পেন্টাগন ক্লিয়ারেন্স এজেন্সি AI-এর জন্য আরও সংকীর্ণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে

ডিফেন্স কাউন্টারইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফেডারেল নিরাপত্তা-ক্লিয়ারেন্স পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার কিছু অংশকে মাস থেকে ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে পারে। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিতগুলোর একটি যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার AI-কে শুধু ব্যাক-অফিস পরীক্ষামূলক কাজে নয়, বরং একটি মূল জাতীয় নিরাপত্তা ওয়ার্কফ্লোর ভেতরেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।

এই দাবি এসেছে এজেন্সির বিশ্লেষণ ও উদ্ভাবন প্রধান মার্ক নেহমার-এর কাছ থেকে, যিনি ১৬ জুন ভার্জিনিয়ায় Defense One Tech Summit-এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য একটি সীমিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে ছিল: ক্লিয়ারেন্স পাইপলাইনে ছোট, পৃথক সিদ্ধান্তগুলোতে AI-কে সহায়তা করতে দেওয়া, তারপর সেই কাজটি এমন একটি প্রমাণ-প্যাকেজসহ মানব বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো, যা তারা পর্যালোচনা করে অনুমোদন করতে পারেন।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। AI-কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে না দেখিয়ে, নেহমার প্রযুক্তিটিকে নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী ধাপগুলো দ্রুত করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, একই সঙ্গে মানুষ ও কোম্পানিগুলো গোপন কাজে প্রবেশাধিকার পাবে কি না তা নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তের জন্য মানব বিবেচনা বজায় রেখেছেন।

সোর্স রিপোর্টে তিনি বলেন, “We’re trying to use AI exquisitely,” যাতে “little tiny decisions” সামলানো যায়, তারপর ফলাফল একজন মানুষের কাছে আনা যায়। কার্যগত অর্থে, এটি এমন একটি সহায়ক মডেলের ইঙ্গিত দেয় যেখানে সফটওয়্যার তথ্য বাছাই, তুলনা, বা ফ্ল্যাগ করতে সাহায্য করে এবং অভিজ্ঞ পর্যালোচকেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী থাকেন।

কেন সময়টি গুরুত্বপূর্ণ

DCSA ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থায় প্রান্তিক কোনো খেলোয়াড় নয়। এটি প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান সংস্থা, যা ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত পরিচালনা করে এবং গোপন তথ্যের প্রবেশাধিকার পেতে কর্মীদের যাচাই করে। কোন কোম্পানি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না, তা নির্ধারণেও এটি সাহায্য করে। মামলাগুলো কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়, তার যেকোনো পরিবর্তন প্রতিরক্ষা কেনাকাটা, কন্ট্রাক্টর নিয়োগ, এবং কর্মসূচিগুলোতে দ্রুত জনবল বসানোর গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এজেন্সিটির AI-তে আগ্রহ এমন সময়ে এসেছে যখন চাহিদার চাপ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। নেহমার বলেন, সম্প্রতি অনুমোদিত একটি অধিগ্রহণ সংস্কার, যা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করে, DCSA-কে বছরে প্রায় ৪৩,০০০ ক্লিয়ারেন্স অনুরোধ প্রক্রিয়া করতে বাধ্য করবে। এই অনুমানিত পরিমাণই ব্যাখ্যা করে কেন এজেন্সি এমন টুল খুঁজছে যা অতিরিক্ত জনবল না বাড়িয়েই পর্যালোচনার সময় কমাতে পারে।

বছরের পর বছর ধরে, নিরাপত্তা-ক্লিয়ারেন্স সংস্কারকে ব্যাকলগ কমানো, আধুনিকায়ন, এবং অবিচ্ছিন্ন vetting-এর মাধ্যমে দেখা হয়েছে। এখন AI সেই প্রচেষ্টার পরের স্তর হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। এটি যদি বর্ণনা অনুযায়ী কাজ করে, তবে প্রযুক্তিটি শুধু আবেদনকারীদের নয়, বরং দ্রুত সংবেদনশীল পদ পূরণ করতে চাওয়া ফেডারেল সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও অপেক্ষার সময় কমাতে পারে।

ব্যাচ তদন্ত থেকে অবিরাম ডেটা পর্যালোচনা

DCSA-এর AI উদ্যোগ বিদ্যমান আধুনিকায়ন অভিযানের ওপর দাঁড়িয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থাকে শূন্য থেকে বদলে দেওয়ার ওপর নয়। সোর্স রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে এজেন্সিটি সরকারের ব্যাকগ্রাউন্ড-চেক প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে, যখন Office of Personnel Management তার National Background Investigations Bureau-কে পেন্টাগনে স্থানান্তর করে। তারপর থেকে, DCSA লক্ষ লক্ষ ক্লিয়ারেন্সধারীকে একটি continuous-vetting উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার উদ্দেশ্য পর্যায়ক্রমিক পুনঃতদন্তের ওপর শুধু নির্ভর না করে ঝুঁকি ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

