তেল চলছে, কিন্তু কীভাবে তা কেউই পুরোপুরি দেখতে পারছে না
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে ১০০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় বিস্ময় কেবল বিঘ্নটি নয়। আসল বিষয় হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংকুচিত পথের ভিতরে কী ঘটছে তা বিশ্ব তেল বাজার এখনও মাপতে হিমশিম খাচ্ছে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে একটি গোপন মার্কিন মিশন অবরুদ্ধ প্রণালী দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরিয়েছে। Wired-এ সাক্ষাৎকার নেওয়া বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এই সংখ্যা সরাসরি যাচাই করা অসম্ভব। সমস্যাটি দৃশ্যমানতার। পরিবহনের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ শিল্পে dark trade নামে পরিচিত অবস্থায় চলছে বলে মনে হচ্ছে, যেখানে জাহাজগুলো AIS ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে, রাতে চলাচল করে, ওমান সীমান্ত ঘেঁষে যায়, এবং কিছু ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর পাহারায় অগ্রসর হয়।
এর ফলে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা কিছু প্রবাহ অনুমান করতে পারলেও পুরো চিত্র আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আঁকতে পারছেন না। বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র থেকে আসা কিছু অপরিশোধিত তেলের গ্রেড শনাক্ত করতে পারেন, এবং সে ভিত্তিতে বলতে পারেন যে অন্তত কিছু ব্যারেল এখনও ক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু মোট পরিমাণ অনিশ্চিত রয়ে গেছে, আর সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনিশ্চয়তাই নিজে বাজার-শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সংখ্যাগুলো বিশ্বাস করা কেন এত কঠিন
স্বাভাবিক অবস্থায় তেলের বাজার চলে এমন ডেটার ওপর যা ক্রমাগত দেখা যায়: শিপিং সংকেত, বন্দরভিত্তিক আগমন, রপ্তানি সময়সূচি, মজুদের গতিবিধি, এবং পরিশোধন চাহিদা। বর্তমান বিঘ্ন সেই মডেল ভেঙে দেয়। জাহাজ যখন অন্ধকারে চলে বা অস্বাভাবিক রুট নেয়, তখন ট্রেডকে রিয়েল টাইমে গণনা করা কঠিন হয়, আর রাজনৈতিকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করাও সহজ হয়ে ওঠে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন বিশ্লেষক বলেছেন মে মাসের শুরু থেকে ১০ কোটি ব্যারেল সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সেই হিসাবের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। সংঘাতের আগে, সাধারণভাবে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল প্রণালী দিয়ে যেত। সেই প্রেক্ষাপটে, এক মাসেরও বেশি সময়ে ১০ কোটি ব্যারেল হলেও তা স্বাভাবিক ট্রাফিকের কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ হবে।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি বড় গোল সংখ্যা নাটকীয় শোনালেও তা এমন একটি ব্যবস্থাকে বর্ণনা করতে পারে যা তার স্বাভাবিক ক্ষমতার অনেক নিচে চলছে। বাজারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কিছু তেল বাধা পেরোচ্ছে কি না নয়। বরং কতটা, কত নিয়মিত, এবং কত লজিস্টিক খরচে যাচ্ছে সেটাই মূল।
রপ্তানি কমেছে ব্যাপকভাবে, কিন্তু দাম আকাশছোঁয়া হয়নি
প্রতিবেদনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আরব উপসাগরের বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেলের চালান 95 শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ 99 শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ঘটনাটিকে বৈশ্বিক তেল বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন বলে অভিহিত করেছে।
সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন সংখ্যা সঙ্গে সঙ্গেই দামের ধাক্কা দেওয়ার কথা। তবু Brent crude ব্যারেলপ্রতি $87.55-এ রিপোর্ট করা হয়েছে, যা এই মাত্রার বিঘ্নের জন্য অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে কম। ভৌত বিঘ্ন এবং বাজারমূল্যের মধ্যে এই অমিলই এই মুহূর্তের মূল রহস্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার বাফারের ওপর ভরসা করছে। সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কাছে প্রায় 1.3 বিলিয়ন ব্যারেল মজুদ আছে, এবং তারা সেই মজুদ থেকে তেল ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, এবং কানাডা কিছুটা ঘাটতি পূরণ করেছে। অন্য কথায়, বাজার এই বন্ধকে তাৎক্ষণিক অস্তিত্ব-সংকট হিসেবে না দেখে মজুদ ও বিকল্প সরবরাহ দিয়ে সামলাচ্ছে।
স্থিতিস্থাপকতারও সীমা আছে
এখন পর্যন্ত বাজারের প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী দেখাচ্ছে। কিন্তু স্থিতিস্থাপকতাকে স্বাভাবিক অবস্থা বলে ভুল করা ঠিক নয়। জরুরি মজুদ সীমিত, বিকল্প রপ্তানিকারকেরা অনন্তকাল উপসাগরীয় প্রবাহের বিকল্প হতে পারবে না, এবং অস্বচ্ছ শিপিং ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়ায়। কম দৃশ্যমানতায় কাজ করেও একটি ব্যবস্থা নাজুক থাকতে পারে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে দাম এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণ, ক্রেতা ও ট্রেডাররা বিশ্বাস করছেন এই বিঘ্ন অন্তত এখনকার জন্য সামাল দেওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস কয়েকটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে:
- বড় ভোক্তা দেশগুলোতে সঞ্চিত অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
- বিকল্প উৎপাদকরা ঘাটতির কিছু অংশ পূরণ করছে।
- অবরোধ সত্ত্বেও কিছু তেল এখনও অঞ্চল পেরিয়ে যাচ্ছে।
- বাজার অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, বিঘ্নটি ঐতিহাসিক হলেও এখনো পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়ার মতো নয়।
এই প্রতিটি ভিত্তি সময়ের সঙ্গে দুর্বল হতে পারে। মজুদ কমে। বিকল্প ব্যারেল পরিবহন ব্যয়বহুল হয়। Dark trade বীমা, নিরাপত্তা, এবং যাচাইকরণ সমস্যা তৈরি করে। আর যখন সরকারগুলো গোপন লজিস্টিকস অভিযানের বড় দাবি করে, তখন বাইরেরদের জন্য সত্যিকারের সক্ষমতা আর রাজনৈতিক প্রদর্শনের মধ্যে পার্থক্য করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
তথ্যযুদ্ধও নৌপথের মতোই গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ বিঘ্ন কেবল সরবরাহের গল্প নয়। এটি স্বচ্ছতারও গল্প। জ্বালানি বাজারে, ডেটার ওপর আস্থা দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ডেটা দুর্বল হলে গুজব ও কৌশলগত দাবি বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে বাজার উপরে শান্ত দেখালেও ভেতরে পড়তে কঠিন হয়ে যায়।
এই লেখার সবচেয়ে বড় takeaway হলো না যে ১০ কোটি ব্যারেল নিশ্চিতভাবে গেছে বা নিশ্চিতভাবে যায়নি। বরং এটিই যে উন্নত ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিশ্লেষকেরাও আংশিক তথ্য নিয়ে কাজ করছেন। নীতিনির্ধারক, ট্রেডার, এবং ভোক্তাদের জন্য এর মানে, বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা হতে পারে এমন একটি সংখ্যা যা কেউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিতে পারছে না: আসলে কত তেল বেরোচ্ছে?
যদি এই অনিশ্চয়তা চলতেই থাকে, তবে বর্তমান দামের স্থিতি যতটা মনে হচ্ছে ততটা আশ্বাসদায়ক নাও হতে পারে। বিশ্ব হরমুজ সমস্যার সমাধান করেনি। অন্তত সাময়িকভাবে, এটি এমন এক সংস্করণের সঙ্গে বাঁচার উপায় খুঁজে নিয়েছে যাকে মাপা অত্যন্ত কঠিন।
এই নিবন্ধটি Wired-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on wired.com


