একটি শীর্ষ সম্মেলন যা খুব একটা বদল আনেনি — এনভিডিয়া ছাড়া
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তখন মূল ফলাফল ছিল ধারাবাহিকতা, কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি নয়। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কখনোই এজেন্ডায় ওঠেনি, এবং কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই মাসের জন্য বাড়ানো হয়, যা বিশ্লেষকদের মতে সহজেই ভেঙে পড়তে পারে যদি আসন্ন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় এবং বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
তবুও সেই আপাত অচলাবস্থার নিচে এনভিডিয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দ্য ইনফরমেশন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, চীন নিজের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে তার কয়েকটি বৃহত্তম এআই কোম্পানিকে অতিরিক্ত এনভিডিয়া চিপ আমদানির অনুমতি দেবে কি না তা বিবেচনা করছে — সম্ভবত আগামী এক বছরে লক্ষ লক্ষ ইউনিট — যা বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। এটি এমন একটি কোম্পানির জন্য উল্লেখযোগ্য মোড় হবে, যেটি বছরের পর বছর ধরে চীনা বাজারে তার প্রবেশাধিকার সংকুচিত হতে দেখেছে।
বেইজিং নাকি কী বিবেচনা করছে
চীনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো দ্য ইনফরমেশন-কে জানিয়েছে, দেশটির প্রযুক্তি তদারকি সংস্থা মিনিস্ট্রি অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি আলিবাবা ও বাইটড্যান্সকে এনভিডিয়ার আরটিএক্স প্রো ৫৫০০ চিপ কেনার পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে। এই অনুরোধটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ আরটিএক্স প্রো ৫৫০০ একটি গেমিং-কেন্দ্রিক অংশ, কোনো ফ্ল্যাগশিপ ডেটা-সেন্টার অ্যাক্সিলারেটর নয়। তবুও চীনা কর্তৃপক্ষ দুটি কোম্পানিকে হার্ডওয়্যারটি কীভাবে ব্যবহারের ইচ্ছা রাখে তা বিস্তারিত জানতে বলেছে, এই প্রত্যাশায় যে চিপগুলো সার্ভারে স্থাপন করা হতে পারে দেশের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন এআই মডেল চালাতে সহায়তা করার জন্য।
গেমিং সিলিকন, ডেটা-সেন্টারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা
চিপটি যে উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা হতে পারে, তার মধ্যকার ব্যবধানই এই প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু। আলিবাবা ও বাইটড্যান্সকে তাদের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানতে বলার অর্থ হলো, চুক্তিতে সই করার আগে বেইজিং হার্ডওয়্যারটি কীভাবে মোতায়েন করা হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা চায়, উন্মুক্ত ক্রয় নয়। এটি একটি বাস্তবসম্মত হিসাবেরও ইঙ্গিত দেয়: চীনের শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপারদের কম্পিউট ক্ষমতা প্রয়োজন, এবং উন্নত চিপের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ফ্রন্টিয়ার মডেল প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্সের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
এনভিডিয়ার জন্য, চীনা বাজারের আংশিক পুনরুদ্ধারও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। দেশটির দুটি বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ ইউনিটের অর্ডার এমন পরিমাণ প্রতিনিধিত্ব করে যা কার্যত নাগালের বাইরে ছিল, এবং বেইজিংয়ের সবুজ সংকেত এনভিডিয়াকে সেই রাজস্ব বুক করতে দেবে যা সে হারাতে বাধ্য হয়েছিল।
আধিপত্য থেকে শূন্যে
এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং প্রকাশ্যে মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে চীনের উন্নত এআই চিপ বাজারে কোম্পানির অবস্থান ধসে পড়ার জন্য দায়ী করেছেন। দ্য ইনফরমেশন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, হুয়াং বলেন এনভিডিয়ার সেই বাজারে অংশ প্রায় ৯৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে এসেছে। এই বক্তব্য তার প্রকাশ্য মন্তব্যের একটি পুনরাবৃত্ত থিম হয়ে দাঁড়িয়েছে: তার ভাষায়, নিষেধাজ্ঞা চীনকে এআই অনুসরণ থেকে বিরত রাখে না, বরং চীনা ক্রেতাদের দেশীয় বিকল্পের দিকে ঠেলে দেয় এবং আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেতা কেড়ে নেয়।
ট্রাম্প প্রথমেই এই যুক্তিতে রূপান্তরিত হননি। তার প্রশাসন নিয়ন্ত্রণগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল এবং শুরুতে সেগুলো বহাল রেখেছিল, এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি এনভিডিয়ার বাজার-উন্মুক্তকরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মিত্র হিসেবে শুরু করেননি। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি যথেষ্ট উষ্ণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এমনকি কিছু মহলে হুয়াংকে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে প্রভাবশালী উপদেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
প্রভাবের প্রশ্ন
