মৌলিক ক্যানসার ওষুধের ঘাটতি এখন চিকিৎসার সমস্যা হয়ে উঠছে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় জেনেরিক কেমোথেরাপি ওষুধের ঘাটতি আবারও ফেডারেল পদক্ষেপের আহ্বান জাগাচ্ছে, কারণ অনকোলজিস্ট ও হাসপাতাল ব্যবস্থাগুলো এমন ওষুধ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে, যা ক্যানসার চিকিৎসার মূলভিত্তি। সরবরাহকৃত উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, কিছু চিকিৎসক ইতিমধ্যেই কোন রোগী আগে চিকিৎসা পাবেন তা নির্ধারণ করার সম্ভাবনার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা দেখায় যে সমস্যা সাধারণ সরবরাহ বিঘ্নের বাইরে গিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াজে পৌঁছেছে।
এখানে যেসব ওষুধের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো অজানা বা পরীক্ষামূলক নয়। এগুলো দশক পুরনো কেমোথেরাপি ইনফিউশন, যা এখনও বহু বড় ক্যানসারের মূল চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যখন আরও লক্ষ্যভিত্তিক বিকল্প পাওয়া যায় না। উৎসে উদ্ধৃত US Food and Drug Administration অনুযায়ী, উৎপাদন-সংক্রান্ত সমস্যা, শিপিং বিলম্ব, এবং কিছু কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই ঘাটতি যুক্ত।
এই সমন্বয় জেনেরিক ইনজেক্টেবল ওষুধের বাজারের একটি কাঠামোগত দুর্বলতা দেখায়। স্টেরাইল সুবিধায় তৈরি করতে হয় বলে এসব ওষুধ উৎপাদন করা কঠিন, অথচ এদের দাম খুব কম। ফলে চিকিৎসাগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শ্রেণির পণ্যে বাণিজ্যিক প্রণোদনা দুর্বল থাকে এবং উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলে স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়।
চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই ঠিক করছেন কাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে
উৎসের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিবরণ ifosfamide নিয়ে, যা sarcomas, lymphomas, এবং testicular cancers চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি কেমোথেরাপি ওষুধ। কিছু চিকিৎসক ইতিমধ্যেই বৈঠক করছেন ঠিক করতে কোন রোগীরা এটি পাবেন। আধুনিক অনকোলজিতে চিকিৎসকেরা সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত এড়াতে চান, যেখানে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ভর করে প্রমাণ, রোগীর অবস্থা, এবং সময়সূচির ওপর, সংকটের ওপর নয়।
University of Michigan-এর head and neck cancer surgeon ও professor Dr. Andrew Shuman সরবরাহকৃত লেখায় এর পরিণতি স্পষ্টভাবে বলেছেন: কারও কারও জন্য ওষুধটি সেরা বিকল্প হলেও তা নাও মিলতে পারে। মিশিগানে, চিকিৎসকেরা সীমিত সরবরাহ সেই রোগীদের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন যাদের উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন এক প্রক্রিয়া যা সাধারণত তুলনামূলকভাবে তরুণ রোগীদের পক্ষে যায় যাদের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি।
এটি সংকটের বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া, তবে একই সঙ্গে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর নেমে আসা নৈতিক বোঝাও দেখায়। যখন ঘাটতি এতটাই তীব্র হয় যে ক্যানসার টিমকে একজন রোগীর ওপর আরেকজনকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, তখন সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা আর বিমূর্ত থাকে না। এটি শয্যার পাশে প্রভাব ফেলা একটি সমস্যা হয়ে ওঠে, যা ফলাফল, আস্থা, এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করে।
মূলভিত্তিক চিকিৎসার ওপর চাপ
উৎসে cisplatin, carboplatin, এবং oxaliplatin-এর বড় ধরনের সরবরাহ সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে ব্যবহৃত মানক কেমোথেরাপি ওষুধ। উৎসে উদ্ধৃত চিকিৎসকদের মতে cisplatin ডিম্বাশয়, অণ্ডকোষ, এবং মূত্রাশয়ের ক্যানসারসহ নানা ক্যানসারে ব্যবহৃত হয়। এ ওষুধগুলোকে অনেক ক্যানসার চিকিৎসার backbone therapies বলা হয়েছে, যা দেখায় মজুত কমে গেলে এগুলো বদলানো কতটা কঠিন।
প্রায় ৪,২০০ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করা ক্রয়কারী সংস্থা Premier The New York Times-কে, যেমনটি উৎসে উদ্ধৃত, জানিয়েছে যে তাদের সদস্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর ifosfamide অর্ডারের মাত্র ৩৮% পূরণ হয়েছে। cisplatin অর্ডারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো অবশ্যই বোঝায় না যে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেছে, তবে বড় পরিসরের ক্রয়ব্যবস্থায় চলমান চাপকে নির্দেশ করে।
অনকোলজি প্রদানকারীদের জন্য আংশিক পূরণ একের পর এক অপারেশনাল সমস্যা তৈরি করে। ফার্মেসি দলকে সময়সূচি বারবার পুনর্বিন্যাস করতে হয়। চিকিৎসকদের ডোজের ক্রম বদলাতে বা কম পছন্দের রেজিমেন বেছে নিতে হতে পারে। ইনফিউশন সেন্টারগুলো কখনও কখনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাছাকাছি গুচ্ছবদ্ধ করে, যাতে একবার একটি ভায়াল খোলা হলে ওষুধ নষ্ট না হয়। প্রতিটি workaround যুক্তিসংগত, কিন্তু প্রতিটিই দেখায় ব্যবস্থা খুব কম নমনীয়তা নিয়ে চলছে।
পুরনো জেনেরিক ওষুধ কেন বারবার নাজুক হয়ে পড়ে
