টেক্সাসের ডেটা সেন্টারগুলো প্রচার ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে

টেক্সাস বহু বছর ধরে নিজেকে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য একটি প্রধান গন্তব্য হিসেবে প্রচার করেছে। সস্তা জমি, বড় বিদ্যুৎ বাজার, এবং ব্যবসাবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ রাজ্যটিকে ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরবর্তী ঢেউয়ের কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। এখন সেই বৃদ্ধি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ছে: ভোটাররা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন যে বিশাল কম্পিউটিং ক্যাম্পাস বিদ্যুৎ বিল, জল সরবরাহ, স্থানীয় ভূমি ব্যবহার, এবং সামগ্রিকভাবে সম্প্রদায় উন্নয়নের রূপের জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে।

এই উত্তেজনা ২৫ আগস্ট রাজনৈতিক মূলধারায় আরও প্রবেশ করে, যখন রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটন তাঁর ভাষায় একটি “টেক্সাস ফার্স্ট” ডেটা সেন্টার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। সরবরাহ করা উৎস উপাদান অনুযায়ী, প্রস্তাবটি স্পষ্টভাবেই ডেটা সেন্টারের “নেতিবাচক প্রভাব” মোকাবিলার জন্য তৈরি, যা এমন একটি রাজ্যের জন্য ভাষাগতভাবে লক্ষণীয় পরিবর্তন, যে রাজ্য একই সঙ্গে নিজেকে এআই উন্নয়নের ইঞ্জিন হিসেবেও উপস্থাপন করতে চেয়েছে।

এই পরিকল্পনা একটি প্রতিযোগিতামূলক সিনেট রেসের মাঝখানে এসেছে, তবে এর বৃহত্তর তাৎপর্য শুধু নির্বাচনী নয়। এটি দেখায় যে ডেটা সেন্টার, যেগুলোকে একসময় মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের গল্প হিসেবে দেখা হতো, এখন স্বতন্ত্র নীতি-সংক্রান্ত উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

প্যাক্সটন কী করতে চান

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদিত উৎসপাঠ্যে বলা হয়েছে, প্যাক্সটনের চার দফা পরিকল্পনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টার চালাতে ব্যবহৃত চীনা প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা, এআই চ্যাটবট শিশুদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করলে কোম্পানিগুলিকে ফৌজদারি দায়ের মুখে ফেলা, এবং লাল ফিতার জট কমিয়ে নিশ্চিত করা যে ডেটা সেন্টার টেক্সাসবাসীর বিদ্যুৎ বিল না বাড়ায়। তিনি গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের রাজ্য পরিকল্পনাকেও সমর্থন জানিয়েছেন, যাতে গ্রামীণ এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নিষিদ্ধ করা, বিক্রয় কর ছাড় বাতিল করা, এবং নতুন স্থাপনাগুলোকে কেবল বিদ্যমান গ্রিড থেকে শক্তি টানার বদলে টেক্সাসের বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়াতে বাধ্য করা হয়েছে।

এই উপাদানগুলো মিলিয়ে ডেটা সেন্টারকে শুধু শিল্প প্রকল্প নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, ভোক্তা ব্যয়, ভূমি ব্যবহার, এবং সাংস্কৃতিক উদ্বেগের একগুচ্ছ হিসেবে তুলে ধরে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তর। টেক্সাসকে আদৌ এআই অবকাঠামো রাখবে কি না সে প্রশ্নের বদলে, বিতর্ক এখন সরে যাচ্ছে সেই শর্তগুলোর দিকে, যার অধীনে সেই অবকাঠামো বাড়তে পারে এবং এর খরচ কে বহন করবে।

উৎসপাঠ্যে আরও বলা হয়েছে, প্যাক্সটনের ঘোষণা X-এ এমন একটি গ্রাফিক দিয়ে পোস্ট করা হয়েছিল, যেটিকে প্ল্যাটফর্ম “Made with AI” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এটি মুহূর্তটির অদ্ভুত রাজনীতিকে স্পষ্ট করে: প্রার্থীরা এআই-যুগের প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার করছেন, আবার একই প্রক্রিয়ায় এআই-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামও ব্যবহার করছেন।

