জলবায়ু ঝুঁকি আর একে একে আসছে না
গবেষকেরা সতর্ক করছেন যে সবচেয়ে ক্ষতিকর জলবায়ু বিপর্যয়গুলো ক্রমেই পৃথক আঘাতের বদলে সমন্বয় হিসেবে আসতে পারে। প্রদত্ত উৎস লেখায় বর্ণিত অনুযায়ী, Nature-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সমষ্টিগত কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বাড়ার সঙ্গে সমন্বিত চরম ঘটনার সংখ্যা বাড়ে। এগুলো এমন ঘটনা যেখানে একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে ঘটে, যেমন একই সময়ে তাপ ও খরা, বা গরম ও ভেজা চরম অবস্থা যা একে অন্যের প্রভাব বাড়িয়ে দেয়।
রিপোর্টে ব্যবহৃত উদাহরণটি ২০২২ সালের পাকিস্তানের বিপর্যয়, যেখানে মারাত্মক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ একসঙ্গে ঘটেছিল। উৎস লেখার অনুযায়ী, ওই সমন্বিত ঘটনার ফলে ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয় এবং ১,৭০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বিষয়টি শুধু এই নয় যে দুটো ঘটনাই গুরুতর ছিল। বিষয়টি হলো, তাদের ওভারল্যাপ অবকাঠামোগত ক্ষতি বাড়ায়, তাপ ও আর্দ্রতার সংস্পর্শ বৃদ্ধি করে এবং রোগ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
সমন্বিত-ঘটনার ঝুঁকি পরিমাপের একটি সূচক
এই ধরণটি অধ্যয়ন করতে গবেষকেরা TCoRE নামে একটি সূচক তৈরি করেছেন, যার পূর্ণরূপ Transient Compound Event Response to cumulative CO2 Emissions। উৎস লেখায় এটিকে সুপরিচিত TCRE কাঠামোর একটি সমতুল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা সমষ্টিগত নিঃসরণকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে। শুধু তাপমাত্রা অনুসরণ করার বদলে, TCoRE দেখায় সময়ের সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ জমা হওয়ার ফলে সমন্বিত চরম ঘটনার সম্ভাবনা কীভাবে বদলায়।
জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে দলটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুকরণ করে এবং বাড়তে থাকা CO2 স্তরের অধীনে কত ঘন ঘন সমন্বিত চরম ঘটনা ঘটতে পারে তা অনুমান করে। রিপোর্টে বর্ণিত মূল ফলাফল হলো ঐতিহাসিকভাবে সাধারণ সমন্বিত চরম ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায় রৈখিক সম্পর্ক: সমষ্টিগত নিঃসরণ যত বাড়ে, এই ওভারল্যাপ করা বিপর্যয়ের হারও তত বাড়ে।
সবচেয়ে গুরুতর সমন্বয় আরও দ্রুত বাড়তে পারে
আরও গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের একটি হলো বিরল ও বেশি গুরুতর সমন্বিত ঘটনা সাধারণ ঘটনার তুলনায় আরও দ্রুত তীব্র হতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জরুরি পরিকল্পনা প্রায়ই পরিচিত ঝুঁকির শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। একসঙ্গে একাধিক ঘটনা আঘাত হানলে প্রভাব কেবল যোগ হয় না, বরং বহুগুণে বাড়তে পারে।
উৎস লেখায় সহলেখক ইয়াও ঝাংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলো বিপজ্জনক কারণ তাদের প্রভাব বহুস্তরীয়, যা প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে একসঙ্গে আঘাত করে। বাস্তবে, একটি বন্যা সেই অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে যার ওপর মানুষ তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নির্ভর করে, অথবা তাপ গলন ও আর্দ্রতার পরিস্থিতি বাড়িয়ে বন্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। গবেষণার যুক্তি হলো, সমষ্টিগত নিঃসরণ শুধু একটি সাধারণ অর্থে পৃথিবীকে উষ্ণ করছে না। এগুলো এই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত সংকটগুলোর জন্য পাশাও বসিয়ে দিচ্ছে।
নিঃসরণ লক্ষ্য কেন পুনর্বিবেচনা করা দরকার
উৎস উপাদানে সংক্ষেপিত ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা মনে করেন, সবচেয়ে খারাপ সমন্বিত চরম ঘটনা এড়াতে বর্তমান নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য আরও নিচু হওয়া উচিত। এটি একটি উল্লেখযোগ্য নীতিগত ইঙ্গিত, কারণ এটি জলবায়ু প্রশমনকে শুধু বাড়তে থাকা গড় তাপমাত্রার নয়, বরং বিপর্যয়ের জটিলতার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি সরকার ও বিমা সংস্থাগুলোর ঝুঁকি নিরূপণেও প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অবকাঠামো মান, অভিযোজন পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া কৌশলকেও প্রভাবিত করতে পারে। একটি বিদ্যুৎ গ্রিড যদি এক ধরনের চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি হয়, তা একসঙ্গে দুই বা তিনটি আন্তঃক্রিয়াশীল চরম পরিস্থিতির আঘাতে ব্যর্থ হতে পারে।
তাত্ত্বিক জলবায়ু মডেল থেকে বাস্তব পরিকল্পনা পর্যন্ত
এই গবেষণার গুরুত্ব এর মধ্যে যে এটি একটি পরিচিত জলবায়ু নীতিকে আরও কার্যকর একটি সূচকে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। নীতিনির্ধারকেরা ইতিমধ্যেই জানেন যে বেশি নিঃসরণ মানে বেশি উষ্ণতা। TCoRE যা দেয় বলে মনে হচ্ছে, তা হলো নিঃসরণ কীভাবে ওভারল্যাপ করা বিপর্যয়ের সম্ভাবনায় রূপ নেয় তা ভাবার একটি উপায়, যেগুলো সামলানো প্রায়ই কঠিন এবং যেগুলো থেকে ঘুরে দাঁড়াতে খরচ বেশি।
এর মানে এই নয় যে ভবিষ্যতের সব বিপর্যয়ই সমন্বিত ঘটনা হবে, বা বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট গতি নিয়ে আর বিতর্ক নেই। তবে প্রদত্ত রিপোর্ট একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে: সমন্বিত চরম ঘটনার উপস্থিতি সমষ্টিগত CO2 নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত, এবং সবচেয়ে বিরল সমন্বয়গুলো বিশেষভাবে দ্রুত বাড়তে পারে।
জলবায়ু নীতির জন্য বার্তাটি অস্বস্তিকর, কিন্তু সরাসরি। ঝুঁকি শুধু পরিচিত চরম ঘটনাগুলোর আরও খারাপ হওয়া নয়। ঝুঁকি হলো, সেগুলো একসঙ্গে আসতে শুরু করা, এমন রূপে যা এক সময়ে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে।
এই নিবন্ধটি Gizmodo-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on gizmodo.com


