অদৃশ্য হয়ে যাওয়া এক উষ্ণমণ্ডলীয় হিমবাহকে ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে
দশকের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে এমন বরফ নথিভুক্ত করতে গবেষকরা যখন দৌড়ঝাঁপ করছেন, তখন বিশ্বের শেষ কয়েকটি উষ্ণমণ্ডলীয় হিমবাহ ব্যবস্থার একটিকে বিস্তারিত 3D মডেলে ধরা হয়েছে। কাজটি ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল পাপুয়া প্রদেশের পুঞ্চাক জয়ার শিখরের কাছে থাকা হিমবাহগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বরফের আচ্ছাদন দ্রুত ধসিয়ে দিয়েছে।
এই ম্যাপিং প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেন অভিযাত্রী, আলোকচিত্রী ও বিজ্ঞানী ক্লাউস থাইমান, যিনি 2025 সালের শেষ দিকে প্রত্যন্ত উচ্চভূমিতে গিয়ে অবশিষ্ট বরফ সেন্টিমিটার-স্তরের বিস্তারিততায় রেকর্ড করেন। প্রকল্পটি বৈজ্ঞানিকও, সংরক্ষণমূলকও: পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের একটি পরিমাপক সরঞ্জাম, এবং অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে এমন এক ভূদৃশ্যের স্থায়ী নথি।
অবশিষ্ট বরফ ইতিমধ্যেই নাটকীয়ভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে
প্রদত্ত উৎস-পাঠ্য অনুযায়ী, 1980 থেকে 2024 সালের মধ্যে ওই এলাকার হিমবাহগুলো তাদের বরফের আচ্ছাদনের 97% হারিয়েছে। মূল ছয়টি হিমবাহের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই বিলীন হয়েছে, এবং বাকি দুটি 2030 সালের মধ্যে হারিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পিছু হটার এই পরিসর কেবল শতাংশের হিসাবে নয়, বরং একসময়ের অনেক বড় এক হিমায়িত ভূদৃশ্য কত দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে তার দিক থেকেও চোখে পড়ার মতো। নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই হিমবাহগুলো একসময় সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের একটি এলাকা ঢেকে রাখত। 2024 সালে তাদের মোট আয়তন গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের চেয়েও ছোট হয়ে যায়।
উষ্ণমণ্ডলীয় হিমবাহ বিরল, তাই তাদের হারানো বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এগুলো এমন জলবায়ুতে টিকে থাকে যা সাধারণত রেইনফরেস্ট ও উপকূলরেখার সঙ্গে যুক্ত; উচ্চতার কারণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকায় তবেই তারা বেঁচে থাকে। তাই তাদের অন্তর্ধান এক স্পষ্ট জলবায়ু-সংকেত: উষ্ণমণ্ডলের উচ্চ-উচ্চতার শীতল আশ্রয়ও টেকসই উষ্ণায়নের চাপে ব্যর্থ হচ্ছে।
কঠিন একটি স্থানে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও সশস্ত্র প্রহরীর প্রয়োজন হয়েছে
এই অভিযান দেখায়, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পৌঁছানো কঠিন হলে জলবায়ু-নথিভুক্তি কতটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। হিমবাহের স্থানটি বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, যেখানে নাগরিক অস্থিরতার কারণে ইন্দোনেশিয়া হাইকিং নিষিদ্ধ করেছে। থাইমানকে নাকি হেলিকপ্টারের একটি সুযোগের জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল, তারপর পাহাড়ে পৌঁছাতে গাইড ও সশস্ত্র প্রহরীদের সঙ্গে যাত্রা করতে হয়।
সেখানে পৌঁছে তিনি ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন কোণ থেকে ভূদৃশ্যের ছবি তোলেন, পরে সেগুলো একত্র করে স্থানের এবং অবশিষ্ট হিমবাহগুলোর একটির, ইস্ট নর্থওয়াল ফার্নের, একটি 3D মডেল তৈরি করেন। গলতে গলতে ওই হিমবাহ ইতিমধ্যে তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে।
মেঘাচ্ছন্নতা এই কাজকে বিশেষভাবে মূল্যবান করে তোলে। উৎসটি জানায়, ওই অঞ্চলে বছরে প্রায় 300 দিন বৃষ্টি হয়, ফলে কেবল স্যাটেলাইটের সাহায্যে হিমবাহটি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রিম্বল জিওলোকেশন প্রযুক্তির সহায়তায় করা এই ফিল্ড-ম্যাপিং টানা মেঘের মধ্যে রিমোট সেন্সিংয়ের পক্ষে যে সূক্ষ্ম স্থানিক নির্ভুলতা পাওয়া কঠিন, তা সরবরাহ করে।
একটি ওপেন-সোর্স জলবায়ু নথি এবং সাংস্কৃতিক আর্কাইভ
ফলিত ডেটাসেটটি ওপেন সোর্স, যা বিজ্ঞানীদের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রটি ট্র্যাক করতে দেয়। এতে মডেলটি কেবল একবারের ভিজ্যুয়াল প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। হিমবাহটি আরও সরে যেতে থাকলে ভবিষ্যতের মাপজোক, তুলনা এবং পরিবেশগত গবেষণার জন্য এটি একটি রেফারেন্স পয়েন্টে পরিণত হয়।
তবে এই ডিজিটাল নথির সাংস্কৃতিক অর্থও রয়েছে। হিমবাহগুলো স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, এবং একটি বিস্তারিত মডেল সংরক্ষণ করা কেবল ভৌত বরফকেই নথিভুক্ত করে না। এটি এমন একটি স্থানকে ধরে রাখে যার সামাজিক ও প্রতীকী মূল্য রয়েছে, সেই ভূদৃশ্য অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাওয়ার আগে।
এই প্রকল্প বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশগত স্মৃতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে। ভৌত ব্যবস্থাগুলো অনেকের ধারণার চেয়ে দ্রুত সীমা অতিক্রম করছে, আর উচ্চ-রেজোলিউশনের 3D নথিভুক্তি প্রমাণ ধরে রাখা, ভিত্তিগত ডেটা তৈরি করা এবং দূরের পরিবর্তনকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে দৃশ্যমান করার একটি উপায় দেয়।
সেই অর্থে, ইন্দোনেশীয় হিমবাহের মডেলটি কেবল একটি পাহাড়ের গল্প নয়। এটি প্রাকৃতিক বিশ্বের কিছু অংশকে তারা এখনও চেনা যায় এমন রূপে থাকতে থাকতেই আর্কাইভ করার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনকে প্রতিফলিত করে। যখন বিজ্ঞানীরা বলেন এই অঞ্চলের শেষ উষ্ণমণ্ডলীয় হিমবাহগুলো 2030 সালের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে, তখন একটি ডিজিটাল টুইন একই সঙ্গে গবেষণার সরঞ্জাম ও সতর্কতা হয়ে ওঠে: কিছু ভূদৃশ্য এক প্রজন্মের মধ্যেই পর্যবেক্ষণ থেকে স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।
এই নিবন্ধটি Fast Company-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on fastcompany.com