এই ঘনিষ্ঠতাই সমালোচকদের উদ্বেগের মূল কারণ। ট্রাম্প এআই নীতি বিষয়ে নির্দেশনার জন্য ক্রমশ হুয়াংয়ের দিকে তাকাচ্ছেন, কিন্তু সবাই এই ধারণা মেনে নেন না যে এনভিডিয়ার যা লাভ, তা যুক্তরাষ্ট্রেরও লাভ। এনভিডিয়া ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি, এবং এমন এক পৃথিবীতে যেখানে এআই ঝুঁকিগুলোকে খাটো করা হয় এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়েই ব্রেক না দিয়ে ফ্রন্টিয়ার মডেলে এগিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়, সেখানে এটি বিপুলভাবে লাভবান হবে।
উদ্বেগটি এই নয় যে হুয়াং কোনো অনুচিত কাজ করছেন। এটি কাঠামোগত: একজন সিইও, যার পারিশ্রমিক ও শেয়ারমূল্য এআই মোতায়েনের প্রতিটি ত্বরণের সঙ্গে বাড়ে, এখন এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রের কাছাকাছি বসে আছেন যার ঝুঁকিগুলো — জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শ্রম বাস্তুচ্যুতি থেকে নিরাপত্তা পর্যন্ত — এখনো ভালোভাবে বোঝা যায়নি। সমালোচকদের যুক্তি, যখন ব্যক্তিগত প্রণোদনা ও জনস্বার্থ ভিন্ন দিকে নির্দেশ করে, তখন প্রেসিডেন্ট যে পরামর্শ পান তা প্রথমটির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
এই ব্যবস্থার সমর্থকরা ভিন্নভাবে দেখেন। তাদের যুক্তি, চীন থেকে আমেরিকান চিপ নির্মাতাদের বাদ দেওয়া মার্কিন সুবিধা রক্ষা করে না, বরং বাজারটি হুয়াওয়ে ও তার সমকক্ষদের হাতে তুলে দেয়, এবং শিল্পটি যে প্রেসিডেন্ট বোঝেন তিনি নীতি প্রণয়নে অন্যদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকেন। বিতর্কটি 궁극적으로 এআই-এ জাতীয় স্বার্থ কে সংজ্ঞায়িত করবে তা নিয়ে — যে জাতীয় নিরাপত্তা আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণগুলো খসড়া করেছিল, নাকি যে শিল্প সেগুলোর সঙ্গে বসবাস করে।
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও অস্থির নীতি
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট চিপ প্রশ্নটি সমাধান করা আরও কঠিন করে তোলে। যেহেতু শীর্ষ সম্মেলনে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়নি, তাই কোনো পক্ষই আসলে সেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করেনি যা এনভিডিয়ার চীনা ব্যবসাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির দুই মাসের বর্ধিতকরণ সমাধানের বদলে একটি বিলম্ব হিসেবে কাজ করে, এবং আসন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রণ এটিকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দিতে পারে। যদি তা ঘটে, বিশ্লেষকরা আশা করেন বেইজিং বিরল মৃত্তিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা সেমিকন্ডাক্টরের অনেক বাইরে সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলবে।
অন্য কথায়, যে অস্থিরতা এনভিডিয়ার চীন সুযোগকে লোভনীয় করে তোলে, তা এটিকে অনিশ্চিতও করে তোলে। আলিবাবা ও বাইটড্যান্সের ক্রয়ের অনুমতি দেওয়ার বেইজিংয়ের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনে একটি মাত্র উত্তেজনার মাধ্যমে উল্টে যেতে পারে, এবং বিপরীতটাও সমানভাবে সত্য।
এরপর কী দেখবেন
- চীনের মিনিস্ট্রি অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি আলিবাবা ও বাইটড্যান্সের চাওয়া ক্রয় পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে রূপান্তরিত করে কি না, এবং কী শর্তে।
- আরটিএক্স প্রো ৫৫০০ 궁극적으로 প্রতিবেদিত পরিকল্পনার মাত্রায় এআই ওয়ার্কলোডের জন্য সার্ভারে মোতায়েন করা হয় কি না।
- ওয়াশিংটন সেই আসন্ন নিয়ন্ত্রণগুলো এগিয়ে নেয় কি না, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই মাসের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি শেষ করতে পারে।
- জবাবে বেইজিং হুমকি দেওয়া বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে কি না।
- এআই নীতি বিতর্ক তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসে হুয়াংয়ের পরামর্শ কতটা ওজন বহন করে।
বৃহত্তর stakes
এনভিডিয়ার এই ঘটনাটি সংক্ষেপে দেখায় এআই নীতি এখন কীভাবে তৈরি হয়: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, কর্পোরেট লবিং, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং স্বল্পস্থায়ী কূটনৈতিক যুদ্ধবিরতির মিশ্রণে, যার কোনোটিই সমন্বিতভাবে চলে না। ফলাফলটি একটি কোম্পানির রাজস্বের সীমার অনেক বাইরে গুরুত্বপূর্ণ। যদি চীন তার বাজার পুনরায় খোলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রবাহ সহ্য করে, তাহলে বছরের পর বছর চিপ নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব শিথিল হয়। যদি ওয়াশিংটন বরং কঠোর করে, তাহলে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কম্পিউটিং শক্তি উভয় নিয়েই সংঘাতের দিকে আরও এগিয়ে যায়।
যা নিয়ে বিতর্ক নেই তা হলো, এনভিডিয়া সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে এমনভাবে বসে আছে যা খুব কম কোম্পানি কখনো করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে মার্কিন নীতির জন্য এটি স্বাস্থ্যকর কি না — পরবর্তী চিপ চালানের আগেই সমালোচকরা এই প্রশ্নের উত্তর চান।
এই নিবন্ধটি আর্স টেকনিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন।
Originally published on arstechnica.com







