বাংলাদেশ সরকারি জমিকে সৌর উন্নয়নের পথে পরিণত করছে
সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে ইউটিলিটি-স্কেল নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প দ্রুততর করতে বাংলাদেশ একটি নতুন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কাঠামো চালু করেছে। গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগ “Guidelines for Development of Renewable Energy Projects Using Land Owned by Government Agencies under PPP Modality” শিরোনামে নীতিটি উন্মোচন করে, যার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত সরকারি জমি সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ব্যবহার করার একটি আনুষ্ঠানিক পথ পেলেন।
এই কাঠামোতে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, বা BPDB, চুক্তিবদ্ধকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পাচ্ছে। এতে মডেলটির একটি কেন্দ্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়: সরকারি সংস্থাগুলি জমি উপলব্ধ করতে পারে, আর বেসরকারি ডেভেলপাররা কাঠামোবদ্ধ ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য প্রতিযোগিতা করবে।
কেন এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ
জমি প্রাপ্তি ইউটিলিটি-স্কেল সৌর উন্নয়নের অন্যতম বড় বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেখানে কৃষি, শিল্প, আবাসিক এবং অবকাঠামোগত প্রয়োজন জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা করে। ইতিমধ্যে সরকারি সংস্থার হাতে থাকা জমি খুলে দিয়ে বাংলাদেশ একটি প্রশাসনিক সম্পদকে জ্বালানি-উন্নয়নের হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে।
নীতিটি জ্বালানি-ঝুঁকির প্রতিক্রিয়া হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজছে, এবং প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে সংগ্রহ, অর্থায়ন ও গ্রিডে যুক্ত করা গেলে ইউটিলিটি-স্কেল সৌর সরবরাহ বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করতে পারে। নতুন নির্দেশিকাগুলি এই প্রক্রিয়ার জন্য আরও পূর্বানুমেয় পথ তৈরি করতে চায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য স্থাপনাকে সহায়তা করা, পাশাপাশি PPP কাঠামোর অধীনে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা। এই জোরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কর্মসূচির মূল্য শুধু জমির প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং প্রকল্পগুলো বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে খণ্ডিত না হয়ে অনুমোদন ও চুক্তির ধাপ অতিক্রম করতে পারে কি না, তার ওপরও নির্ভর করবে।
ডেভেলপাররা এখন কী দেখবেন
বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল প্রশ্নগুলো হবে বাস্তবধর্মী: কোন সরকারি জমি উপলব্ধ হবে, সাইট কীভাবে নির্বাচন করা হবে, BPDB কী ধরনের ক্রয় শর্ত প্রয়োগ করবে, এবং গ্রিড সংযোগ, ট্যারিফ কাঠামো ও প্রকল্পঝুঁকি কীভাবে বণ্টিত হবে। নীতিটি কাঠামো দেয়, কিন্তু প্রতিটি প্রকল্পের ব্যাংকযোগ্যতা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট টেন্ডার ও চুক্তির বিবরণের ওপর।
সরকারি জমি একটি বড় বাধা কমাতে পারে, কিন্তু সতর্ক প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের প্রয়োজন দূর করে না। ইউটিলিটি-স্কেল সৌর সাইটের জন্য এখনও উপযুক্ত সৌর বিকিরণ, গ্রিড অ্যাক্সেস, পরিবেশগত পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প পরিচালনার স্পষ্ট আইনি অধিকার দরকার। যদি এসব উপাদান শুরুতেই ঠিকভাবে সামলানো যায়, তাহলে PPP পথ প্রকল্পগুলোকে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে সহজ করতে পারে।
বাস্তবায়ন ঝুঁকিসহ নীতিগত পরিবর্তন
এই ঘোষণা তাৎক্ষণিক সক্ষমতা সংযোজনের চেয়ে একটি নীতিগত পরিবর্তন হিসেবেই বেশি বোঝা উচিত। এটি বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্রয়ের নতুন একটি ব্যবস্থা দেয়, তবে ফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সাইট কত দ্রুত চিহ্নিত করা যায়, টেন্ডার কতটা প্রতিযোগিতামূলক হয়, এবং BPDB ও অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো ভূমি ব্যবহার ও প্রকল্প উন্নয়নে সমন্বয় করতে পারে কি না।
সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে, এই কাঠামো বাংলাদেশকে শুধু বেসরকারি জমি একত্র করার ওপর নির্ভর না করে তার বিদ্যুৎ মিশ্রণে আরও ইউটিলিটি-স্কেল সৌর যুক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। জ্বালানি নিরাপত্তার চাপের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎপাদন বাড়াতে চাওয়া একটি দেশের জন্য এটি একটি অর্থবহ পদক্ষেপ হবে।
এই নিবন্ধটি PV Magazine-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