প্রতিক্রিয়া এক দলের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে

দেওয়া লেখাটি জনমনে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি আগের মাসের অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টারের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করে, যেখানে দেখা গেছে ৬১% আমেরিকান নিজেদের এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী, যা মার্চে ছিল ৪৯%। উৎসে বর্ণিত বিরোধ ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান, এবং স্বতন্ত্র, সব পক্ষেই বিস্তৃত।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডেটা সেন্টারবিরোধিতা প্রায়ই স্থানীয় জোনিং বিরোধ বা নির্দিষ্ট প্রকল্প-সংক্রান্ত পরিবেশগত অভিযোগ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। জরিপের এই সংখ্যা আরও বিস্তৃত একটি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়: এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের পেছনের ভৌত অবকাঠামো নিয়ে জাতীয় ধারণাগত সমস্যা।

বড় অংশের উদ্বেগই সম্ভবত এসব স্থাপনার বিপুল সম্পদ ব্যবহারের কারণে। বড় ডেটা সেন্টারের জন্য উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি দরকার হয়, এবং সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই আশঙ্কা করে যে প্রতিশ্রুত করভিত্তি বা কর্মসংস্থান স্থানীয় ব্যবস্থার ওপর চাপের ক্ষতিপূরণ দিতে যথেষ্ট নয়। টেক্সাসে, যেখানে গ্রিড নির্ভরযোগ্যতা এবং জ্বালানির দাম আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ইস্যুটি বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

উৎসপাঠ্যে আরও বলা হয়েছে, অ্যাবট সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো “আসলে নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়েছে” এবং যে প্রতিক্রিয়া তারা পাচ্ছে তার প্রাপ্য। নির্বাচনী মৌসুমের ভাষা মাথায় রেখেও, এমন মন্তব্য সেই গভর্নরের কাছ থেকে এসেছে যিনি আগে টেক্সাসকে “এআই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু” বলেছিলেন; এতে বোঝা যায়, নির্বাচিত কর্মকর্তারা এখন ডেটা সেন্টার বৃদ্ধির ব্যাপারে অতিরিক্ত শিথিল বলে দেখা যাওয়াকে স্পষ্ট রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

জাতীয়ভাবে টেক্সাস কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই বিতর্কে টেক্সাস শুধু আরেকটি রাজ্য নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ময়দান। টেক্সাস যদি ডেটা সেন্টার কোথায় নির্মাণ করা যাবে, কীভাবে সেগুলো গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে, কী ধরনের কর-ব্যবস্থা পাবে, বা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করতে শুরু করে, তবে তার প্রভাব কর্পোরেট সাইট নির্বাচন ও জাতীয় অবকাঠামো পরিকল্পনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্যাক্সটনের ঘোষিত কর্মসূচির কয়েকটি অংশ সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর চাহিদা বাড়ানোর বদলে স্থাপনাগুলোকে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যোগ করতে বাধ্য করার চেষ্টা প্রকল্পের অর্থনীতি বদলে দিতে পারে। বিক্রয় কর ছাড় বাতিল করলে প্রণোদনার হিসাব বদলাবে। গ্রামীণ এলাকায় স্থাপনা নির্ধারণে বিধিনিষেধ আরোপ করলে সাইট নির্বাচনের সুযোগ কমে যাবে, এমন এক রাজ্যে যেখানে জমির প্রাপ্যতা ছিল বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।

এখানে একটি কৌশলগত স্তরও রয়েছে। উৎসপাঠ্যে বলা হয়েছে, প্যাক্সটন যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টার চালানো চীনা প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করতে চান। এটি স্থানীয় জমি ও গ্রিড-সংক্রান্ত সমস্যাকে প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করে, এবং এমন প্রস্তাব অন্যত্র এলে এই কাঠামো টেক্সাসের বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এটি এআই নির্মাণপ্রক্রিয়ার জন্য কী বোঝায়

