বায়ু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনে পেন্টাগনের পদক্ষেপ
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর লকহিড মার্টিন এবং জেনারেল ডাইনামিক্স অর্ডন্যান্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্যাল সিস্টেমসের সঙ্গে দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন বাড়াতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে: প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড কেপাবিলিটি-3 মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর।
প্রদত্ত উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিগুলো সাত বছরের ক্রয়চুক্তি চালু করবে, যার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উপাদানের উৎপাদন পরিমাণ বাড়ানো এবং সরবরাহ সময়সূচি ত্বরান্বিত করা। লক্ষ্যগুলো বড়: প্যাট্রিয়ট উৎপাদন তিন গুণ করা এবং THAAD ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন সক্ষমতা চার গুণ করা। পেন্টাগনের জন্য এটি কেবল শিল্প-দক্ষতার পদক্ষেপ নয়। উৎস পাঠ্য বলছে, এটি একাধিক থিয়েটারে জমে ওঠা কৌশলগত মজুত-চাপের প্রতিক্রিয়া।
কেন উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে
মূল চালক হলো মজুত হ্রাস। উৎস উপাদান অনুযায়ী, ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্যাট্রিয়ট ও THAAD ইন্টারসেপ্টরের মার্কিন মজুতকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। এতে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে অনুমান করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তার প্যাট্রিয়ট মজুতের প্রায় 65% এবং THAAD ইন্টারসেপ্টরের 38% ব্যবহার করে ফেলেছে, আর যুদ্ধ-পূর্ব প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেষ হয়ে গেছে।
এই সংখ্যাগুলো দেখায় কেন ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন এখন জরুরি বিষয়। আধুনিক বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য, কিন্তু সেগুলো ব্যয়বহুল, প্রযুক্তিগতভাবে জটিল এবং অনেক প্রচলিত গোলাবারুদের তুলনায় পুনরায় পূরণ করতে ধীর। কোনো সামরিক বাহিনী যদি শিল্প যত দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে পারে তার চেয়ে দ্রুত এগুলো ব্যবহার করে ফেলে, তাহলে তা শুধু ক্রয়সংক্রান্ত সমস্যা থাকে না। এটি প্রতিরোধক্ষমতা, প্রস্তুতি এবং অন্য কোথাও বেশি ঝুঁকি না নিয়ে নতুন সংকটের জবাব দেওয়ার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
ব্যবহারকারীর দেওয়া পাঠ্য এই চ্যালেঞ্জকে ঠিক সেই ভাষাতেই তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ব্যবহারের পাশাপাশি ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং Army Tactical Missile Systems স্থানান্তরের মাধ্যমেও মার্কিন মজুত ক্ষয় হয়েছে। একই উৎস আরও সতর্ক করে যে কম মজুত দেশের যুদ্ধ করার এবং অন্যান্য সমপর্যায়ের প্রতিপক্ষের, বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে, প্রতিরক্ষা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
চুক্তিগুলো কী বদলাতে পারে
ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি তাৎক্ষণিক, পুরোপুরি অর্থায়িত উৎপাদন আদেশের সমান নয়। উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে যে surge funding এখনো বার্ষিক কংগ্রেসীয় বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে, পেন্টাগন বৃহত্তর উৎপাদনভিত্তির জন্য একটি চুক্তিভিত্তিক ও শিল্পগত পথ তৈরি করছে, কিন্তু সেই পথ বছরে কতটা আক্রমণাত্মকভাবে অর্থায়ন করা হবে তা এখনও কংগ্রেসই ঠিক করবে।
তবুও, এই চুক্তিগুলো ইঙ্গিত দেয় যে দপ্তর সাধারণ ক্রয়চক্রের তুলনায় দ্রুততর সম্প্রসারণ চায়। সাত বছরের ব্যবস্থা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উপাদানের ওপর জোর দিয়ে পেন্টাগন প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটিকে, অর্থাৎ চূড়ান্ত সংযোজনের নিচের স্তরের bottleneck-গুলোকে, মোকাবিলা করছে বলে মনে হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে চালিকা শক্তি, নির্দেশনা, কাঠামো বা বিশেষ উপাদানের ঘাটতি পুরো ব্যবস্থাকে ধীর করে দিতে পারে, এমনকি প্রধান ঠিকাদাররা উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তুত থাকলেও।
উৎস পাঠ্য আরও বলছে, আগস্টের শুরুর দিকে পেন্টাগন Northrop Grumman এবং Lockheed Martin-এর সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ও THAAD উৎপাদন বাড়াতে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ঘোষণা করেছিল। সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপগুলো সরবরাহকারী ভিত্তি প্রসারিত করা এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন শৃঙ্খলের choke point দূর করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
ইন্টারসেপ্টর সম্প্রসারণের পেছনের কৌশলগত যুক্তি
