আলঝাইমারের ক্ষতি কীভাবে ছড়ায়, সে বিষয়ে নতুন সূত্র
আলঝাইমার রোগ মস্তিষ্কের একটি ছোট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে না। উপসর্গ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্নিহিত ক্ষতি নতুন নতুন অঞ্চলে দেখা দিতে থাকে, ধীরে ধীরে স্মৃতি, আচরণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত করে। University of Utah Health-এর গবেষকেরা তুলে ধরা নতুন একটি গবেষণা এই ধাঁধায় নতুন একটি অংশ যোগ করেছে: ইঁদুরে, Arc নামের একটি মস্তিষ্কের প্রোটিন রোগাক্রান্ত নিউরন থেকে সুস্থ নিউরনে বিষাক্ত টাউ সরিয়ে নিতে সাহায্য করে বলে মনে হচ্ছে।
সরবরাহকৃত উৎস উপাদান অনুযায়ী Cell-এ প্রকাশিত এই কাজটি টাউকে কেন্দ্র করে, যা আলঝাইমারের অগ্রগতির সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রোটিনগুলোর একটি। সুস্থ মস্তিষ্ক কোষে টাউ থাকলেও, প্রোটিনটি অস্বাভাবিক হয়ে নিউরনের ভেতরে আঠালো জটায় পরিণত হতে পারে। এই জটাগুলো কোষের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাকে বাধা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কোষমৃত্যুতে অবদান রাখে। নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণত নিউরনের মধ্যে যোগাযোগে জড়িত Arc, রোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পথও দিতে পারে।
টাউ কীভাবে যাত্রা করতে পারে
Arc নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। স্বাভাবিক অবস্থায়, এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে এক ধরনের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। উৎস পাঠে Arc-কে ক্ষুদ্র বুদবুদের ভেতরে, যেগুলোকে extracellular vesicles বা EVs বলা হয়, প্যাকেজ হয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে; এগুলো এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে তথ্য নিয়ে যায়। গবেষকদের অধ্যয়ন করা ইঁদুর মডেলে, বিষাক্ত টাউ Arc-কে জুড়ে একই পরিবহন পদ্ধতি ব্যবহার করতে সক্ষম বলে মনে হয়।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আলঝাইমারের ক্ষতি কেবল একটি নিউরনের একা ব্যর্থতার ফল নয়। উৎসে “Tau seeds” হিসেবে বর্ণিত অস্বাভাবিক টাউ-এর ক্ষুদ্র এককগুলো অন্য একটি নিউরনে গিয়ে সেখানে সুস্থ টাউ-কে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে। অর্থাৎ, রোগগত প্রক্রিয়া এক কোষ থেকে আরেক কোষে প্রতিলিপি করতে পারে। Arc যদি এই ডেলিভারি ব্যবস্থার অংশ হয়, তবে এটি হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, Arc-সহ এবং Arc-ছাড়া আলঝাইমার রোগের ইঁদুর মডেল নিয়ে কাজ করার সময় তারা দেখেছেন, বিষাক্ত টাউ ছড়াতে Arc প্রয়োজনীয় ছিল। তারা মস্তিষ্কে এমন EVs-ও শনাক্ত করেছেন যেগুলোতে Arc এবং আঠালো টাউ, দুটোই ছিল। এই পর্যবেক্ষণগুলো একাই চিকিৎসা প্রমাণ করে না, তবে এগুলো নিউরাল নেটওয়ার্ক জুড়ে রোগ কীভাবে অগ্রসর হতে পারে তার জৈবিক চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে।
শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অগ্রগতিও তেমন
আলঝাইমার গবেষণা প্রায়ই রোগটি কীভাবে শুরু হয়, সেটির ওপর জোর দেয়, কিন্তু অগ্রগতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ক্ষতি শুরু হয়ে যাওয়ার পরেই রোগ নির্ণয় হয়। এমন রোগীদের জন্য, মস্তিষ্কের ভেতর বিষাক্ত পদার্থের ছড়িয়ে পড়া ধীর বা থামাতে সক্ষম কোনো থেরাপি, বিদ্যমান ক্ষতি উল্টে না দিলেও, বড় ধরনের চিকিৎসাগত মূল্য বহন করতে পারে।
এই কারণেই এই গবেষণা আলাদা। এটি দাবি করে না যে Arc-ই প্রথমে আলঝাইমারের কারণ। বরং এটি এমন একটি প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে যা ব্যাখ্যা করতে পারে কেন নতুন মস্তিষ্ক অঞ্চলে রোগ জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়ের সাথে উপসর্গ বাড়ে। ভবিষ্যতের থেরাপি যদি সেই স্থানান্তর প্রক্রিয়া থামাতে পারে, তবে বিষাক্ত টাউকে অন্যথায় সুস্থ কোষে পৌঁছাতে না দিয়ে তারা কার্যক্ষমতা বেশি সময় ধরে রাখতে পারে।
University of Utah Health-এর সিনিয়র লেখক Jason Shepherd বলেছেন, দলটি আলঝাইমার রোগ আরও খারাপ হওয়া থামানোর একটি সম্ভাব্য নতুন উপায় চিহ্নিত করেছে। এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। এই ফলাফল রোগের অগ্রগতি নিয়ে, নিরাময় নিয়ে নয়, এবং সরবরাহকৃত উপাদানে বর্ণিত প্রমাণ মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বদলে ইঁদুর-গবেষণা থেকে এসেছে।

“আঠার দানব” তুলনাটি কী বোঝায়