এই ঘাটতির গল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ সরবরাহে বারবার দেখা এক সমস্যাকে তুলে ধরে: সবচেয়ে চিকিৎসাগতভাবে অপরিহার্য পণ্যগুলোর কিছু পুরনো জেনেরিক, যাদের লাভের মার্জিন কম। এসব ওষুধ সস্তা হওয়ায় উৎপাদন ব্যর্থতা সামাল দিতে, অতিরিক্ত সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে, বা অর্থনীতি খারাপ হলে বাজারে টিকে থাকতে নির্মাতাদের কম সুযোগ থাকে। এক বা দুইজন সরবরাহকারী সরে দাঁড়ালেই অবশিষ্ট ব্যবস্থা খুব দ্রুত ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।
স্টেরাইল ইনজেক্টেবল ওষুধ বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে। উৎপাদন মান অত্যন্ত কঠোর, আর একটি প্ল্যান্টে বিঘ্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রভাব ফেলতে পারে। শিপিং বিলম্ব এই সমস্যাকে আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন মজুত আগে থেকেই কম। উৎস পাঠ্য ইঙ্গিত দেয় যে কিছু ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করার নির্মাতাদের সিদ্ধান্তও ভূমিকা রেখেছে, যা দেখায় সমস্যাটি শুধু অপারেশনাল নয়, অর্থনৈতিকও।
এই গতি-প্রকৃতি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমন পণ্যের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে যা কেনা সস্তা, কিন্তু হারানো ব্যয়বহুল। ক্যানসার চিকিৎসায় কম ক্রয়মূল্য মানে কম ক্লিনিক্যাল গুরুত্ব নয়। এসব ওষুধ এখনো ব্যবহার করা হয় কারণ এগুলো কাজ করে, এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলোই এখনও সবচেয়ে কার্যকর বিকল্পগুলোর মধ্যে থাকে।
ফেডারেল প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে
উৎস অনুযায়ী, US Department of Health and Human Services বলেছে FDA ঘাটতি কমাতে কাজ করছে এবং এমন কোম্পানি থেকে সাময়িক আমদানি অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যারা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করে না। এটি জরুরি ধরনের পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য দ্রুত সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা, যদিও এটি একই সঙ্গে দেখায় যে তাৎক্ষণিক দেশীয় বিকল্প কতটা সীমিত হতে পারে।
ফেডারেল হস্তক্ষেপ আবার আলোচনায় আসা দেখায় যে প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধের ঘাটতি শুধু বাজার শক্তিতে সমাধান হচ্ছে না। সাময়িক আমদানি ফাঁক পূরণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রীভূত উৎপাদন, কম মুনাফা, এবং সীমিত ব্যাকআপ থেকে তৈরি মূল দুর্বলতাকে তারা সমাধান করে না।
অনকোলজি, শিশু চিকিৎসা, বা গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের ওষুধে ঘাটতি দেখা দিলেই বিস্তৃত ফেডারেল পদক্ষেপের আহ্বান ওঠে, কারণ এসব ক্ষেত্রে বিলম্ব মেনে নেওয়ার সুযোগ চিকিৎসকদের খুব কম। বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্যাটার্নের সঙ্গেই মেলে। এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে চিকিৎসা ধারাবাহিকতার ওপর, এবং স্থানীয় সেবা দলগুলোর ওপর অস্বাভাবিক নৈতিক চাপ ফেলে, যারা নিজেরাই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে না।
রোগী ও প্রদানকারীদের জন্য এর অর্থ কী
উৎস বলছে রেশনিং এখনও ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে না। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঘাটতি মানেই প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। কিন্তু উৎসে বর্ণিত অপারেশনাল লক্ষণ, যেমন ছড়িয়ে দেওয়া ডোজ, সতর্কভাবে সমন্বিত ইনফিউশন বুকিং, এবং রোগী-অগ্রাধিকার বৈঠক, দেখায় যে ব্যবস্থা সত্যিকারের চাপের মধ্যে রয়েছে।
রোগীদের জন্য, বিলম্ব হওয়ার আগেই অনিশ্চয়তা অস্থির করে তুলতে পারে। ক্যানসার চিকিৎসা প্রায়ই সময়, ক্রম, এবং পরিকল্পিত রেজিমেনে আস্থার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টদের জন্য এই অনিশ্চয়তা প্রতিস্থাপন, সংরক্ষণ, এবং ন্যায্যতা নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। এগুলো এমন সিদ্ধান্ত, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থা সাধারণ মানসম্মত ওষুধের জন্য বড় পরিসরে নিতে তৈরি নয়।
তাৎক্ষণিক সমস্যা হলো সরবরাহ। বৃহত্তর সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি এমন এক বাজার কাঠামোর ওপর নির্ভর চালিয়ে যেতে পারে, যেখানে ভিত্তিমূলক ক্যানসার ওষুধ উৎপাদনের জন্য আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় নয়। এই অমিল যতদিন থাকবে, ঘাটতি ততদিন ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকবে, এবং প্রতিটি পুনরাবৃত্তিতে আরও বেশি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত প্রমাণভিত্তিক সেবা থেকে ঘাটতি ব্যবস্থাপনার দিকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
- ifosfamide-এর ঘাটতি ইতিমধ্যেই কিছু চিকিৎসককে কোন রোগী আগে চিকিৎসা পাবেন তা নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য করেছে।
- Premier অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলোর মধ্যে ifosfamide অর্ডারের মাত্র ৩৮% পূরণ এবং cisplatin অর্ডারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণের কথা জানিয়েছে।
- ঘাটতিটি উৎপাদন সমস্যা, শিপিং বিলম্ব, এবং কিছু প্রস্তুতকারকের উৎপাদন থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
- সরবরাহ সংকোচন কমাতে সাময়িক আমদানি সহ পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com



