খনির চাপ আর সংক্রামক রোগ আমাজনে একসঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে
ব্রাজিলের আমাজন নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, অবৈধ সোনার খননের প্রভাব ম্যালেরিয়া সংক্রমণে অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি, বিশেষ করে ইয়ানোমামি অঞ্চলে। সোনার দাম আবারও বেশি থাকায় তারা আশঙ্কা করছেন, খনন আরও বেড়ে যেতে পারে এবং ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
মূল দাবি খুব স্পষ্ট: সুরক্ষিত আদিবাসী জমিতে অবৈধ খননের বিস্তার সাম্প্রতিক ম্যালেরিয়া বৃদ্ধিকে উসকে দিয়েছে, যা 2020-এর দশকের শুরুর দিকে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করে। Stanford University এবং ব্রাজিলীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকেরা বলছেন, তারা আমাজনের বৃহত্তম আদিবাসী ভূখণ্ড ইয়ানোমামি অঞ্চলে অবৈধ সোনার খননের প্রভাব চিহ্নিত ও পরিমাপ করেছেন।
নীতির দরজা কীভাবে খুলেছিল
প্রবন্ধটি আংশিকভাবে Jair Bolsonaro-র প্রেসিডেন্সির রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে এই সংকটকে যুক্ত করেছে। source text অনুযায়ী, Bolsonaro পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করাকে নিজের এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও আদিবাসী জমির সুরক্ষা উন্নয়নে বাধা। তার প্রশাসন আদিবাসী জমি নির্ধারণের ক্ষমতা FUNAI থেকে Agriculture Ministry-তে সরিয়ে দেয় এবং আমাজনে ছোট আকারের খনন কর্মকাণ্ড শিথিল করার জন্য ডিক্রি জারি করে।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলছেন, এসব ডিক্রিতে নিয়ন্ত্রিত খনন, যা আদিবাসী জমির বাইরে হয়, আর আদিবাসী অঞ্চলের ভেতরে খননের মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি; যেখানে খনন সব ক্ষেত্রেই অবৈধ। তাদের মতে, এই অস্পষ্টতাই ইয়ানোমামি অঞ্চলে খনির ঢলকে ত্বরান্বিত করে।
অনুপ্রবেশের ব্যাপ্তি
2023 সালের জানুয়ারিতে Luiz Inacio Lula da Silva প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময়, রিপোর্ট অনুযায়ী ইয়ানোমামি অঞ্চলে অবৈধ সোনার খনির সংখ্যা 20,000-এ পৌঁছেছিল। এই সংখ্যা বিশেষভাবে চমকে দেওয়ার মতো, কারণ এটি স্থানীয় ইয়ানোমামি জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান ছিল। খনির এই উত্থান শুধু পরিবেশগত সমস্যা ছিল না। এটি মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ-ঝুঁকি বাড়ানো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছিল, স্থানীয় ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়েছিল, এবং বৃহত্তর মানবিক জরুরি পরিস্থিতিকে তীব্র করেছিল।
Lula দায়িত্ব নেওয়ার পরের সপ্তাহগুলোতে স্বাধীন মাধ্যম Sumauma ইয়ানোমামি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ ও অপুষ্টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন, এবং অঞ্চলের ছবি, Lula-কে মানবিক সংকট ঘোষণা করতে প্ররোচিত করে। এরপর যে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা তৈরি হয়, তা দেশের নজর টেনে আনে সেই সমস্যার দিকে, যেটি আদিবাসী সম্প্রদায় ও গবেষকেরা বছরের পর বছর ধরে সতর্ক করে আসছিলেন।
খনন আর ম্যালেরিয়া কেন যুক্ত
