গর্ভাবস্থার খাদ্যাভ্যাস জীবনের শুরুর দুই অবস্থার কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত
Harvard T.H. Chan School of Public Health, Boston Children’s Hospital এবং Harvard Pilgrim Health Care Institute-এর গবেষকদের এক গবেষণা অনুযায়ী, যেসব শিশুর মা গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর, ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্য খেয়েছেন, তাদের কোলিক ও একজিমার ঝুঁকি কম ছিল।
JAMA Network Open-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত সামুদ্রিক খাবার খাওয়াও এই অবস্থাগুলোর কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকেরা শুধু কোলিক নয়, কোলিক ও একজিমার সম্মিলিত অবস্থার দিকেও নজর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয় অবস্থাই থাকা শিশুদের পরবর্তী জীবনে অ্যালার্জি-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
শিশুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর যে বিষয়টি সাধারণত পরীক্ষা করা হয়, এই ফলাফল সেই আলোচনায় প্রসবপূর্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করছে। কোলিক নিয়ে আগের খাদ্য-গবেষণায় সাধারণত জন্মের পর স্তন্যদানকারী মায়েদের খাদ্য পরিবর্তন বা শিশুর ফর্মুলা বেছে নেওয়ার বিষয়টি দেখা হয়েছে। এই গবেষণা বরং জানতে চেয়েছে, জন্মের আগের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পরে শিশুর স্বাস্থ্যের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
কোলিক ও একজিমার সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোলিক শিশু ও পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক একটি অবস্থা, কিন্তু গবেষকদের আগ্রহ তাৎক্ষণিক উপসর্গের বাইরেও বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট লেখক Jenifer Lightdale বলেন, তাঁদের দলের আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে কোলিক থাকা শিশুদের পরবর্তী জীবনে অ্যাটোপিক রোগের হার বেশি, যার মধ্যে অ্যাজমা, মৌসুমি রাইনাইটিস এবং খাদ্য অ্যালার্জি রয়েছে।
এ কারণে কোলিক ও একজিমা একসঙ্গে থাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজিমা একটি অ্যাটোপিক অবস্থা, এবং গবেষকেরা বলেছেন, শৈশবে কোলিক ও একজিমা দুটিই থাকা শিশুদের পরবর্তী জীবনে অ্যালার্জির প্রকাশ ঘটার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে। এই নতুন বিশ্লেষণটি তৈরি করা হয়েছিল প্রসবপূর্ব খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কোলিকের, যার মধ্যে এই সম্মিলিত ফলও রয়েছে, কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা পরীক্ষা করতে।
ফলাফলটিকে সম্পর্ক হিসেবে দেখা উচিত, কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস সরাসরি কোলিক বা একজিমা প্রতিরোধ করে—এমন প্রমাণ হিসেবে নয়। উৎস তথ্যে খাদ্যাভ্যাস ও পরবর্তী ফলাফল নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণার বর্ণনা রয়েছে। তবু খাদ্যাভ্যাসের মূল্যায়নের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ: শিশুর যে উপসর্গগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, সেগুলো দেখা দেওয়ার আগেই গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।
গবেষকেরা কীভাবে খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়ন করেছেন
এই বিশ্লেষণে এপ্রিল 1999 থেকে নভেম্বর 2002-এর মধ্যে পূর্ব Massachusetts-এর প্রসবপূর্ব ক্লিনিকের মাধ্যমে Project Viva-তে অন্তর্ভুক্ত 1,300-এর বেশি গর্ভবতী নারীর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খাদ্য-প্রশ্নাবলি পূরণ করেছিলেন।
খাদ্যাভ্যাসের ধরন নির্ধারণে গবেষকেরা দুটি উপকরণ ব্যবহার করেন। একটি ছিল Mediterranean Diet Score বা MDS। গবেষণার বর্ণনা অনুযায়ী, বেশি MDS এমন একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে বোঝায় যাতে ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি; পাশাপাশি দুগ্ধজাত খাবার ও কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন পরিমিত পরিমাণে থাকে।
অন্যটি ছিল Dietary Inflammation Index বা DII। কম স্বাস্থ্যকর এবং বেশি প্রদাহ-সৃষ্টিকারী খাদ্যাভ্যাস আলাদা করতে গবেষকেরা এটি ব্যবহার করেন। এই দুটি সূচক দলটিকে গর্ভাবস্থার পুষ্টিকে একটি নির্দিষ্ট খাবারের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।
এই পদ্ধতি কার্যকর, কারণ খাদ্যাভ্যাস নানা খাবার ও খাওয়ার ধরন নিয়ে গঠিত। গবেষণায় যে ফলাফল জানানো হয়েছে, তা সামগ্রিক ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত; আর সামুদ্রিক খাবারের ফলাফল এমন একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসকে চিহ্নিত করে, যা কম ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
ফলাফল কী প্রতিষ্ঠা করে এবং কী করে না
গবেষণাটি এই সম্ভাবনাকে সমর্থন করে যে গর্ভাবস্থার খাদ্যাভ্যাস শিশুর পরিপাক ও ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি কারণ হতে পারে। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই কোনো নির্দিষ্ট শিশুর ফলাফল বদলাবে—এটি গবেষণা প্রতিষ্ঠা করে না। সরবরাহ করা গবেষণা-সারাংশে ঝুঁকি কমার কোনো শতাংশ, ক্লিনিক্যাল হস্তক্ষেপের প্রোটোকল বা কোলিক কিংবা একজিমা দেখা দিলে চিকিৎসা হিসেবে খাদ্যাভ্যাস ব্যবহারের কোনো সুপারিশ নেই।
গর্ভাবস্থার পুষ্টি, শিশুর কান্না বা একজিমার ক্ষেত্রে এটিও চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। দীর্ঘস্থায়ী কান্না, খাওয়ানো নিয়ে উদ্বেগ, ঠিকমতো বৃদ্ধি না পাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ত্বকের উপসর্গ দেখা দিলে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গবেষণাটি যা দেখায় তা হলো, জীবনের শুরুর স্বাস্থ্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ হিসেবে প্রসবপূর্ব খাদ্যাভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ রয়েছে। জন্মের পর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকে প্রশ্নটিকে আরও আগে নিয়ে গিয়ে, এটি গর্ভাবস্থায় মায়ের পরিবেশ পরীক্ষা করেছে। পাশাপাশি, এটি দুটি অবস্থাকে যুক্ত করেছে, যেগুলোকে প্রায়ই আলাদাভাবে দেখা হয়: শিশুর কোলিক ও একজিমা।
এটি প্রতিরোধমূলক গবেষণার প্রশ্ন, কোনো চিকিৎসা-নির্দেশ নয়
লেখকেরা যথাযথ সতর্কতার সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের গবেষণা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে মায়ের খাদ্যাভ্যাস ও শিশুর ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করেছে; নিশ্চিত প্রতিরোধমূলক কৌশলের দাবি করেনি। এই সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয় এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় তা কার্যকর থাকে কি না, তা স্পষ্ট করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে মূল ফলাফলটি সরল: এই গোষ্ঠীতে গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্য এবং নিয়মিত সামুদ্রিক খাবার খাওয়া শিশুর কোলিক ও একজিমার কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। গবেষণাটি জন্মের পরের খাওয়ানোর সিদ্ধান্তের বাইরে শিশুর কোলিক নিয়ে আলোচনা প্রসারিত করেছে এবং চলমান গবেষণার জন্য প্রসবপূর্ব পুষ্টিকে সম্ভাবনাময় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on medicalxpress.com




