আধুনিক বিজ্ঞানের উৎসকে নতুনভাবে দেখা

আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে প্রায়ই একটি দার্শনিক সাফল্য হিসেবে শেখানো হয়, যা অনুমান থেকে পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের দিকে এক পরিষ্কার বৌদ্ধিক অগ্রগতি। কিন্তু সরবরাহিত উৎসসামগ্রীতে আলোচিত একটি প্রবন্ধ ভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে: ফ্রান্সিস বেকনের ভাবনাগুলি আংশিকভাবে তাঁর চারপাশের উদ্ভাবক ও প্রকৌশলীদের দ্বারা গঠিত হয়েছিল।

এই যুক্তি বেকনের ভূমিকাকে ছোট করে না। বরং সেটিকে নতুনভাবে কেন্দ্রীভূত করে। তাঁকে এমন একজন চিন্তক হিসেবে না দেখে যিনি একা বসে নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, প্রবন্ধটি প্রস্তাব করে যে তিনি কর্নেলিস ড্রেবেল ও স্যালোমন দে কাউসের মতো ব্যবহারিক নির্মাতাদের পর্যবেক্ষণ করছিলেন, যারা কাজ করতে করতে শিখতেন, এবং পরে সেই পদ্ধতিকে লেখার মাধ্যমে কাঠামোবদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

কারখানার অভ্যাস থেকে বৌদ্ধিক কাঠামো

এই দৃষ্টিভঙ্গি বদল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক বিজ্ঞানের শিকড় আমরা কোথায় খুঁজি তা বদলে দেয়। প্রচলিত বর্ণনায় দার্শনিক ও প্রকৃতিবিদেরা তত্ত্ব তৈরি করেন, আর কারিগর ও প্রকৌশলীরা কেবল সেগুলি প্রয়োগ করেন। উৎসপাঠ উল্টো দিকটি নির্দেশ করে। এতে বলা হয়, ব্যবহারিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতিমধ্যেই আবিষ্কার, নির্মাণ এবং ট্রায়াল-অ্যান্ড-এররের কাজের মাধ্যমে দেহী রূপে ঘটছিল। বেকনের অবদান ছিল সেই অনুসন্ধান-পদ্ধতির শক্তি চিনে নিয়ে তাকে একটি বৃহত্তর কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া।

এই ব্যাখ্যা যদি সঠিক হয়, তবে প্রকৌশল শুধু বিজ্ঞানের পরে আসা কিছু ছিল না। একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থে, তা বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ আচরণের মডেল তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। নির্মাতা, যন্ত্রনির্মাতা ও উদ্ভাবকেরা ইতিমধ্যেই পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, সংশোধন এবং কার্যকারিতার চক্রের মধ্য দিয়ে কাজ করছিলেন। বেকন সেই নকশাকে আরও স্পষ্ট ধারণাগত জীবন দেন।

পার্থক্যটি সূক্ষ্ম, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বৈজ্ঞানিক আধুনিকতার গল্পকে একক দার্শনিক স্বচ্ছতার মুহূর্ত থেকে সরিয়ে এমন এক জটিল ইতিহাসের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে প্রযুক্তিগত অনুশীলন ও আনুষ্ঠানিক চিন্তা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে।

ড্রেবেল ও দে কাউসের তাৎপর্য

সরবরাহিত পাঠ্যে বিশেষভাবে কর্নেলিস ড্রেবেল ও স্যালোমন দে কাউসকে বেকনের সমসাময়িক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত হলেও এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি যুক্তিটিকে সাধারণ আবহের বদলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করে। বেকন কেবল বিমূর্ত অগ্রগতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হননি। তিনি সরাসরি যন্ত্র ও প্রভাব নিয়ে কাজ করা মানুষদের দেখছিলেন।

তাঁরা “কাজ করতে করতে শিখতেন” বলার মানে হলো, তাঁদের জ্ঞান পৃথিবীতে হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছিল। এই বাক্যটি কোনো সুসংহত তত্ত্বে রূপ নেওয়ার আগের একটি পদ্ধতিকে ধরতে পারে। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে পরিশীলিত একাডেমিক পদ্ধতি হিসেবে নয়, বরং জেদি উপাদান, অসম্পূর্ণ যন্ত্র, আর চমকপ্রদ ফলাফলের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হয়।

এই ধরনের জ্ঞান আজকের প্রকৌশলীদের কাছে খুবই পরিচিত। নকশা, প্রোটোটাইপ, পরীক্ষা, পরিমার্জন এখনও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রবন্ধের ইঙ্গিত, যেমনটি উৎসে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, হলো বেকন এই ধরণটিকে বৌদ্ধিকভাবে উর্বর বলে বুঝেছিলেন এবং সেটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন যাতে বৃহত্তর অনুসন্ধান সংগঠিত করা যায়।