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হলো, কম্পিউটের রাজনীতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এআই-এর ভৌত ভিত্তি নির্মাণ এখন আর শুধু মূলধন ব্যয়, ইউটিলিটি চুক্তি, এবং স্থানীয় অনুমোদনের বিষয় নয়। এর জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে রাজনৈতিক বৈধতাও দরকার। সম্প্রদায় জানতে চায়, নতুন প্রকল্পগুলো কি হার বাড়াবে, সম্পদের ওপর চাপ ফেলবে, পাড়ার চরিত্র বদলে দেবে, বা অন্যদের জন্য অপ্রাপ্য বিশেষ করনীতির অধীনে চলবে কি না।

নীতিনির্ধারকদের জন্য, টেক্সাসের বিতর্ক দেখায় সরকারগুলো কীভাবে এই সমঝোতাগুলো পুনর্সমতায় আনার চেষ্টা করতে পারে তার প্রাথমিক পরীক্ষা। রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের ভাষা ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতের লড়াইগুলো সম্ভবত কয়েকটি পুনরাবৃত্ত প্রশ্নকে ঘিরে ঘুরবে:

  • ডেটা সেন্টার অপারেটরদের কি তাদের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বিদ্যুৎ সক্ষমতার অর্থায়ন বা সংগ্রহ করতে হবে।
  • সর্বজনীন বিরোধিতা বাড়তে থাকলে কর প্রণোদনা কি এখনও যুক্তিযুক্ত।
  • গ্রামীণ জমি কি বৃহৎ সার্ভার ক্যাম্পাস উন্নয়নের জন্য খোলা থাকা উচিত।
  • এআই-যুগের ক্ষতি, শিশুদের ঝুঁকিসহ, ওই ব্যবস্থার পেছনের কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন দায় তৈরি করা উচিত কি না।

এগুলো সংকীর্ণ প্রচারস্লোগান নয়। এগুলো একটি নিয়ন্ত্রক কর্মসূচির রূপরেখা, যা এআই অবকাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপকে আকার দিতে পারে।

বৃদ্ধির গল্প থেকে শাসনের গল্পে

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সম্ভবত ধারণাগত। একসময় ডেটা সেন্টারকে মূলত বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আলোচনা করা হতো। টেক্সাসের লড়াই দেখাচ্ছে, এখন সেগুলো শাসন-সংক্রান্ত বস্তুও: দৃশ্যমান, শক্তিখেকো, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সম্পদ, যাদের সম্প্রসারণকে জনসমক্ষে ন্যায্যতা দিতে হবে।

এর মানে এই নয় যে টেক্সাস এআই বিনিয়োগের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এর মানে হলো, বেশি ডেটা সেন্টার মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি অগ্রগতি - এই পুরোনো ধারণা ভেঙে পড়ছে। তার জায়গায় এসেছে আরও বিতর্কিত প্রশ্ন: কে লাভবান হবে, কে খরচ দেবে, আর নিয়মগুলো কে ঠিক করবে।

প্রচার, ইউটিলিটি, স্থানীয় সম্প্রদায়, এবং প্রযুক্তি কোম্পানি যখন নিজেদের দাবি জোরালো করছে, টেক্সাস তখনই সবচেয়ে স্পষ্ট জায়গাগুলোর একটি হয়ে উঠছে যেখানে দেখা যাবে এই বিতর্ক কীভাবে এগোয়। সেখানে যা ঘটবে, তা শুধু পরবর্তী প্রজন্মের এআই অবকাঠামো কোথায় তৈরি হবে তাই নয়, বরং তার সঙ্গে কী ধরনের রাজনৈতিক শর্ত জুড়ে যাবে সেটাও নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে।

এই নিবন্ধটি দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on theguardian.com