প্যাট্রিয়ট এবং THAAD সম্পর্কিত হলেও স্তরভিত্তিক বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় ভিন্ন ভূমিকা পালন করে। উভয়ই বাহিনী, মিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয়, তবে তারা একে অপরের বিকল্প নয়। একই সঙ্গে দুটি উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের অর্থ হলো পেন্টাগন একটি মাত্র সংকীর্ণ পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা করছে না। এটি ভিন্ন হুমকি পরিসর এবং পরিচালন পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী চাহিদার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কৌশলগত যুক্তি সহজ। সংকট তীব্র হওয়ার আগেই বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুত সবচেয়ে মূল্যবান, কারণ তাদের প্রাপ্যতাই প্রতিপক্ষের হিসাবকে প্রভাবিত করে। মজুত দৃশ্যমানভাবে কম হলে প্রতিরোধমূলক প্রভাব দুর্বল হতে পারে। মজুত যদি শক্তিশালী এবং পুনরায় পূরণযোগ্য হয়, তাহলে সামরিক বাহিনী মিত্রদের সহায়তা, অভিযান বজায় রাখা এবং একই সময়ে একাধিক পরিস্থিতির ঝুঁকি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি নমনীয়তা পায়।
ব্যবহারকারীর দেওয়া পাঠ্য কমে যাওয়া মজুতকে সমপর্যায়ের প্রতিপক্ষ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে এই উদ্বেগকে জোরালো করেছে। সেই অর্থে, নতুন চুক্তিগুলো তাৎক্ষণিক পুনরায় মজুতের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিকল্প সক্ষমতা নিয়েও। লক্ষ্য হলো বর্তমান চাহিদা যেন পেন্টাগনের অন্যত্র সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ক্ষয় না করে।
শিল্পক্ষমতা এখন সামনের সারির বিষয়
সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর সবচেয়ে স্পষ্ট শিক্ষা হলো, প্রতিরক্ষা শিল্পক্ষমতা এখন আর শুধু পটভূমির ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয় নয়, বরং সামনের সারির কৌশলগত উপাদান। শান্তিকালীন সরবরাহ শৃঙ্খল যদি কম-পরিমাণের অনুমানের ওপর নির্মিত হয়, তাহলে যুদ্ধকালের গতিতে প্রিসিশন ইন্টারসেপ্টর তাৎক্ষণিকভাবে বানানো যায় না। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি গ্রহণের সিদ্ধান্তটি স্বীকার করছে যে surge production আগেই প্রকৌশলগতভাবে প্রস্তুত করতে হবে।
এর জন্য কেবল আরও সমাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র অর্ডার করাই যথেষ্ট নয়। এর অর্থ প্রধান ঠিকাদার, উপস্তরের নির্মাতা, শ্রমশক্তি, উপকরণ, উৎপাদন সরঞ্জাম এবং অর্থায়নের দৃশ্যমানতা সবকিছুর সমন্বয়। একই সঙ্গে মানতে হবে যে সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে বছর লেগে যেতে পারে, বিশেষত যেসব ব্যবস্থায় কর্মক্ষমতা ও মানের দাবি অত্যন্ত কঠোর। উৎস পাঠ্যে উল্লেখিত সাত বছরের কাঠামো ইঙ্গিত দেয় যে পেন্টাগন শিল্পকে এই স্কেল-আপে বিনিয়োগ করার জন্য যথেষ্ট ধারাবাহিকতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ঠিকাদারদের জন্য, বরাদ্দ অনুমোদিত হলে এই চুক্তিগুলো কারখানা সম্প্রসারণ বা সরবরাহকারী উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য শক্ত ভিত্তি দিতে পারে। নীতিনির্ধারকদের জন্য, এটি আরও কঠিন এক সত্য উন্মোচন করে: উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তুতি নির্ভর করে উৎপাদন সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, নাকি এটিকে গৌণ বাজেট লাইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর।
পরের দিকে কী দেখবেন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনিষ্পন্ন ভেরিয়েবল হলো অর্থায়ন। পরিকল্পিত surge বার্ষিক কংগ্রেসীয় বরাদ্দের সঙ্গে যুক্ত থাকায়, সম্প্রসারণের চূড়ান্ত গতি শিল্প-ইচ্ছার মতোই বাজেট রাজনীতির ওপরও নির্ভর করবে। যদি বরাদ্দ পেন্টাগনের ঘোষণায় ইঙ্গিত করা মাত্রায় ফ্রেমওয়ার্ককে সমর্থন করে, তাহলে প্যাট্রিয়ট ও THAAD উৎপাদন হতে পারে একটি প্রধান পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র, যেখানে বোঝা যাবে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তিকে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাহিদার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে সরবরাহের সময়। কাগজে উৎপাদনক্ষমতা আর ইউনিটে পৌঁছে দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এক নয়। উৎস পাঠ্য বলছে, চুক্তিগুলোর উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উপাদানের সরবরাহ সময়সূচি ত্বরান্বিত করা, যা বোঝায় পেন্টাগন মোট উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সময়সীমাও কমাতে চাইছে। সেটি সফল হলে তবেই বোঝা যাবে কমে যাওয়া মজুত কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়।
এখনকার জন্য বার্তাটি পরিষ্কার। প্রতিরক্ষা দপ্তর ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিকে এমন একটি কৌশলগত সমস্যা হিসেবে দেখছে, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিল্পসমাধান দরকার। প্যাট্রিয়ট উৎপাদন তিন গুণ এবং THAAD সক্ষমতা চার গুণ করার পথে এগিয়ে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বড় মাত্রার ব্যবহার আর বিরল বা স্বল্পমেয়াদি থাকবে ধরে নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুত এখন আর পরিচালনা করা যাবে না।
- পেন্টাগন লকহিড মার্টিন এবং জেনারেল ডাইনামিক্স অর্ডন্যান্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্যাল সিস্টেমসের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ঘোষণা করেছে।
- চুক্তিগুলোর লক্ষ্য প্যাট্রিয়ট উৎপাদন তিন গুণ এবং THAAD ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন সক্ষমতা চার গুণ করা।
- ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত এবং ইউক্রেনে স্থানান্তরের কারণে মার্কিন মজুত কমেছে বলে উৎস পাঠ্যে বলা হয়েছে।
- উৎপাদনের যেকোনো বৃদ্ধিই বার্ষিক কংগ্রেসীয় বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on defensenews.com


