বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়, এবং পার্লামেন্ট খালি করা হয়। মূল পাঠ্যে এটিকে ২০২২ সালের পর লিথুয়ানিয়ার রাজধানীতে এ ধরনের প্রথম সতর্কতা বলা হয়েছে।

কয়েক দিন পরে রোমানিয়া আরও সরাসরি আক্রান্ত হয়, যখন একটি রুশ ড্রোন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আঘাত করে দুইজন বেসামরিক মানুষকে আহত করে। নিবন্ধটি বলে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ শুরু হওয়ার পর NATO-এর মাটিতে এটাই প্রথম হতাহতের ঘটনা হতে পারে।

এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাল্টিক আকাশসীমায় প্রবেশ করা অনেক ড্রোনই রাশিয়া থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি। সেগুলো ইউক্রেন পরিচালনা করছিল এবং পরে রুশ স্পুফিংয়ের ফলে দিকচ্যুত হয়। এই গতিশীলতা দায় নির্ধারণ ও প্রতিক্রিয়াকে জটিল করে তোলে, কারণ যে প্ল্যাটফর্মটি মিত্র আকাশসীমায় প্রবেশ করে সেটি ইউক্রেনীয় হতে পারে, কিন্তু যেটি তাকে সরিয়ে দিয়েছে সেই হস্তক্ষেপ রুশ।

NATO-এর সামনে দায় নির্ধারণ ও প্রতিরোধের সমস্যা

এই ঘটনাগুলো জোটের জন্য একটি কঠিন নীতিগত ক্ষেত্র তৈরি করছে। NATO হামলার নিন্দা করেছে এবং প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে, কিন্তু মূল পাঠ্যে বলা হয়েছে, তারা পাল্টা আঘাতের হুমকি দেয়নি। রোমানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গালাতি-র কাছে হামলাটি অনুচ্ছেদ ৪-এর অধীনে পরামর্শের কারণ হতে পারে, যা কোনো সদস্য রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করলে জোট ব্যবহার করে। তবে কোনো রাষ্ট্র অনুচ্ছেদ ৫ সক্রিয় করেনি।

এই সংযম স্পুফিংয়ের অন্তর্নিহিত অস্পষ্টতাকে প্রতিফলিত করে। প্রযুক্তিটি একজন পক্ষকে বাস্তব ক্ষতি করার সুযোগ দেয়, আবার কিছুটা অস্বীকারযোগ্যতা ও বিভ্রান্তিও বজায় রাখে। একটি ড্রোন মিত্র ভূখণ্ডে আঘাত করতে পারে, কিন্তু প্রচলিত অর্থে তা সরাসরি ইচ্ছাকৃত হামলা নাও হতে পারে। তবু সামগ্রিক প্রভাব দমনমূলক, অস্থিতিশীলকারী, এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

মূল উপাদানে আরও বলা হয়েছে, ১৯ মে একটি রোমানীয় F-16 এস্তোনিয়ার আকাশে একটি ড্রোন গুলি করে নামায়, যাকে মিত্র জেট প্রথমবারের মতো ইউক্রেনীয় বলে মনে করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করা ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওই এক ঘটনাই দেখায়, দ্রুতগতির বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতিতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কীভাবে বন্ধু, শত্রু, এবং অভিপ্রায়ের সীমা ঝাপসা করে দেয়।

আকাশসীমার চ্যালেঞ্জে নতুন ফ্রন্ট

এর বৃহত্তর তাৎপর্য হলো, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এখন শুধু সরাসরি সামরিক চাপের মাধ্যমেই নয়, বরং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেও জোটের ভেতরে দ্বিতীয়িক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্পুফিং ট্রান্সমিটারকে বাস্তব সীমান্ত অতিক্রম করতে হয় না, তবু তারা সীমান্ত পেরিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

এটি NATO-কে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ, ড্রোন আটকানোর প্রোটোকল, এবং ন্যাভিগেশন আক্রমণের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে বিতর্কিত অঞ্চলের কাছাকাছি পরিচালিত ড্রোনগুলোর জন্য, দুর্বল স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ইনপুটের ওপর কম নির্ভরশীল ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়তে পারে।

সামনের সারির NATO রাষ্ট্রগুলোর জন্য, মূল পাঠ্যে বর্ণিত ধরণটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো সাময়িক ব্যতিক্রম নয়। লিথুয়ানিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রায় তিন বছর ধরে বাড়ছে এবং এখন ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ লক্ষ্যবস্তুতে এগোলে তা তীব্রতর হয়। এভাবে আঞ্চলিক বিঘ্ন সরাসরি যুদ্ধের বৃহত্তর ছন্দের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

ফলাফল হলো একটি নতুন কার্যগত বাস্তবতা। এক সংঘাতক্ষেত্রের ভেতরে যুদ্ধক্ষেত্রের সরঞ্জাম হিসেবে শুরু হওয়া ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এখন তার বাইরেও নাগরিক সতর্কতা, সামরিক sorties, এবং জোট রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। NATO এখনও উত্তেজনা বাড়ানো নিয়ে সতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু পথভ্রষ্ট ড্রোন, আহত বেসামরিক মানুষ, এবং বিঘ্নিত রাজধানী শহর জড়িত বারবারের ঘটনাগুলো স্পুফিংকে কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিরক্তি হিসেবে দেখাকে কঠিন করে তুলবে। এটি নিজস্ব একটি নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনভিত্তিক। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on defensenews.com