ফরাসি সুপারমার্কেটগুলো রেফ্রিজারেশন সাইবার হামলার মুখে

ফ্রান্সে সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজার ব্যবস্থায় সাইবার হামলার পর দোকানগুলো নষ্ট খাবার, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম এবং তাদের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্নের কথা জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কৌঁসুলি তদন্ত শুরু করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত খুচরা বিক্রেতা ও কর্মীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠান্ডা পণ্য রাখার সারি নিয়ন্ত্রণকারী ডিজিটাল থার্মোস্ট্যাটগুলো রবিবার মধ্যরাতের কিছু আগে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। বলা হচ্ছে, সিস্টেমগুলো দূর থেকে ওভাররাইড করা হয়েছিল, ফলে রেফ্রিজারেশন ইউনিটগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিক সেটিংসের অনেক ওপরে উঠে যায়।

পণ্য হিমায়িত বা ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো এই বিঘ্নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইনাস ২৭C পর্যন্ত থাকা তাপমাত্রা ৫০C-এর ওপরে উঠে গিয়েছিল বলে জানানো হয়। নরম্যান্ডির একটি সুপারমার্কেট জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৮০C পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ভোরের শিফটে আসা কর্মীরা বলেন, যে ইউনিটগুলো খাবার সংরক্ষণ করার কথা, সেগুলো থেকে গরম বাতাস বের হচ্ছিল।

এর তাৎক্ষণিক পরিণতি ছিল মজুত পণ্যের ক্ষতি। প্রতিবেদনে বর্ণিত চার থেকে ছয় ঘণ্টার সময়ে খাবার প্রথমে গলে যায় এবং পরে আরও গরম হয়ে ওঠে। প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে Issy-les-Moulineaux-এর একটি Intermarché দোকানের কর্মীরা বলেন, ফ্রিজারগুলোর তাপমাত্রা ৬২C পর্যন্ত উঠেছিল এবং ভেতরের সব খাবার ফেলে দিতে হয়।

সাইবার হামলার পর প্যারিসের একটি সুপারমার্কেটের বাইরে ক্রেটে স্তূপ করে রাখা নষ্ট প্যাকেটজাত খাবার
রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার পরদিন প্যারিসের একটি Intermarché দোকানের বাইরে নষ্ট পণ্যের প্যাকেট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ছবি: Lucien Libert/Reuters

শত শত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর

কিছু ব্যবস্থাপকের কাছে শুরুতে যা বিচ্ছিন্ন সরঞ্জাম বিকল হওয়া বলে মনে হয়েছিল, তা দ্রুতই একটি বৃহত্তর ঘটনা হিসেবে দেখা দেয়। Intermarché, Coopérative U, Carrefour, Leclerc এবং Monoprix-এর সঙ্গে যুক্ত দোকানসহ ৭০০টি পর্যন্ত দোকানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ছোট স্বাধীন দোকানও এতে ছিল।

Coopérative U-এর সভাপতি Dominique Schelcher বলেন, গোষ্ঠীটির ২,০০০ সুপারমার্কেটের মধ্যে ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত গুরুতর বলে বর্ণনা করেন। এই ব্যাপ্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক খাদ্য খুচরা ব্যবসা বিপুলসংখ্যক ক্যাবিনেট, ফ্রিজার ও চিলারে নেটওয়ার্ক-সংযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হলে বা তাতে কারসাজি হলে, স্থানীয় প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত খাদ্য অপচয়, দোকানের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা পদ্ধতির সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

কিছু দোকানে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আগুন লেগেছিল বলে জানা গেছে। পরে স্প্রিঙ্কলার চালু হয়ে নষ্ট পণ্যের ক্ষতির সঙ্গে পানির ক্ষতিও যোগ হয়। প্যারিসে কর্মীরা টন টন পণ্য সরিয়ে দেরি পর্যন্ত কাজ করে তাকগুলো পুনর্বিন্যাস ও পুনরায় পূরণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত Intermarché-এর কর্মীরা বলেন, একই দিনে দোকানটিকে প্রায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল, তবে তার আগে ফ্রিজারের মজুত সম্পূর্ণ সরাতে হয়।

