একসময় উত্তেজনাপূর্ণ একটি ধারণা এখন বড় ঝুঁকি হিসেবে পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে
MIT Technology Review-এর সর্বশেষ Download নিউজলেটারে থাকা সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সতর্কবার্তাগুলোর একটি synthetic mirror bacteria নিয়ে, এমন এক ধারণা যা একসময় কিছু বিজ্ঞানী উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সম্ভাব্যভাবে রূপান্তরমূলক গবেষণার দিক হিসেবে সমর্থন করেছিলেন। নিউজলেটার অনুযায়ী, যারা আগে এই জীব তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন এখন মত বদলেছেন এবং সতর্ক করছেন যে mirror life পৃথিবীর জীবনের জন্য বিপর্যয়কর হুমকি হতে পারে।
এই ধারণার শিকড় অন্তত 2019 সালে U.S. National Science Foundation-এ জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবে। লক্ষ্য ছিল এমন ল্যাব-নির্মিত ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা, যাদের প্রোটিন ও চিনি সাধারণ জীবনে দেখা উপাদানের আয়ন-প্রতিচ্ছবি হবে। গবেষকদের ধারণা ছিল, এ ধরনের জীব কোষ কীভাবে গঠিত হয়, ওষুধ কীভাবে ডিজাইন করা যায়, এমনকি জীবন নিজেই কীভাবে শুরু হয়েছিল তা নিয়েও নতুন ধারণা দিতে পারে।
কেন উদ্বেগ বেড়েছে
নিউজলেটার বলছে, এখন একই গবেষণাপথকে গুরুতর বায়োসেফটি বিপদ হিসেবে নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে। গভীর বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাসম্পন্ন অগ্রণী পরীক্ষার বদলে mirror organisms-কে এক সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঘটনার ট্রিগার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রদত্ত লেখায় সেই উদ্বেগের পেছনের পূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা নেই, তবে এটি পরিষ্কার যে বিশেষজ্ঞদের অবস্থান বদল এতটাই নাটকীয় যে সেটি একটি বড় সতর্কবার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই উল্টে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিক সতর্কতা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয় যখন তা আসে সেইসব মানুষের কাছ থেকে, যারা একসময় কাজটির প্রতি উৎসাহী সমর্থক ছিলেন। এতে বোঝা যায়, বিতর্কটি আর কেবল কাল্পনিক জনভয় বা বাইরের সন্দেহের নয়। এটি গবেষণা-সমাজের ভেতরেই চলছে।
নিজেকে সংশোধন করার এক উদ্ভাবন-কাহিনি
উদ্ভাবন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রায়ই নজর থাকে নতুন প্রযুক্তি কী কী সম্ভব করে। এই ঘটনাটি সমান গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্রশ্ন নিয়ে: কী তৈরি করা উচিত নয়, অথবা অন্তত অনেক শক্তিশালী সুরক্ষা ও নজরদারি ছাড়া কী এগোনো উচিত নয়। mirror bacteria-এর গল্প দেখায়, গবেষকেরা দ্বিতীয়িক প্রভাব নিয়ে আরও সতর্কভাবে ভাবলে উন্নত বিজ্ঞান কীভাবে প্রতিশ্রুতি থেকে বিপদে পরিণত হতে পারে।
এর মানে এই নয় যে প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা অযৌক্তিক ছিল। 2019 সালের প্রস্তাবটি মৌলিক জীববিজ্ঞান অনুসন্ধান এবং চিকিৎসা ও synthetic life-এ নতুন পথ খোলার একটি অগ্রসর প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু অগ্রণী ধারণা স্থির থাকে না। প্রযুক্তিগত চিত্র বদলালে নৈতিক ও নিরাপত্তা মূল্যায়নও বদলে যায়। যে প্রকল্প একসময় সুযোগ বলে মনে হয়েছিল, তা অগ্রহণযোগ্য সিস্টেমিক ঝুঁকি বলে মনে হতে পারে।
বৃহত্তর ইঙ্গিত
নিউজলেটার mirror-life সতর্কতার সঙ্গে একটি আলাদা গল্প জুড়ে দেয়, যেখানে চীনা প্রযুক্তিকর্মীরা AI ডাবল প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, আবার অটোমেশনের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ করছেন। একসঙ্গে, তারা উদ্ভাবনের একটি পুনরাবৃত্ত থিমের দিকে ইঙ্গিত করে: প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর একই তাগিদ নিয়ন্ত্রণ, পরিচয়, এবং অনিচ্ছাকৃত পরিণতির প্রশ্নের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে জড়ায়।
mirror bacteria প্রসঙ্গে বিষয়টি শ্রম-উচ্ছেদ বা পণ্যের হাইপ নয়। এটি অস্তিত্বগত ঝুঁকি। সীমিত তথ্যের মধ্যেও বার্তাটি যথেষ্ট স্পষ্ট: synthetic mirror organisms-এর অনুসন্ধানে এত বড় বিপদ রয়েছে বলে কিছু বিজ্ঞানী এখন মনে করছেন, যে গুরুতর সতর্কতা ন্যায্য।
এটি তাই কেবল একটি উসকানিমূলক গবেষণা বিতর্কের চেয়ে বেশি। প্রশ্ন হলো, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি চিনতে পারবে কখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজ হলো ধীরে চলা, পুনর্বিবেচনা করা, এবং ক্ষমতা সতর্কতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে অন্যদের সতর্ক করা।
এই নিবন্ধটি MIT Technology Review-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on technologyreview.com
