পেন্টাগনে আরেকটি আকস্মিক নেতৃত্ব পরিবর্তন
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পেন্টাগন নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। নৌবাহিনীর উপসচিব হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিবের ভূমিকা নেবেন।
প্রাথমিক ঘোষণার সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পরে এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা Military Times-কে জানান, নৌবাহিনীতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দু’জনেই একমত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার আগে হেগসেথ ফেলানকে জানিয়েছিলেন।
কোনো সতর্কতা ছাড়াই শেষ হওয়া সংক্ষিপ্ত মেয়াদ
ফেলানকে ২০২৫ সালের মার্চে ৬২-৩০ ভোটে সিনেট অনুমোদন দিয়েছিল, এবং গত ৭০ বছরে নৌবাহিনী সচিব পদে থাকা মাত্র সপ্তম নন-ভেটেরান ছিলেন তিনি। ওয়াশিংটনে Navy League-এর Sea-Air-Space সিম্পোজিয়ামে উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর অপসারণ ঘটে, যেখানে তিনি জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা এবং ২০২৭ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেটে জাহাজের চাহিদা বাড়ানোর নৌবাহিনীর প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
এই আকস্মিক সময়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ এটি নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ ও প্রস্তুতি নিয়ে চলমান জনআলোচনার মাঝখানে এল। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত কার্যগতভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেও নৌবাহিনী কাজ করছিল।
হেগসেথের অধীনে বড় ধারা
ফেলানের অপসারণ একা নয়। প্রতিবেদনটি এটিকে হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হওয়া উচ্চপর্যায়ের অপসারণের বৃহত্তর ধারার অংশ হিসেবে দেখায়। এপ্রিলের শুরুতে, হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে অবসর নিতে বলেছিলেন, যার ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ শুরু হওয়া তাঁর মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হয়। একই দিনে সেনাবাহিনীর আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও বিস্তৃতভাবে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হেগসেথ জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল C.Q. ব্রাউনসহ এক ডজনের বেশি জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে বরখাস্ত করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো এক বিভাগের আলাদা মানবসম্পদ সিদ্ধান্ত নয়, বরং সামরিক নেতৃত্ব পুনর্গঠনের একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।
এখন নৌবাহিনীর এই বদল কেন গুরুত্বপূর্ণ
নৌবাহিনী সচিবের পদ বাজেট, জাহাজ নির্মাণ, বাহিনী-অবস্থান এবং শিল্প সক্ষমতার সংযোগস্থলে থাকে বলে এর গুরুত্ব অসাধারণ। ফেলান সম্প্রতি জাহাজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, আর নৌবাহিনী জাহাজ সংগ্রহ বাড়াতে চাইছিল। এমন সময়ে বিভাগের বেসামরিক নেতাকে বদলানো ধারাবাহিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বড় সংগ্রহ প্রচেষ্টার গতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
ভারপ্রাপ্ত ভূমিকায় হাং কাও প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক ধারাবাহিকতা দিচ্ছেন, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত নেতারা সাধারণত অনুমোদিত কর্মকর্তাদের মতো নীতিগত স্বাধীনতা বা দীর্ঘমেয়াদি ম্যান্ডেট রাখেন না। বিদেশে কার্যগত চাহিদা এবং দেশে জটিল বাজেট ও জাহাজ নির্মাণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ভারসাম্য রাখার সময় এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বৃহত্তর গল্প তাই কেবল একটি পদবদল নয়। এটি সামরিক নেতৃত্ব শৃঙ্খলের শীর্ষে অস্থিরতার ইঙ্গিত। আকস্মিক রদবদল নীতি-সামঞ্জস্য ত্বরান্বিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু তা ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলতে পারে। নৌবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর চাপ এবং ভবিষ্যৎ কৌশলে জাহাজ নির্মাণের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বিবেচনায়, নৌবাহিনী সচিবকে সরিয়ে দেওয়া কেন হলো এবং এরপর কী হয়, দুটোই নজরে থাকবে।
এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.