ডিজিটাল অনুপ্রবেশের শারীরিক পরিণতি

সাইবার হামলা যে শুধু তথ্য, যোগাযোগ বা অনলাইন পরিষেবায় নয়, শারীরিক ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনা তা দেখায়। রেফ্রিজারেশন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপারেশনাল প্রযুক্তির অংশ: সফটওয়্যার-সংযুক্ত এমন ব্যবস্থা, যা বাস্তব জগতের সরঞ্জাম পরিচালনা করে। সুপারমার্কেটে হিমায়িত ও ঠান্ডা পণ্যকে উপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখার জন্য ব্যবহৃত কোল্ড চেইনের ভিত্তি হলো এসব ব্যবস্থার সঠিক কার্যক্রম।

ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক সরঞ্জামের এই সংযোগের কারণেই, প্রতিবেদনে বলা হামলার এত দৃশ্যমান পরিণতি হয়। ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ডেটাবেস চুরি হওয়ার বদলে দোকানগুলোকে অতিরিক্ত গরম ক্যাবিনেট, নষ্ট পণ্য, পণ্য পুনরায় ভরার কাজে বিঘ্ন এবং কিছু ক্ষেত্রে আগুন ও পানির ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

প্যারিসের একটি সুপারমার্কেটের বাইরে লাল ক্রেটের পাশে নষ্ট পণ্যের বাক্স বাছাই করছেন এক কর্মী
সুপারমার্কেটের কর্মীদের টন টন নষ্ট খাবার সরিয়ে তাকগুলো পুনর্বিন্যাস ও পুনরায় পূরণ করতে দেরি পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ছবি: Lucien Libert/Reuters

এই ঘটনার জন্য কে দায়ী বা এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা প্রতিবেদনটি প্রতিষ্ঠা করে না। সংবাদ প্রতিবেদনে নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করতে চাওয়া ব্যক্তিদের থেকে শুরু করে আরও গুরুতর নাশকতা পর্যন্ত নানা সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে, কিন্তু কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়নি। হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর তদন্ত শুরু করে।

খুচরা বিক্রেতারা কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করার সময় তদন্ত শুরু

তদন্তকারীদের কেন্দ্রীয় প্রশ্নগুলোর মধ্যে থাকবে কীভাবে প্রবেশাধিকার পাওয়া হয়েছিল, কোনো যৌথ প্রযুক্তি সরবরাহকারী বা সংযুক্ত নিয়ন্ত্রণপথ জড়িত ছিল কি না, এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর কোনো অভিন্ন ঝুঁকি ছিল কি না। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর নেই এবং নিশ্চিত কোনো হামলাকারীকেও শনাক্ত করা হয়নি।

খুচরা বিক্রেতাদের জন্য নিকটমেয়াদি কাজ আরও তাৎক্ষণিক: অনিরাপদ মজুত সরানো, সরঞ্জাম পুনরুদ্ধার করা, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা এবং দোকানে পণ্য পুনরায় ভরা। ঘটনাটি আরও বিস্তৃত একটি পরিচালনাগত শিক্ষা দেয়। নজরদারি ও দক্ষতা বাড়াতে খুচরা ব্যবস্থা ক্রমেই সংযুক্ত হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করছে, কিন্তু এই সংযোগগুলো সাইবার নিরাপত্তা ঘটনাকে জরুরি সরঞ্জামের সরাসরি বিঘ্নে পরিণত করতে পারে।

এই ক্ষেত্রে প্রভাব শুধু প্রযুক্তিগত বিঘ্নে নয়, নষ্ট খাবার এবং দোকানের কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় শ্রমেও মাপা হয়েছে। তদন্ত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন বাণিজ্যে ডিজিটালি পরিচালিত অবকাঠামোর ঝুঁকির একটি উদাহরণ হিসেবে হামলাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এই নিবন্ধটি The Guardian-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন।

Originally published on theguardian.com