এটি এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রকৌশল ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক নতুন করে দেখা কেবল ইতিহাসের নির্ভুলতার প্রশ্ন নয়। এটি আজকের উদ্ভাবনকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাতেও প্রভাব ফেলে। আধুনিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই আবিষ্কারকে প্রয়োগ থেকে, তত্ত্বকে বাস্তবায়ন থেকে, আর গবেষণাকে প্রকৌশল কার্যসম্পাদন থেকে আলাদা করে দেখে। কিন্তু এ ধরনের ইতিহাস বলে যে, সেই সীমারেখা শ্রেণিবিভাগগুলি যতটা বোঝায়, তার চেয়ে অনেক বেশি অমসৃণ ছিল।

যখন কোনো উদ্ভাবক নির্মাণ, ব্যর্থতা, সমন্বয় আর পুনরায় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেখে, তখন সেই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক তত্ত্বের চেয়ে কোনোভাবে কম জ্ঞানতাত্ত্বিক নয়। এটি জ্ঞানের আরেকটি পথ। অনেক ক্ষেত্রে, কোন প্রশ্নগুলো পরের ধাপে করা উচিত, সেটি এই পথই দেখাতে পারে।

সুতরাং উৎসপাঠ একটি উপকারী উল্টোপথকে সমর্থন করে: বিজ্ঞান শুধু প্রকৌশলীদের কীভাবে ভাবতে হবে তা শেখায়নি। প্রকৌশলীরাও, বা অন্তত আধুনিক পেশাদার প্রকৌশলীর আগে যারা উদ্ভাবক ছিলেন, এমন মানসিক অভ্যাস দেখিয়েছিলেন যেগুলো বিজ্ঞান পরে উচ্চতর ও বিধিবদ্ধ করে।

উদ্ভাবন নিয়ে বড় গল্প

এই ব্যাখ্যা অনেক বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাস্তবে কীভাবে ঘটে তার সঙ্গে মিলে যায়। সাফল্য খুব কমই শুধু বিশুদ্ধ তত্ত্ব বা বিশুদ্ধ অনুশীলন হিসেবে আসে। সেগুলি সাধারণত ধারণাগত বোঝাপড়া আর বস্তুগত পরীক্ষার প্রতিক্রিয়া থেকে জন্ম নেয়। কোনো যন্ত্র অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করে এবং নতুন ধারণা জাগায়। কোনো তত্ত্ব একটি নকশার দিকে ইঙ্গিত করে। কোনো প্রোটোটাইপ ব্যর্থ হয় এবং মূল প্রশ্নকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে। সেই অর্থে, কারখানা থেকে গবেষণাগার পর্যন্ত রেখাটি কখনও একমুখী ছিল না।

তাই বেকনের গুরুত্ব কেবল পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের পক্ষে সওয়াল করায় নয়, বরং বাস্তব জিনিস ও বাস্তব প্রভাবের সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কার্যকর জ্ঞান গড়ে তোলা যায় তা বোঝায়ও হতে পারে। তাঁর আশেপাশের উদ্ভাবকেরা দেখিয়েছিলেন এটি বাস্তবে কেমন দেখায়। তাঁর লেখা সেই উদাহরণগুলোকে এক গভীরভাবে প্রভাবশালী বৌদ্ধিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করে।

ফলে বিজ্ঞানের উৎস সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ এক বিবরণ পাওয়া যায়। প্রকৌশলীরা কেবল দার্শনিকদের আঁকা মানচিত্র অনুসরণ করেন এমন কাহিনির বদলে এটি হয়ে ওঠে এমন এক কাহিনি, যেখানে ব্যবহারিক নির্মাতারা সেই মানচিত্র আঁকতে সাহায্য করেছিলেন। এতে বেকনের গুরুত্ব কমে না। বরং তাঁকে উদ্ভাবন, পর্যবেক্ষণ এবং পদ্ধতির আরও গতিশীল এক পরিবেশে স্থাপন করা হয়।

প্রযুক্তির ইতিহাসে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটাই সম্ভবত প্রবন্ধটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অবদান। এটি মনে করিয়ে দেয়, মানবজ্ঞান의 কিছু গভীর পরিবর্তন শুধু পৃথিবী নিয়ে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নয়, বরং সেই পৃথিবীর ভেতর জিনিসকে কাজ করাতে চেষ্টা করা মানুষের মাধ্যমেও শুরু হয়।

এই নিবন্ধটি IEEE Spectrum-এর প্রতিবেদনভিত্তিক। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on spectrum.ieee.org