এই বৃহত্তর পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি AI যে সমস্যাটি সমাধান করবে বলে বলা হচ্ছে তার রূপই বদলে দেয়। প্রচলিত ক্লিয়ারেন্স পর্যালোচনা প্রায়ই কাগজপত্র-নির্ভর, ম্যানুয়াল, এবং পর্যায়ক্রমিক বলে বর্ণনা করা হয়। বিপরীতে, continuous vetting এমন একটি আরও স্থায়ী সিগন্যাল প্রবাহ তৈরি করে, যেগুলো বাছাই, মেলানো, বা আরও উঁচুতে পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে। অন্তত তত্ত্বগতভাবে, AI এই ধরনের triage এবং pattern-recognition কাজের জন্য উপযুক্ত।

তবে এখনও স্পষ্ট নয়, DCSA ঠিক কোন সিস্টেম ব্যবহার করতে চায়। নেহমার এই উদ্যোগের পেছনের AI টুলগুলোর নাম জানাননি। ফলে model design, data governance, error handling, explainability, এবং যে প্রেক্ষাপটে false positive ও false negative-এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে সেখানে স্বয়ংক্রিয় সুপারিশের কার্যকারিতা এজেন্সি কীভাবে যাচাই করবে, সেইসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খোলা রয়ে গেছে।

দক্ষতার লাভের সঙ্গে আস্থা ও নজরদারির প্রশ্নও আসে

প্রক্রিয়ার কিছু অংশকে মাস থেকে ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বড়, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট সাধারণ enterprise automation-এর চেয়ে আলাদা মানদণ্ড দাবি করে। ক্লিয়ারেন্স পর্যালোচনায় সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য, তদন্তের রেকর্ড, এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিচার অন্তর্ভুক্ত থাকে। AI যদি কেবল ছোট উপ-সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধও থাকে, সেই সিদ্ধান্তগুলোর গুণমান বিশ্লেষকের প্রাথমিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শেষ ফলকে বদলে দিতে পারে।

এই কারণেই মানব পর্যালোচনার ওপর নেহমারের জোর সম্ভবত কেন্দ্রীয়ই থাকবে। এমন একটি ব্যবস্থা যা প্রমাণ স্পষ্টভাবে সামনে আনে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র বিশ্লেষকদের হাতে ছেড়ে দেয়, সেটি এমন ব্যবস্থার চেয়ে বেশি রক্ষাযোগ্য হতে পারে যা সুপারিশ কীভাবে তৈরি হলো তা আড়াল করে। এটি ফেডারেল পর্যায়ের একটি বিস্তৃত ধারার সঙ্গেও মেলে, যেখানে এজেন্সিগুলো AI-কে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের বিকল্প নয়, বরং স্টাফের জন্য একটি বুস্টার হিসেবে উপস্থাপন করে।

তবু, ক্লিয়ারেন্স ওয়ার্কফ্লোতে AI-এর প্রবেশ প্রতিষ্ঠানগত প্রত্যাশা বদলে দিতে পারে। কোনো টুল একবার যদি দেখাতে পারে যে এটি নথি পর্যালোচনা দ্রুত করতে, মামলাকে অগ্রাধিকার দিতে, বা প্রমাণ একত্র করতে পারে, তাহলে তার ভূমিকা বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়। নীতিনির্ধারক এবং তদারকি সংস্থাগুলো সম্ভবত জানতে চাইবে DCSA কোথায় সেই সীমানা টানে, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিরীক্ষণ করে, এবং AI-সহায়তাপ্রাপ্ত ধাপে হওয়া ত্রুটিকে আবেদনকারীরা কীভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

সরকারি AI গ্রহণের একটি বাস্তব পরীক্ষা

DCSA-এর পরিকল্পনার বড় গুরুত্ব হলো, এটি AI-কে বিমূর্ত কৌশল থেকে একটি অত্যন্ত বাস্তব ফেডারেল মিশন ক্ষেত্রে নিয়ে আসছে। অনেক সরকারি AI ঘোষণা পাইলট, নির্দেশিকা, বা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর কেন্দ্রীভূত। ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকরণ আলাদা: এটি মাপযোগ্য, সময়সংবেদনশীল, এবং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা জনবল নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত।

যদি এজেন্সি দেখাতে পারে যে AI মান বা due process দুর্বল না করেই পর্যালোচনা দ্রুত করে, তবে এটি অন্য ফেডারেল ওয়ার্কফ্লোর জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে, যেগুলোতে ভারী নথিপত্র এবং উচ্চঝুঁকির মানব বিচার একসঙ্গে লাগে। যদি ব্যর্থ হয়, তবে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গতি গুরুত্বপূর্ণ এমন সংবেদনশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় AI ব্যবহারের বিষয়ে সংশয় আরও জোরদার করবে।

এখনকার জন্য, DCSA-এর বার্তা সতর্ক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। এজেন্সি স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারেন্সের প্রচার করছে না। এটি বলছে, সতর্কভাবে সীমিত AI একটি ধীর এবং সম্পদ-নিবিড় প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়াশীল কিছুতে সংকুচিত করতে পারে, যদি মানুষ প্রক্রিয়ায় থাকে এবং প্রমাণ পর্যালোচনাযোগ্য থাকে। AI-দাবিতে ভরা ফেডারেল পরিবেশে, এটি একটি স্পষ্ট অপারেশনাল প্রতিশ্রুতি, এবং সেটি নিবিড়ভাবে দেখা হবে।

এই নিবন্ধটি Defense One-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on defenseone.com