উৎস পাঠে প্রথম লেখক Mitali Tyagi-এর একটি আকর্ষণীয় উপমা রয়েছে, যেখানে তিনি টাউ জটকে “glue monsters” বলে তুলনা করেছেন। এই চিত্রটি কার্যকর, কারণ এটি রোগপ্রক্রিয়ার দুটি দিক ধরতে পারে। প্রথমত, জমাট বাঁধা টাউ নিউরনের ভেতরের যন্ত্রপাতিকে আঠার মতো আটকে দিতে পারে, ফলে পরিবহন ও স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। দ্বিতীয়ত, সেই জটের টুকরো ছোট বীজের মতো আলাদা হয়ে অন্য কোথাও যেতে পারে এবং অন্য কোষের সুস্থ টাউকে বিকৃত করতে পারে।
এই দ্বিতীয় ধাপটিই গবেষণার গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। আলঝাইমার বিশেষভাবে ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে কারণ রোগগত প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে। যে প্রোটিন সাধারণত নিউরনকে যোগাযোগে সাহায্য করে, সেটিই অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত টাউকে মস্তিষ্কের নিজস্ব বার্তাবাহক নেটওয়ার্কে একটি কার্যকর পথ দিয়ে দিতে পারে।
Extracellular vesicles স্নায়ুবিজ্ঞানে ক্রমবর্ধমান মনোযোগ পেয়েছে, কারণ এগুলো সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই কোষের মধ্যে পদার্থ আদান-প্রদান করতে দেয়। যদি Arc-সম্পর্কিত EVs বিষাক্ত টাউ বহনকারী বাহনগুলোর একটি হয়, তবে গবেষকেরা কয়েকটি হস্তক্ষেপের জায়গা খুঁজে পেতে পারেন: Arc-Tau বন্ধন বাধা দেওয়া, Arc কীভাবে EVs-এ প্যাক হয় তা পরিবর্তন করা, বা ক্ষতিকর কার্গোকে পার্শ্ববর্তী নিউরন গ্রহণ করা থেকে রোধ করা।
প্রাথমিক স্তরের বিজ্ঞান, তবে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা আছে
উৎস উপাদানে বর্ণিত মতে, গবেষণাটি এখনও preclinical পর্যায়ে রয়েছে, এবং সেই কারণে স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে। ইঁদুরের ফলাফল সবসময় মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। মস্তিষ্কের সিগন্যালিং ব্যবস্থাও সংবেদনশীল, এবং Arc-এর স্বাভাবিক ভূমিকা আছে, যেগুলো গবেষকেরা বেপরোয়াভাবে ব্যাহত করতে চাইবেন না। সফল কোনো থেরাপিকে সম্ভবত প্রয়োজনীয় যোগাযোগের কাজ বজায় রেখেই রোগ-সম্পর্কিত পরিবহনকে নির্দিষ্টভাবে বাধা দিতে হবে।
তবুও, এটি এমন ধরনের যান্ত্রিক আবিষ্কার যা একটি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে পারে। আলঝাইমারের চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এর জীববিজ্ঞান জটিল এবং বহু বছর ধরে বিকশিত হয়। ধাপে ধাপে অগ্রগতি প্রায়ই ক্ষতি ঠিক কীভাবে ছড়ায় তা শনাক্ত করার মাধ্যমে শুরু হয়। জীবন্ত মডেলে Arc-কে টাউ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত করে, এই গবেষণা ওষুধ উন্নয়নকারীদের এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীদের জন্য প্রোটিন জমাট বাঁধার সাধারণ বর্ণনার চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেয়।
এটি স্নায়ুক্ষয়জনিত গবেষণার একটি বিস্তৃত প্রবণতাও জোরালো করে: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি কেবল বিষাক্ত প্রোটিন শনাক্ত করা থেকে নয়, বরং কোন সিস্টেমগুলো সেগুলোকে বহন করে, বাড়ায়, এবং নতুন কোষকে তাদের সামনে আনে তা বোঝা থেকেও আসতে পারে। সেই দৃষ্টিতে, এই রোগ আংশিকভাবে পরিবহন ও নেটওয়ার্কের দুর্বলতার সমস্যা, শুধু প্রোটিন জমে যাওয়ার নয়।
এর পর কী
পরবর্তী প্রশ্নগুলো সোজাসাপ্টা, কিন্তু কঠিন। গবেষকদের পরীক্ষা করতে হবে একই Arc-সম্পর্কিত পরিবহন পথ মানুষের মধ্যে অর্থবহ ভূমিকা রাখে কি না, এটি রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় কি না, এবং এটি বাধা দিলে অগ্রহণযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই জ্ঞানীয় অবনতি ধীর করা যায় কি না। তাদের আরও নির্ধারণ করতে হবে Arc একাধিক পথের একটি নাকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ bottleneck।
এখনকার জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট উপলব্ধি হলো, আলঝাইমারের অগ্রগতি আংশিকভাবে একটি স্বাভাবিক মস্তিষ্ক বার্তাবাহককে বিষাক্ত টাউয়ের ডেলিভারি বাহনে পুনর্ব্যবহৃত করার ওপর নির্ভর করতে পারে। ধারণাটি জৈবিকভাবে নির্দিষ্ট, সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে পরীক্ষামূলকভাবে সমর্থিত, এবং সম্ভাব্যভাবে কার্যকরযোগ্য। এমন এক ক্ষেত্রে, যেখানে বহু থেরাপি স্থায়ী প্রভাব দিতে লড়াই করেছে, রোগ কীভাবে ছড়ায় তা বোঝার একটি নতুন উপায় নিজেই উল্লেখযোগ্য।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com