যদিও দেওয়া লেখা পুরো প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করে না, গবেষকদের যুক্তি পরিষ্কার: অবৈধ সোনার খনন ভূদৃশ্য ও মানুষের চলাচলের ধরণ বদলে দেয়, যা ম্যালেরিয়া সংক্রমণকে বাড়াতে পারে। খনিশিবির দূরবর্তী অরণ্যাঞ্চলে শ্রমিক নিয়ে আসে, পরিবেশতন্ত্রে বিঘ্ন ঘটায়, এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে মশার বংশবৃদ্ধি ও মানুষের সংস্পর্শ বাড়ে। সীমিত স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা থাকা বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য এই প্রভাবগুলো বিধ্বংসী হতে পারে।
গবেষকেরা রোগের চাপকে বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে যুক্ত করছেন বলেই এই সতর্কতা বিশেষভাবে জরুরি। সোনা যখন আরও দামি হয়, অবৈধ খননের প্রণোদনা বেড়ে যায়। এর মানে, বাইরের বাজার-সংকেত খুব দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যেখানে আইন প্রয়োগ দুর্বল এবং সম্প্রদায়গুলো ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
এটি শুধু পরিবেশগত বিরোধ নয়, আদিবাসী স্বাস্থ্য সংকট
এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অবৈধ খননকে কেবল সংরক্ষণ বা আইন প্রয়োগের সমস্যা হিসেবে নয়, সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে দেখাচ্ছে। ইয়ানোমামি ক্ষেত্রে, গবেষকদের বর্ণিত ফলাফলের মধ্যে রয়েছে সংক্রামক রোগের বৃদ্ধি এবং তীব্র মানবদুর্ভোগ। প্রবন্ধটি বলছে, সংকটটি জাতীয়ভাবে দৃশ্যমান হয়েছিল মূলত রিপোর্টিংয়ের ঢেউ এবং জরুরি পদক্ষেপের পর; কিন্তু মূল কারণগুলো বছরের পর বছর ধরে তৈরি হচ্ছিল।
এই framing-এর নীতিগত গুরুত্ব আছে। অবৈধ খননকে যদি শুধু অননুমোদিত উত্তোলনের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে প্রতিক্রিয়া সীমিত থেকে যায় পুলিশিং আর অর্থনীতিতে। আর যদি এটিকে রোগবর্ধক এবং মানবিক হুমকি হিসেবে ধরা হয়, তাহলে প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য নজরদারি, জরুরি চিকিৎসা, আদিবাসী সুরক্ষা, এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ-শাসন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এই সতর্কতা কেন আরও জরুরি হতে পারে
রেকর্ড উচ্চ সোনার দাম নিয়ে গবেষকদের প্রাথমিক উদ্বেগ আরও বড় একটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে: ইয়ানোমামি সংকট হয়তো একক ঘটনা নয়। একই পরিস্থিতিতে আমাজনের অন্যত্র অবৈধ উত্তোলন বাড়লে, ম্যালেরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য-ভার আবারও অন্য সীমান্তাঞ্চলে বাড়তে পারে। বাজারের প্রণোদনা, দুর্বল আইন প্রয়োগ, আর নাজুক স্বাস্থ্যসেবার সংমিশ্রণ খনিসংক্রান্ত রোগপ্রাদুর্ভাবকে একবারের ঘটনা নয়, বারবার ফিরে আসা হুমকি করে তোলে।
এই কারণেই গবেষণার উপসংহার ব্রাজিলের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মনে করিয়ে দেয় যে নতুন স্বাস্থ্য সংকট শুধু রোগজীবাণু দিয়ে নয়, ভূমি ব্যবহার, পণ্যের চক্র, এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়েও চালিত হতে পারে। আমাজনে অবৈধ খনন শুধু নদী আর বন বদলাচ্ছে না। এটি এমন সম্প্রদায়গুলোর রোগঝুঁকিও বদলে দিচ্ছে, যাদের সুরক্ষার সুযোগ সবচেয়ে কম।
গবেষকদের সতর্কতা শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমানতা আর প্রতিক্রিয়া নিয়ে। তারা বলছেন, অবৈধ উত্তোলন ও ম্যালেরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এবং এটি উপেক্ষা করলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে ভবিষ্যৎ প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে, যতক্ষণ না ক্ষতি ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে যায়।
এই প্রবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল প্রবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com
